বাগানের বুকের ভেতর আমি শুনতে পাই এই
গোলাপের হাহাকার
পুস্পের পাঁপড়ির ভেতর মধুদের কান্না;
সূরভী-সুবাস ছড়িয়ে ডানাগুলো, তবু পুস্প মলিন
পাঁপড়ির দলে কালো কালো চিহ্ন!


যেন মৌ মাছিদের শুল বিঁধানো বিষাক্ত যন্ত্রনা,
বাগানের দিকে তাকালে তাই আমার চোখে
মধু চুষে নেওয়া কালো চিহ্নের পাঁপড়িগুলো ভেসে ওঠে
হয়তো সুবাসের কোন প্রেমিকাও বাগানের দিকে তাকিয়ে
তার সূরভী পুস্পের কথাই ভাবে,
বাগানের প্রহরী যাকে নাম দিয়েছিলো বিষাক্ত মৌয়ের উগ্র হামলা;
আজ পুস্পের সূরভী গায়ে কলঙ্কের পদ চিহ্ন,
মালির চোখে মুখে বিষাদের ছায়া!


আমি দেখতে পাই মৌমাছিদের উগ্রতার মতোই
প্রেমহীন, হৃদয়হীন বিষাক্ত শুলেরা
অন্ধ বিশ্বাসে কেড়ে নেয় ফুলের প্রাণবন্ত নির্যাস
আজ পাঁপড়িরা তাকিয়ে আছে প্রহরীর দিকে
মালির দিকে বাগান,


এই বিষাক্ত মৌয়ের ধারা এসে মিশে গেছে নবীণ কলিদের মাঝে
ওরা ভ্রান্ত মতবাদে ডানা মেলে মৌয়ের শুলে শুলে
অজ্ঞতা যুগের নরক শাসনের ক্ষতচিহ্ন আজ পাঁপড়ির দলে দলে
তাই মালির বুকে যখন রক্ত ঝরে
তখন এই বাগানের বুকে ফোটন্ত গোলাপকে ও
মনে হয় রক্ত মাখা নিথর ফুল,


চেতনায় কিংবা হৃদয়ের ভেলকুনিতে যখন জেগে ওঠে
সাহসী প্রহরীরা
তখন কিছু লোভীরা মৌয়ের ঝাঁকে উড়ে বাগানের চৌদিকে
আপন র্স্বাথে, তাদের দুঃখ বুঝি;


পুষ্প চিনে গেছে প্রজাপতির রং, জেনে গেছে মৌদের মতলব
একদিন জ্বলে ওঠবেই এই বদলানো বাগানের অন্ধকার
জেগে ওঠবেই বিপ্লবের লাল গোলাপ ।
--------------