জন্ম বাংলাদেশে ,
২৫ বছর ধরে এখানেই থেকেছি , দেখেছি -
ভাঙা রাস্তা , ঘন বর্ষা ,
চৈত্রের কড়া রোদে ক্লান্তিহীন কৃষক।  
দেখেছি হাজারো দূষিত জীবন।  
আমারি মতো
বেকারত্ব নিয়ে দিনরাত বাবা মার বকা খাওয়া ।  
বন্ধুর কাছে হাত বাড়িয়ে দুটান সিগারেট চাওয়া ।  


বিদেশের অনেক গল্প শুনেছি , গল্প শুনে স্বপ্ন বুনেছি।  
স্বপ্ন গুলো খুব বেশি বড় ছিল না।  
পরিবারকে সুখে রাখার ইচ্ছাটাই ছিল প্রতীয়মান।  


সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে চলে এলাম স্বপ্নের রাজ্যে ,
পাকা রাস্তার বৃষ্টিহীন দেশে।  
বড় বড় অট্টালিকার দেশে।  


সুখ নামের প্রজাপতিরা এ দেশে থাকে না।    
রোদে পিঠ পুড়ে যায় , আধমরা চেহারাটা দেখে কারো মায়া হয় না।  
খুব ইচ্ছে করে তখন - ভাঙা রাস্তার দেশে যেতে।  
পাকা রাস্তা আর ভালো লাগে না।
বড় বড় অট্টালিকায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।  
আমি মরে যাই , কেউ বুঝতে চায় না।  


মাস ছয় চলে গেলে , আচমকা এক বুকের ব্যথায়
চির নিদ্রায় মুক্ত হয়ে যাই।  
এখন আর কেউ আমায় বকে না, এখন আর রোদে পিঠ পুড়ে না।  


কয়েকদিন পর আমার লাশটা বাড়িতে গেলে খুব অবাক হয়ে  দেখেছি -
যারা আমাকে ঘৃণা করতো আমারি শোকে তাদের চোখ  লাল ,
গড়গড়িয়ে পড়ছে চোখের পানি।  
দেখেছি আমার সেই পছন্দের মেয়েটি, যে আমাকে ছেচড়া বলতো -
তার মুখে কাপড় দিয়ে কান্না।  


খুব ইচ্ছে করে ভাঙা রাস্তার দেশে আর কিছুটা দিন বাঁচতে।  
মায়ায় ভরা মানুষ গুলোর সাথে আরো কিছুটা দিন থাকতে।  
খুব ইচ্ছে করে , খুব ইচ্ছে করে।