দিগন্ত জোড়া কতযে তার পড়া, একখানা খোলা বই ॥
বিশাল বিছানা পাতা,
এলোমেলো ছড়ানো রয়েছে পড়ে সব বইখাতা,
বিশ্বজোড়া ঐ পাঠশালা,
সকল তার জানালা দুয়ারগুলি রয়েছে খোলা,
এমনই ধূলির আস্তরন পড়া যেন বহুদিন লেখাপড়া শিকায় তোলা,
মনেহয় গুরু যেন অস্থীর হয়ে কয়, আমার ছাত্ররা সব গেলো কই ॥
কত অমূল্য পড়া,
হলোনা তা কভূ যতনে ধরা,
হলোনা চোখ মেলে দেখা হলোনা শেখা জীবন গড়া,
নয়ন ও মন রলো আজীবন নেশায় বিভোর করা মোহেতে ভরা,
দেখলোনা তা কেউ আহারে একবারও সাদরে হাতে লই ॥
কই সে এত সময়,
করবো আমি তা অপচয়,
কত কাজ কত ভাবনা মাথায় লয়,
চড়খীর মত দিনরাত অবিরত ঘুরিতে ফিরিতে হয় হনহন পইপই ॥
চাই আরও বেশী ধন,
ওরে করিতেই হবে মোরে উপার্জন,
আরাম আয়েশ সৌখীন বেশ ভোগ বিলাস ও বিণোদন,
কেমনে পাই কোথা যাই অসীম তেষ্টা প্রাণপণ চেষ্টা পেরেশানি তাড়না সারাক্ষন,
মন খেলছে লয়ে এই দেহটা, যেন এক খাস চামচা পা চাটা আমি তার হেন চাটুকার কেমনে হই ॥
খোলা সে দুয়ার,
আকূল আহবান তরে সবার,
বই খাতা কলম,
নেই কোন ঘাটতি নহে কিছু কম,
হাতের কাছে সবইতো আছে পাই ঢের হরদম,
বিনামূল্যে শুধু একবার এসে, হেথা ভর্তী হলে কিবা নাম লেখালেই হতো সবকিছু ঠিকঠাক সই ॥
মাত্র অতী অল্প কয়জন,
বাকীরা গেলো কই কেন করেছে পলায়ন,
পাঠিয়ে দিয়ে অজানা সমন রশি ধরে দিলে টান করবে কি তখন,
রলো জিয়নে মরা,
মিথ্যা ও মন্দে মাথাটা ভরা,
হলোনা সাধন মহাজনের মন কোন পূণ্য করা,
মেলায় গিয়ে নেশায় হারিয়ে ঘোর বিভোর ফাঁদে পড়েছে ধরা,
হলো আরও বড় হবার সাধটা অসার, শেষে পেলোনা খুঁজে আর শিখরে উঠার স্বপ্নের সোনার মই ॥
শুধু খেলা আর খেলা,
আসল কাজ করায় বড় অবহেলা,
ঘন গোঁধূলীর ক্লান্ত অধীর বিজন সন্ধাবেলা,
ঋন খেলাপী এক আসামী হয়ে,
অদেখা দায়ের ভারী বোঝাটা মাথায় লয়ে,
এক মুসাফির যাযাবর বালুচরে বাধি বরফের ঘর, ব্যার্থ সফরের এক অপরাধী অধম গোলাম হই ॥
সে কোন্ বানিজ্য বসতি,
আলো ও ভালোর চাষাবাদ ক্ষেতি,
আছে তার দেনাপানা আর আছে লাভক্ষতি,
মহাজনের বকেয়া দাদন,
কে দিলো এ জীবন এত ধনজন,
মিটালো যত চাওয়া সবকিছুর প্রয়োজন,
পাঠালো হেথা করিয়া সৃজন গড়িয়া এত সুন্দর ভূবন,
দিয়ে শত নেয়ামত দান করছে ওরে যতনে আদরে লালন পালন,
গোলাম কেমনে হলো রাজার পর শুনিতে কেমন লাগে এ খবর যার হাতে মরন,
চীর সত্য সবার জানা সে ও জানে যেজন কানা, প্রভূ তার সব দান সব ধন একদিন করিবে হরণ,
ভাইবোন বন্ধু প্রতিবেশী মামাসী,
রাজারানী পাইক পেয়াদা নফর খানসামা দাসদাসী,
বাপবেটা চাচা খালু মামা যেতে হবে, হন্তদন্ত হয়ে ছুটে সবে রাজ তলবে আপন আপন আমলনামা হাতে লই ॥
কেমন রায়ত,
ভূলে গেছে দেয়া আছে দাসখত,
সে কি তবে প্রিয় গোলাম,
না হয়ে খাস হলো নিমকহারাম,
মাথায় লয়ে সে এত কলংক ও বদনাম,
দিনভর রাতভর আজীবন সারাবছর আকাম আর কুকাম,
আহা পেতে চায় সে কেমনে, থেকে তার জমিনে সেরা হবার দাম,
যার নাই কোন বাছ বিচার, মিথ্যা ও মন্দের কাছে হয়েছে হার হালাল ও হারাম,
খাসমহল সৈন্যসামন্ত পাইকপেয়াদার দলবল মহারাজার দপ্তর,
দেনাপানার বকেয়া হিসাবখানা রয়েছে পড়ে তার পূরাতন বালামের ভিতর,
বছর বছর দিয়েছো কিনা সব খাজনাপাতি কর, তাহলে তার দাখিলা আর রশিদ প্রমান কই ॥
আসলে যার কেউ নাই কিছু নাই,
সাধ্য শক্তি কিছু নাই তবু কতকি করিতে চাই,
কচূপাতার জল হাল্কা বাতাসে করে টলমল এই আছে এই নাই,
দুদিনের এ জীবন বিদ্যা ও বিত্তধন লয়ে শুধু মূর্খজনই করে ক্ষমতার বড়াই,
সকলই ঐ মহারাজার,
অপার মহিমা ও করুনার,
দাদন কিবা দান নেয়ামত উপহার,
ওরে বোঁকা সকলই ধোঁকা বা কুহেলিকা তার,
মালিকানা নহে, আবু হকে কহে তা শুধু দুদিনের ধার,
দিতে পারি চাই একখান ছোট্ট তরী,
তিলতিল করি নিতে হবে তা আপন হাতে গড়ি,
বছর বছর তা মেরামত করি হতে অসীম অকূল দরিয়া পার,
এ বচন ও বাণী আমি যেটুকু দেখেছি জানি, তাই লেখি ও গাই করি প্রচার সেকি সত্য নই ॥
হলোনা তার জাগরণ,
অসার অচেতন বিভোর ভোলা মন,
আপন যে ঘরের জানালা দুয়ার হলোনা উম্মোচন,
বুঝি তাই পায় নাই গহীনে দিগন্তে দেখার একটা তৃতীয় নয়ন,
ভোগেতে মাতন যাদুর মোহে অবগাহন, ছিলনা সাধনা তাই হলোনা সাধন,
হলোনা দেখা ও শেখা,
আর কি হবে অচেনা ভবে যখন সকলে হবে শূণ্য ও একা,
কেমনে হবে পার অকূল অথই পাথার, বড় বড় ঢেউয়ের পর ঢেউয়ের ছোবল জল ছলছল থই থই ॥
হলোনা চেনাজানা,
দিকহারা এক মুসাফির কানা,
বানিজ্য সফরে লাভক্ষতির এক বেঁচাকেনা,
নেই জানা আপন বাড়ীর ঠিকানা পথঘাট সব হয়েছে অচেনা,
কে আমি কে দিলো জীবন,
করিল সৃজন দিয়ে এত সুখ ভোগবিনোদন,
কে মালিক কে মহাজন, কেন এ ভূবনে আসা ভ্রমনে লয়ে ছোট্ট জীবনখানা, তা ভেবে আকূল হই ॥
আকাশের ঐ বাড়ী,
রাজ খরচে করা আছে তৈয়ারী,
শাহী রুচি সবকিছু দিয়ে সাজানো বাহারী,
ঝর্না বাগান ঝিল কিছু সমতল মাঝেমাঝে পাহাড়ী,
মাছ ও পাখীদের কোলাহল কিলবিল, বৃক্ষ শতফল সারিসারি,
কেজানে কতদূর কোন্ সে অচিন পুর কোথা হতে ছাড়ে যায় কোন্ গাড়ী,
শুনেছি অপরুপ মনোহর চোখ জুড়ানো সুন্দর, কেজানে দাম কত কেমনে পেতে পারি,
যেতে হবে দুনিয়ার ধনজন সব ছাড়ি,
সোনাদানা শাড়ীগহনা প্রাসাদ বাড়ী ও দামী গাড়ী,
অসীম অচেনা পথ কোন্ সে রথ জানিনা দিতে হবে কেমনে পারি,
একরাজা একদেশ, নাইযে তার শোভা আর রুপের শেষ একই কানুন আছে জারি,
যে পাবে সে লটারী,
নিশ্চয় যাবে সে পলকে তাড়াতাড়ি,
চড়ে নাহলে কেমন করে রাজবাহন মহারাজার আজব ঐ হাওয়াই গাড়ী,
অচিন দেশের নতুন সফর, যাত্রা হবে শুরু মরনের পর, যেতে হবে কেজানে কি সম্বল সংগে লই ॥
আশা আর নিরাশায়,
ঐ যে রবি ডুবিছে অস্তবেলায়,
হিসাবের কত দায়ঋন রয়েছে অনাদায়,
ভোগের আকূল চাওয়ায় নিদারুন কষ্ট তা নাপাওয়ায়,
কত শত ধনবান,
পন্ডিত ও মহাবিদ্যান,
মূর্খজন শুনেছি নাকি কীটের সমান,
রয়েছে হেন কত অগনিত সমাজপতি ক্ষমতাবান,
পরের ধনে শত কোটিপতি তবু কেন তারা হয়নি মহান,
যূলূমবাজ যত রাজ মসনদ ক্ষমতার লাগি দিয়েছে বলি কত প্রাণ,
একপাহাড় বাহাদুরী ও অহংকার হয়ে যাবে নিমেষে ধূলিসাত খানখান,
বুঝি তাই সৃষ্টির সেরা হয়েও তারা হয় নাই মূল্যবাণ,
কারো কারো আছে লোক দেখানো কত জনসেবা ও প্রচুর দান,
সব থেকেও তারা হবে বড় অসহায় নিরুপায় কেমনে পাবে মুক্তি পাবে ত্রান,
অন্তরালে আপন ভূবন খাচ্ছে ঘূনে গোপনে প্রতিক্ষন হচ্ছে ধূসর সবকিছু মন্থর মলিন ও ম্লান,
যতই দুনিয়ার লম্বা হাত সহসা হবে তারা ধরাশায়ী কূপোকাত নাপেলে দাওয়াত হয়ে মহারাজার মেহমান,
মহারাজার ঐ কুটুমবাড়ীতে,
কি আছে লুকানো তার অন্দরে বাহিরে আর আঙ্গিনাতে,
দুগ্ধ মধু রস শত ফল আর এমন খাবার বদলে রকম প্রাতে দুপুরে বিকালে ও রাতে,
ভিন্ন ভিন্ন জাতের ঢের, হরেক মজা নানান স্বাদের যা কেউ দেখেনি খায়নি কভূ আগে পড়বে পাতে,
আজীবন আহা সবে রইবে কানা,
না হলে ভালোকরে পড়া মগজে দেমাগে ধরা ঐ বইখানা,
হেথা যাবার উপায় কই, যেতে কত ঘাট হবে পার হতে না যদি মিলে পত্রছাড় কিবা একটা সোনার মই ॥