প্রায় এক যূগের মত বয়স হয়েছিল যার
গল্পটা বলি টবে লাগানো একটা লেবুর চারার
আত্বজীবন কথা কত কষ্টব্যাথা ও তার বিষাদভরা আর্তনাদ ও ফরিয়াদ ।
দিনাজপুর থেকে কেনা
ঢাকায় বাসা বদলানোর সময় ভেংগে হলো দুইখানা ।
আবার কে পড়তে চায়
নতুন মাটি যোগারের বড় সমস্যায়
তাই গাছের জন্য নয় শুধু মাটি ও টবের মায়ায়
অনাদরে ঐ টব ও লেবু গাছের গোড়াটা বহুদিন পড়ে রলো বারান্দায়
আধ হাত পরিমান
মাটির তলে লুকিয়ে ছিল প্রাণ
ভগ্ন লেবু গাছের ঐ মূমূর্ষ চারার গোড়াখান
কোন্ হতাশায় কিবা ভরসায় চুপচাপ চারিদিকে চায় ক্লান্ত বিষন্ন ভীত ও পেরেশান ।
ছিল মাটির উপরে টবে
হঠাৎ একদিন অবাক হয়ে দেখিল তা সবে
নতুন সবুজ কত ডালপাতা তাতে কেজানে গজিয়েছে কবে
মোটেও আশা ছিলোনা যার, তবুও যখন তার আবার একটা নতুন জীবন হবে
সেই খুশীতে ভরিল সবার মন
এবার শুরু হলো তার, পাওয়া আবার নিবিড় আদর ও যতন ।
তিন বছরে বাড়িল তিনহাত
সাজিল ডালপালায় বললো সবায় হয়তো হবে ভালো জাত
একদা কোন্ কুক্ষণে আবার
চার বছরের অতি আদরের নাতনী আমার
কোন্ অবসরে কোন্ খেয়ালে ভাংগিল সবগুলো ডালপালা তার ।
তারপর কি হলো
কিছুটা পেয়ে রোদের আলো
নতুন প্রাণে সে আবার সবুজে গজালো
কেজানে এবার আবার কি আছে তার কপালে মন্দ কি ভালো ।
বছর তিন কি চার
কোন ফাঁকে আবার হয়ে গেছে পার
বারান্দার এক কোণে নিভৃতে অনাদরে বসবাস ছিল তার
কেজানে কোন্ কারণে তেমন আদর যতন আর ভাগ্যে জুটেনি এবার ।
এত ব্যাস্ত ছিলেম আমরা সবাই
চক্ষু মেলিয়া তা দেখিবার সময় আর কারো হয় নাই
ধন ও ভোগ বিনোদন রেখেছে সবারে আজব এক নেশার জালেতে জড়াই
সব হয়েছে সবই পেয়েছি সুখে ও মজায় রয়েছি তবু কজনে আমরা বলো মানুষ হয়েছি ভাই ।
মূল গাছটা এবার বুদ্ধি করে
কেমন করে অন্তরালে সকল চোখের অগোচরে
চুরি করে চুপিসারে বারান্দার লোহাড় গরাদের ফাঁক ফোকড়ে
অনেকটা বেঁকে গিয়ে তার ডালপালাগুলিরে সংগে নিয়ে চলে গেছে বাহিরে
এতদিন যা চেয়েছে তাই যেন সে পেয়েছে বেঁচেছে হতে যে শহর পাষাণ প্রাসাদ আর প্রাচীরে রেখেছে ঘিরে ।
লেবুর চারাটা ছিল কেনা মাত্র চল্লিশ টাকার
দেখিলাম ধরেছে তাতে কলি কুড়ি ও বেশ কয়খানা ছোটবড় লেবুর সমাহার
জানের উপরে আঘাত এসেছে তিন তিনবার
যেমন মজা টসটসে রস তেমনই খুশবো রয়েছে লেবুগুলি তার
বহুদিন পরে বেঁচে থেকে যুদ্ধ করে, অবশেষে ঐ গাছটা দিয়েছে ঢের বেশী ফল উপহার ।
দুনিয়ার এ জীবন
যদিও দুদিনের কিছুক্ষন
খুঁজিলে পায় মন সাধনায়ই শুধু হয় সাধন
এসো গাছ লাগাই ও গাছের জীবন আমরা সবাই করি গঠন
ওহে মানুষগন তুমি এক ইজারাদার
আছে কি স্বরণ, কিছু্ইযে তার নহে তোমার
এ দেহের প্রাণ ধনজন ষোলআনা সবখান দুদিনের ধার
হলেও সাধ কিছু করিবার, সীমানা বাধা সক্ষমতা ও সাধ্যটার
চাইলেই পায়না, যায়না কেড়ে নেওয়া কিবা তা কারেও দেওয়া ধার
জানো কি সে কত বড় আর শক্তি-ক্ষমতা কতখানি তার করুনার সমাহার
আজও পায়নি খুঁজে কভূ পাবেনা মানুষ প্রান্তখানা বাড়ীর পিছের প্রথম আকাশটার
আবু হকে বলে তার ইচ্ছে হলে নিমেষে গড়েন ধ্বংস করেন এমন সাতখানা আকাশ তার
কেন এ ভ্রমণ করো মন তা গবেষণ কি চায় বিধাতায় সে থাকেবা কোথায় অন্বেষণ ঐ ঠিকানাটার
বাহাদুরী ছাড়ো করো সমর্পণ, চাহিলে বিজয় ক্ষতি নহে শুধু লাভ ও সাধন, এখনই তার মেনে লও হার
পোষ্য গোলাম হয়ে এত দাদনের দায় মাথায় লয়ে সে দাসখত অংগীকার কোন্ দুঃসাহসে করিছ অস্বীকার,  
ধনজন শান্তিসুখ ভোগ বিনোদন এ জীবন বাঁচন ও মরন সবইযে তার অপার নেয়ামত ও দান উপহার করুনার ।
যদি দাতায় ইচ্ছা করে
মরা গাছেও ফুল ফুটে ফল ধরে
ইশারায় তার নিখুঁত পরিপাটি ও বিনাশ হয় সব
যদিও আপন সৃষ্টির মাঝে লুকিয়ে থাকে সে রহে নিরব  
তার এ জগত সংসার বিচরণ বাস নিরাকার কুদরত কেরামত বাহাদুরী পূরোটাই ঐ দয়াময় বিধাতার ।
শুধু ঐ মূল্যটুকু যে দামে ঐ লেবুর চারাটা হয়েছিল কেনা,
ফলের মূল্য ধরে হিসাব করলে যদিও আমরা লাভে তবুও তার কাছে ঢের দেনা,
আবু হকে বলে ওরে না না,
ঠিক হলোনা ভাই তোর ঐ হিসাবখানা,
যে গাছে ফল ধরায় ও খাওয়ায় পূরো মূল্যটাতো আসলে তারই পাওনা,
সে যে মূল্য চায়না তা নেয়না, শুধু চায় তারে চিনিজানি ও তার প্রতি জানাই একটুখানি কৃতঞ্জতা আর শুকরানা ।
গাছ লাগানো মহাপূণ্যময়
কেন মনেহয় তা ওরে ঝামেলাময়
বলো কিসের খরচ কিসের কষ্ট কিসেরইবা ভয়
ভরে যাবে মন শোনবে যখন তারা তোমার সনে কথা কয়
ফুল-ফল হোকবা নাহোক তাদের কিছু আদর যতন ও সেবা করিতে হয়
এসো তবে সবুজের সমারোহে এ বিশ্বটারে আমরা সবে, নতুন করে আবার গড়ি শীতল ও ছায়াময় ।
গাছেরও আছে মন আছে প্রাণ
গাছ লাগিয়ে তার বন্ধু হয়ে হও সবে মহান
জানোকি সে কষ্ট পায় খুশী হয় গায় মনিবের গুনগান
যেই সুরেতে পাখীরাও নাঁচেগায় ঝর্না ও নদীর জল করে কলতান
যদিও নিরব তাদের কথা আছে মনে কত সুখ ও দুঃক্ষব্যাথা ঠিক যেন মানুষেরই সমান ।
গোলাম তার যেন এমনই হয় চাহে রাজায়
শীতল বিছানা রেখেছে মাটিতে বিছিয়ে বিধাতায়
ক্লান্ত পথিক ও পাখীরা এসে বিশাল ঐ অশ্বথের ছায়
ডালে বসে একটু জিরায় নিদ্রা যায় ফল খায় ও বাসা বানায়
অসহায় কত প্রাণেরে দেয় ঠাই যোগায় আহার
স্রষ্টার সে এক অপার অরুপ বাহার শোভা আর সৌরভ এ বিশ্ব জগতটার ।
এখন ধূসর ধূলিঝড় বহা দারুণ খরা,
বর্ষা আসেনি বলে প্রকৃতি যেন মলিন ও একেবারে আধমরা,
ঝড়ে গেছে অনেক পাতা, যেগুলো রয়েছে গাছে তাও হয়েছে বাদামী,
সবুজের তৃষায় কাতর যারা সবাই তারা যেন ক্লান্তি ও হতাশায় উঠেছে ঘামী,
সে শোভা গেলো কই, গাছেরা যাচে জল,
গাছের রুপ ও বাহার শত শাখাভরা সবুজ পত্রদল,
বনানী সাজায় চোখ জুড়ায় মন ভরায় প্রকৃতি করে পরিমল,
নাম না জানা আকার ও রঙে হরেক নানা মজার খানা শতকুটি এই ফুলফল,
গাছ লাগাও,
বনানীর ঐ ঘন সবজে তাকাও,
বিধাতার অরুপ রুপের বাহার যদি হেরিতে চাও,
চোখের খাবার, না হতে আঁধার সতেজ ও সজীবতায় নয়ন ভরাও,
জগত জুড়ে অকাতরে গাছেরা জীবন বায়ু বিলায়,
লাগেনা কিনা পাওয়া যায় মূল্য বিণা কোটি প্রাণীর জীবন বাঁচায়,
কার দান কিবা তুল্য কি তার, বিনিময়ে কি চায়, কি দেই আমরা তার মূল্য কিবা উপহার ।
ঐ সবুজে গিয়ে মিলে,
মাছ আর পাখপাখালীর কিলবিল ভিড় মাতন ঝিলে,
আকাশের নীলে একাকার হওয়া সাতরঙ মাখিয়ে লওয়া শাপলা শালুক বিলে,
একবার হেথা বেড়াতে গেলে কতো ভালো হতো আর আমারে কভূ ফিরে আসতে না দিলে,
আজীবন বারমাস ঐ সে সুখের বসবাস যদি তারা নাহয় আমিই হতেম কুটুম কিযে খুশীর ধুম এমন ভাগ্য হতোগো আমার ।  
ঐ সে সবুজ নরম ঘাস তুলতুল
যার নাই রাজার ঋন সেতো বেহেস্তের বুলবুল
পায়ের তলে পড়ে আছে বলে সেতো নহে মূল্যহীন কিবা নাহি সে দিচ্ছে মাসুল
জন্ম হোক যথাতথা কর্ম্ম হোক ভালো যাইবা হোক তার ভিত্তিমূল
পথের বাঁকে মাঠের পাশে ঝোপের ধারে নাম না জানা শত তুচ্ছ ক্ষুদ্র ফুল
ধন্য তার জীবন নিয়ে শোভা আর সৌরভ বিলিয়ে দিতে সদা রহে মসগুল
কজনে জানে হিসাব রাখে ঐ ঘাসফুলেরই মধু খেয়ে প্রাণে বাঁচে লক্ষ মক্ষিকুল
তাও আবার কারো না কারো মজার খাবার, তবে কি তার জনম বৃথা ঐ জন্মটাই ভূল
জংগলের ঐ টুকটুকে লাল কুচিলা ফল খেলে নাকি জিবটা কাটে গলাটা ফাটে পড়ে যায় মাথার চুল ।
কে ঐ একেলা বসে হায়
পারের আশায় নদীর ঘাটে সন্ধাবেলায়
গাহে বিচ্ছেদ আর বৈরাগের গান দরাজ গলায়
কোন সে সুখে নাকি মনের দুঃখে বাউল বসে বটের তলায়
গানের শেষে কোন্ নিমেষে চুপিসারে অচিন লোকালয়ে যায় সে হারায়
কে সে জন কোন সে জীবন হেন ধন্য মহান উদার, এ জীবন যার ঘরে ও বাহিরে পরের তরে সামান্য হয়েছে উজার ।