পর্ব - ০১


মনে রাখিও, নিশ্চিত বিএমডব্লিউ তার কাছে যাবে হারি ॥
একখানা দোচালা ঘর,
একেলা আমি বসত করি তার ভিতর,
শিয়রে আমার রাজার দেনার খাতা,
মাটির মেঝেতে একটা বাঁশের চাটাই পাতা,
গোরস্থানের পথের পাশে,
হারিয়ে যাওয়া বিজন রাজপুরী এখন খাসে,
তাদের আমকাঠালের বাগের ধারে ঐতো আমার ছোট্ট বাড়ী ॥
লোকে বলে আমি নাকি কানা,
আমার নাই বাড়ীঘর নাইরে কোন ঠিকানা,
অধুনা সমাজে আমি যাইনা লাজে, মোর বেশ নাকি ভালোনা,
ভাল করে জানা নাই যার ডানা, সম্বল মোর আছে শুধু এমন একখানা ঠেলাগাড়ী ॥
আগেই আমি রাখি বলে,
তোমরা কভু মোর বাড়ীতে যেতে হলে,
সাত সাগর তের নদী ওরে সাহস করে দিতে হবে তোমাদেরে পারী ॥
বন্ধুরে তার নাম,
এক নিঝুম অজ গাঁওগেরাম,
যেথা আজও আছে ভালো কথা, ভালো কাজ ও ভালো মানুষের দাম,
নয়নপুরের পাশের গ্রাম শান্তিপুর,
ভাবছ বুঝি অতি কাছে, নারে ভাই তা অনেক দূর,
চারিধারে উঁচূ প্রাচীরের ঘের, অচিন দেশের সে এক অচিনপুর,
মোহ ও মায়া যাদুর নেশা ভংগে,
আলোর ঝিলের অরুপ বাহার মাখিয়ে সারা অংগে,
রেখো মনে, দেখা হবে কথা হবে আকাশ ও দুনিয়ার মালিকের সংগে,
সময় কম তাই থাকিতে দম আর কত রংগে, যেতে হলে আমার সংগে তৈরী হও করো তাড়াতাড়ি ॥
একটাই গাড়ী গহীন রাতে,
যাদের চক্ষু নাই তবুও উঁচূ জাতে,
যারা অচেতন ঘুমে কিবা ভোগের ধূমে মাতে,
নানান কাজে সদা ব্যাস্ত অতি, মানুষ হবার নাই সুমতি, সময় নেই একটু হাতে,
যাত্রী পায়কি না পায়, ডাকাডাকি করেনা পিছন ফিরে চায়না ঠিক সময়েই যায়রে তা ছাড়ি ॥


পর্ব - ০২


যাবেনা টিকেট কাটা,
সংগে থাকলে পুটলী ঝুলি ঘটিবাটি ঝাটা,
ঘর সংসার গৃহস্থালী সব ফেলি কাথাবালিশ ছাতাছড়ি পূতাপাটা,
কাস্তে কোদাল পাজন পাতলা জোয়াল ছোটবড় কোন মালামাল দুনিয়ার জঞ্জাল ও ডেকচি হাড়ি ॥
চড়বে উড়াল পংখী নাও,
আর যদি তুমি ঐ সফরে না ঘুমাও,
যখন হেথা পৌছে যাবে,
ঠিকঠাক নিরাপদ হালে দেখতে পাবে,
পলকেই চিনতে পারবে আমার বাড়ী,
জমিজিরাত নাই ঝিপুতনাতি সবাই মোর সংগে তাই দিছে আড়ি,
যেথা ওরে মোখ থুবরে আছে পড়ে খুব পূরাতন, যার ঘুরতে চাঁকা করে ঝনঝন, এমন একটা ঠেলাগাড়ী ॥
আমিই চালাই,
তেল লাগেনা ইঞ্জিন নাই,
ঐ গাড়ীটা ঠেলা ছাড়া চলেনা তাই,
যখন ইচ্ছে করে ভালো লাগে বা সময় পাই,
একবেলা কাম করি ভাই, আর তাই দিয়ে তিনবেলা খাই,
সবাই গেছে চলে আমারে একা ফেলে তাই এখন আমার কেহ নাই,
লয়েছিলাম তারে আমি মহাজনের দাদনে আহারে কত যতনে আদরে গড়াই,
আজ তার বুড়াকাল,
বদন মলিন দেহটা বলে সে বড়ই কাঙাল,
দশাটা যেন বড়ই করুন ও বেহাল, যতই হোক তবু তারে আমি বলো কেমনে ভুলি কেমনে ছাড়ি ॥
টিলার শহর চড়াই উৎড়াই,
এই ঢাল ও এই খাড়া কষ্টের সীমা নাই,
এখন প্রয়োজন ভাগ নেয় এমন একজন সংগী কোথা পাই,
কাজের আরাম গেছে যেন চলে, এইতো খেলা সারাবেলা যানজট লোকজন কার আগে কে যাই,
ছোটবড় সব যন্ত্র দানব তার সনে পাল্লা কেমনে দেই, কোন সুযোগ নেই পাশ কেটে চলে যাই দ্রুত আড়াআড়ি ॥


পর্ব - ০৩


নানান মালে,
একটু বেশী বোঝাই হলে,
চাপ পড়ে তার পাটাতন আর কাঠের নলে,
তাই কাতরে যেন ওরে, হাত জোড় করে সে বারবার আমারে বলে,
পা চলেনা আর দেহটাও যেন করে মানা,
আমি আর পারিনা কখনও পেছনে ঠেলা কখনোবা সামনে গিয়ে টানা,
আমার গাড়ী আর আমি,
কে বড় আর কার কাছে কে ভাই বেশী দামী,
মনেহয় যেন আমি তার অচেনা আর আপন কেউনা, গাড়ীটার যখন হয় এমন অঁচল দশা ও চলন ভারী ॥
অনেক সস্তা দরে,
লোকে এসে ভাড়া করে,
নাহলে চলে যাই ফেরীঘাটে বন্দরে,
বড় শহরে, রেল ইষ্টেশন,
আনাগোনা হরেক রকম লোকজন,
যে কাজে বেশী শ্রম কেন এত কম তার উপার্জন,
নষ্ট মালের কষ্ট বেশী করে কুকুরে ঘেউঘেউ ও মাছিতে ভনভন,
এইতো জীবন কে জানে তার ভেদ,
কি লাভ হবে করে কোন জেদ কিবা ক্রোধ ক্ষেদ,
ভাড়ার অভাব নাই, ভিতরে বাহিরে চারিধারে কত মাল রয়েছে পড়ে টাল দেওয়া সারি সারি ॥
ছিল রাজ বংশধর,
কোন ফাঁকে চলে গেছে সহস্র বছর,
নাই মোবাইল ফোন আমার কাছে,
তাই জানিনা এখন তারা কে কোথায় কেমন আছে,
সে থেকে আমিও আর লইনি লইনা খবর,
নহে বিদ্যান নই ধনবান তাই বুঝি সবাই মোরে করেছিল ওরে পর,
যূগের চাওয়ায় গিয়ে হারি, সেই থেকে সবার সনে হয়েছিল ব্যাবধান ও গোপনে মোর জনমের আড়ি ॥
কে করিল, কেমনে হলো তচনচ বরবাদ,
সয়নি ভুতল আলো ঝলমল শ্বেত পাথরের কত প্রাসাদ,
হয়েছিল যেন জেলখানা, বিষন্নতা অবসাদ আর যন্ত্রনার করুণ ফাঁদ,
সব হয়নি জানা, ভরেছিল কানায় কানা শত বিষাদ হাহাকার ও অস্ফুট আর্তনাদ,
বলো কার মন চায়, এত সুখ বিত্তধন হায়, এত জৌলুস, দাপট ও প্রতাপ সবকিছু ছাড়ি ॥


পর্ব - ০৪
  
ছিল শত বিনোদন উল্লাস,
যাদের এমনই আরাম আর শান্তিসুখের বসবাস,
শুনেছি রাক্ষুসে যমুনা, নেই জানা কোন রোশে কোন কারণে কিবা ক্ষোভে কোন দোষে করেছিল সব গ্রাস,
তারা নাকি ছিল কোন্ রাজার বংশধর,
পাপের যখন সের পূরিল গযব এলো তারপর,
আকাশের ভয়ংকর বাজ পড়িল নিয়তির মাথার উপর,  
শুরু হলো আপদ আর নিদানের ঝড়, কত বিত্তধন সুখ ও জীবন ছিল কত সুন্দর বিধাতায় নিলো সব কাড়ি॥
সব হারিয়ে ন্বিঃস্ব হবার পর শেষে,
কেউ কেউ নাকি নদীর এই পারে বড় শহরে এসে,
রেল লাইনের ধারে,
নগরীর পৌরসভার প্রধান পয়ঃখালের পারে,
ঐ তারা, বস্তীতে দিন যায়,
কি করে এখন, কেমনে বা চলে খায়,
মেয়েরা বাহিরে ঘুরে আর পুরুষেরা ঘরে শুয়েবসে দিন কাটায়,
অন্যায় অবিচার জুলুমবাজ কিবা দস্যু রাজার হয়না বিচার ও শাস্তি নাহি পায়,
কে বলেছে মজলুমের দোয়া হয়না কবুল, সেকথা ওরে ভুল পলকে তা আরশে পৌছায়,  দোতারা ঢোল ও বাঁশরী বাজায়,
রাত হলে নাকি সবারে এনে ডাকি যূবক বুড়ো সকলে হায়,
বিচ্ছেদের গান গায় আর মিলেমিশে দলেবলে জুয়া খেলে টানে গাঁজা আর পান করে সুরা ও তাড়ি ॥
এ মিনতি রলো,
সবে জেনেবুঝে কথা বলো,
কোরআন হাদীসের আলোকে পথ চলো,
মূর্খ যারা তাদের নেই ধারনা,
আলোর তৃষা ও পথের দিশার ঐ তাড়না,
কাঁধ অবধি লম্বা চুল সুন্নাতে রাসুল, যদিও কেউ কেউ করে তার ভুল সমালোচনা,
কি লাভ আর সেকথা বলে, বলো ওরে কার কাছে চক্ষু আছে কিবা যারা কিছু দেখতেই পায়না,
কে বড় আর কে আগে দুনিয়ায় এলো,
এই আকিদা আদল কোথা হতে কবে মানুষে পেলো,
এ জগতটারে কে শিখালো, বলো আলো আর ভালোয় কে ভরালো,
জানিনা সেকি তামাসার ছলে, নাকি কিছু লোকে মোরে তিরস্কার করেই বলে - মাইজভান্ডারী ॥
অ আমার সাধের ঠেলা,
ঠেলতে ঠেলতে আমার জীবন গেলো সারা দিবস বেলা,
হেথা যাইনি, গিয়েও এসেছি ফিরে ঠাই পাইনি, ডেকেছে কত মোরে ঐ রঙের মেলা,
তবুও তরে ফেলে হয়নি চলে যাওয়া, যদিও আমার শত নাপাওয়া রয়েছে বাকী কতনা মজার খেলা,
বেলা শেষে ভাবি,
কবেরে তুই বাড়ী যাবি,
ওরে মন আবারও কি পথ হারাবি,
আমার এই অঁচল ঠেলাগাড়ী,
নহে যার মালিক আমি নই তার সওয়ারী,
এ জগত এত সুন্দর কোন সে রুপের কারিগর গুনবেপারী,
একদিন দিয়ে মহাজন দাদনের ঋন কি আশায় দিয়েছিল তা করে তৈয়ারী,
হে মুসাফির ভাই , অতি অল্প সময় অচেনা গন্তব্য বহুদুর পথ তাই দিতে হবে দ্রুত পারি,
কবে আমার ভার সে লবে, পাবো পার পারী দেওয়া হবে, যে হবে মোর দুই দুনিয়ার দরদী সংগী ও কান্ডারী ॥