কাজ চাই কাজ, আলো ছড়ায় যেন একটা হেন ভালো কাজ ॥
বসে নয় আমি হতে চাই দামী তাই কাজ করে খাবো,
কাজ করতে করতে তার উপরই একদিন হঠাৎ মরে যাবো,
জানি আমি আজ নাহয় কাল, সব ভালো কাজের মূল্যটাই পাবো,
হয়তো অনেক বেশী মিলবে তার প্রতিদানে, মরণে আমি যা হারাবো,
কোন কাজ নেই যার হাতে, ভালো কাজের সন্ধানী হলেইবা তাতে বলো কিসের লাজ ॥
কিসের সরম কিসের ভয়,
ওরে তা ভিক্ষা কিবা চুরিতো আর নয়,
এ প্রকৃতি ও পরিবেশটারে করে নিয়ে বশ কিবা জয়,
যতদিন এ দেহে আছে প্রাণ সেইতো দানের সঠিক সময়,
ওরে ভাই বেঁচাকেনা ও লেনদেন ছাড়া কি কভূ তা বানিজ্য হয়,
তুচ্ছ আপন সৃজন দান যদি আনে সৃষ্টির সামাণ্য কল্যাণ সেযে অনেক মহিমাময়,
পরভবে তারইতো বেশী ভয় নিশ্চিত পরাজয় যার নাই কর্ম্ম কিবা দানে কেনা সম্বল ও মানুষের পরিচয়,
শোধিতে মহাজনের দাদনের ঋন শুধু ওরে ঘর নয়, পরকে ওযে কিছু দিতে হয় সেইতো প্রকৃত সম্বল ও সঞ্চয়,
যত অক্ষম দূর্বল ন্বিঃস্ব অসহায়,
কে নেবে তাদের দায় চুপচাপ যারা রয়যে তাকিয়ে কিছু পাবার আশায়,
নিরবে গোপনে কিছু চায় তারাতো আসলেই পায়, ঐ ধনীদের কাছে যাদের রয়েছে ঢের তাদেরই মোহতাজ ॥
বোন কিবা বন্ধু ভাই,
বয়সের কোনযে নাই বালাই,
এসো বন্ধু হই দলবাধি ছোটবড় সবাই,
এ জগতে আসলে যাদের ওরে কেউ নাই কিছু নাই,
সবার থেকে একটু নিয়ে তাই জমিয়ে ঐ তাদেরে দিতে চাই,
কে আছে দেখার এনে দেবে দাওয়াই হলে হঠাৎ কারো রোগ-বালাই,
যাদের অন্ন বস্ত্র নাই কোন কাজ কিবা শীত বর্ষায় মাথা গোঁজার সামান্য ঠাই,
এটাইতো সক্ষমের দায় বিধাতায়ও তাই চায় সাধ্য কিবা সাহস হলে অস্বীকার করো তাই,
ধন আছে মন নেই,
মানবতা সেতো শুধু লেখনী ও বচনেই,
ভোগ বিলাস বিনোদনে সব ধনীজনে হারিয়ে ফেলেছে খেই,
মহত্ব উদারতা সব মিথ্যে কথা এ সমাজের ন্বিঃস্বদেরে মহত কিছু না যদি দেই,
মুখোশ আর পোষাকের আবরণে সবখানে সবার সনে তবুও তারা সবাই করছে বড় হবার বড়াই,
জগতের সেরা যতই উত্তম,
দেখেছি অনেক লম্বাহাত নির্মম ও ভয়ংকর চরম,
করে রাতকে দিন ও দিনকে রাত অশ্বারোহী তিরন্দাজ মহাপরাক্রম,
যতই ভাবুক কেউ নেই তার সম সবাই ছোট আর সবারই সবকিছু তারচেয়ে অনেক কম,
যখন ধরবে চেপে দিবেনা সময় তারে এক দম,
অদেখায় পিছনে দাড়িয়ে হায় রয়েছে সেই অব্যার্থ যম,
নাই যার কোন মায়া দিনমাস স্থানকাল কিবা কোন ভয় ও সরম,
বলো কোথায় তারা আজ,
আলো ঝলমল সাতরঙ শাহী মহল বাহারী সাজ,
ঐ রাজ বংশধর ছিল যাদের সোনার সিংহাসন আর হিরাখঁচিত শিরতাজ,
কে আছে ঠেকায় সমূলে ক্ষয় হয়ে যায় আর সবই হারায় বখিলের ধন ও জুলুমের বিশাল রাজ ॥
এখন তোমার অনেক আছে তাই,
বুঝি তাতে হয় তোমার অহমিকা আর ক্ষমতার বড়াই,
কিছু সুবিধাভোগী আর চামচা চাটুকার ঐ শুনি জয়ধ্বনি করছে সবাই,
এইতো সময় এসো ওরে কিছু কিছু দান করে পূণ্য দিয়ে শূণ্য ঝোলাটা এখনই ভরাই,
নব সফরে শেষে গিয়ে অচিন দেশে যদিরে সবই হারাই,
ভাবো তবে কেমন হবে অক্ষমতা আর দীনতার জীবন লয়ে হঠাৎ একদিন যদিরে মরে যাই,
এত বড় দিন আর মাথাভারী ঋন সেইতো অনেক যদি দিনেরাতে শুধু দুইপ্রহর ঘুমাতে পাই,
ক্ষতি কি বাকীটা হলে কাজের সময় তার আবার কিসের প্রভাত দুপুর বিকেল রাত কিবা সাঁঝ ॥
শুনি কেউ কেউ বলে,
জানিনা আসলে তারাকি বোঁকার দলে,
পড়ব নামাজ ও করব হজ্ব বয়স মানে তারা বুড়ো হলে,
এখন নয়রে ভাই ধনী হলেই করব দান,
আমি বলি সে সুযোগ আর কোনদিন না যদি পান,
কেজানে কখন কার নস্বর এ জীবনটার হঠাৎ হয়রে অবসান,
ভিতরে বাহিরে এক নয় শুধুই মিথ্যে বড়াই,
রয়েছে যেটুকু ভালো অর্ধেকই তার অভিনয় দেখি করছে সবাই,
আলো আছে চারপাশে তবু কেন সবে ডুবেভাসে সোজা পথটারে খুঁজে নাহি পাই,
ভালোতো চিনিনা তাই তোমার কাছে আমি হতে আরও দামী তোমার সেরা ও ভালোটাই চাই,
নিত্য কিছু ভালো কথা ভালো কাজ, কাল নয় নিশ্চয় বেশী ভালো হয় তাই তা করা চাই আজ ॥
সারাটা দিনভর,
সপ্তাহ মাস ও বছর,
আমি কেন একেবারে অবসর,
শুধু মসজিদ দোকান বাজার ও এই ঘর,
কোন কাজ নেই আমার তাই,
শুয়ে বসে থেকে এতটা সময় কেমনে কাটাই,
তাই শুধু লেখি আর পড়ি,
মনটারে বুঝাই তবু আমি কিছুতো করি,
জানিনা সেকি বালুচরে নয়তো এক তুষার প্রাসাদ গড়ি,
গভীর আঁধারে জালিতে ক্ষিন প্রদীপ আলো,
যা বলে বলুক লোকে আমার তৃতীয় চোখে যা দেখি জীবনের মন্দভালো,
চুপটি করে থাকি নিরবে কলমে আঁকি জীবনের যত রঙ আর নাবলা তার দুঃক্ষ বেদনার শত রুপ সাজ ॥
কে বলে শোনায়,
তোমার ওরে রয়েছে অনেক দায়,
জানোকি কেন তব আসা দুদিনের এ দুনিয়ায়,
যে বানালো জীবনের সবকিছু দিলো কোন সে আশায়,
রাজা হয়ে গোলামের কাছে কি চাহে ঐ দয়াময় জগত বিধাতায়,
কোন কথায় কোন কাজে কখন হয় সে খোশ,
কি কারণে অভিমান ক্রোধ ক্ষোভ কিবা রোশ,
পাপাচার মিথ্যা মন্দ আর অন্যায় ও অবিচার ভূলত্রুটি অপরাধ দোষ,
জানা দরকার তার করুণা বিনা মানুষ কত অসহায়,
আপদ নিদান ও পরাজয় কখনযে তারে হায় গ্রাস করিতে ধায়,
সব কথায় কাজে ছোটবড় যত পূণ্য গুনাহ পলকে খতিয়ানে জমা হয়ে যায়,
যদি সে চায় নিমেষে নেমে আসে অজানায় দেখা কিবা অদেখায় মহাভয়ংকর কোন আসমানী বাজ ॥
সবে সত্য বলো,
সহজ সরল সুপথে চলো,
দিবেন হালাল রুজি,
সততা সবর ও শ্রমই অমূল্য পূঁজি,
কোথা পাও ছুটে যাও হেটেহেটে নাও তারে খুঁজি,
জানো তাদের বাণী ও বচন,
কি বলেছেন বিশ্বসেরা ঞ্জানী গুনী দার্শনিকগন,
আর কি করেছেন, কেমনে কাটিয়ে গেছেন এ ধরায় তাদের জীবন,
সেপথে করে গমন হও শুদ্ধ শোধন হও সুবোধ সুজন করো মন আপন আপন সাধনার সাধন,
কাজে কোন লাজ নেই,
হয়না ছোট কেউ কভূ কোন কাজে কিছুতেই,
কাজ করে খাও, ঝেড়ে লাজ করো যেমনই হোক একটা কিছু ভালো কাজ,
নহে শুয়ে কিবা চক্ষু বুজি যদি কায়ঃমনে চাও, পাবে ঐ রশিটা কষে ধরে সিজদা করে পড়ে নামাজ ॥  
হয়ে মহারাজার ভক্ত প্রিয় দাস,
করো তার আলো আর ভালোটার ক্ষেতি চাষ,
বিশ্বাসে নির্ভরতায় হবে পাশ সেযে তারই এক মহান সৃজন বিলাস,
সব চাওয়া কিবা না পাওয়ার ঐ কষ্টগুলিরে গলাটিপে ধরে মেরে ভিন জগতে মিলবে বাস,
যদি কোন কাজ নাই তবে শুধু পড়,
জানা শেখার শেষ নেই ঞ্জানসাগরে তুমি এক ক্ষুদ্র জড়,
আর অরুপ আলোর যাদুর ছোয়ায় নতুন এক জীবন গড়,
ভালো কথা বলো, হোকনা ছোট তবু সে ভালো কাজটি কর,
কেউ দেখি দেখে দেখে শিখে তুমিও নাহয় ভাবের ঐ জগতে বিচর,
কতজনে শুনে শুনে গগনের ঐ রাজকাননে বীজ বুনে সাজায় তা মনোহর,
জীর্ন পরিসর আঁধারের অচেনা ঐ পিছল পথ যদিরে হয় পসর,
কেমন করে মরা গাছে ফুল ফুটে ও ফল ধরে শোভা আর সৌরভে সেজে উঠে বালুচর,
কেউবা ওরে অই আশায়,
মহারাজার কাছে আকাশের নীল ঠিকানায়,
চুপ করে দেখে শুধু লেখে আর লেখে দেয় সে পত্র অসীমে পাঠায়,
শুনেছি নাকি যা হারাবে তারচেয়ে শতগুন বেশী আবার পাবে যদিরে হয় তার মন খোশ ও দিলদরাজ ॥