পৃথিবীটা একটা টাইম মেশিন এটা আমাদের সবার জানা, যেখানে জীবন, মৃত্যু, সুখ, দুঃখ একের পর এক আসতেই থাকে। কিন্তু আনন্দ থাকে এসবের ঠিক উপরে। সে সুখের মধ্যে যেমন সৌন্দর্য ছড়ায়, তেমনি দুঃখের মাঝে নিয়ে আসে মাধুর্য। তাই গুরুদেব বারবার বলতেন, জীবনটাকে যত পারিস উপর থেকে দেখ্ , "জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে, বন্ধু হে আমার, রয়েছ দাঁড়ায়ে"। আবার স্বামীজীর কথায়, "সন্ন্যাস-আশ্রমই আমাদের জীবনের চরম লক্ষ্য। শুধু এই জগৎকে ত্যাগ করিতে হইবে তাহা নয়, স্বর্গকেও ত্যাগ করিতে হইবে। মন্দের সাথে সাথে ভালোকেও ত্যাগ করিতে হইবে। -- এই সকলের পারে যাইতে হবে।"


বৈরাগ্যভাবই যে পরম-আনন্দের আসল ঠিকানা, সেই ভাবনা থেকেই লেখা কবিতা "কালের যাত্রা"


হে প্রেম, তুমি হয়ওনাকো কভু ব্যক্ত,
হে সুন্দর, তুমি মৃত্যুরে করও মুক্ত,
হে অন্তর, তুমি কালের যাত্রার ধ্বনি শোনও,
পৃথিবীর মহাযান ছুঁয়ে দেখও ঐ নীল মহাসমুদ্র।


হে অনন্ত, তুমি শূন্যরে করও পূর্ণ,
হে সীমান্ত, তুমি স্মৃতির বুকে ধরা দিও,
হে সত্য, সব দম্ভরে তুমি করও চুর্ণ,
হে মিত্র, তুমি লজ্জার মানটি রেখও।
হে শত্রু, তুমি কালের যাত্রার ধ্বনি শোনও,
পৃথিবীর মহাযান ছুঁয়ে দেখও ঐ নীল মহাসমুদ্র।


হে ঈশ্বর, তুমি কসে রাখও সব অঙ্ক,
হে নশ্বর, তুমি সোজা রাখও মেরুদন্ড,
হে আস্তিক, তুমি বিশ্বাসে করও ব্রহ্ম,
হে নাস্তিক, মনে রেখও না কোনও দ্বন্দ্ব,
হে পথিক, তুমি কালের যাত্রার ধ্বনি শোনও,
পৃথিবীর মহাযান ছুঁয়ে দেখও ঐ নীল মহাসমুদ্র।


হে প্রেম, তুমি হয়ওনাকো কভু ব্যক্ত,
হে সুন্দর, তুমি মৃত্যুরে করও মুক্ত!!