♣ পাতাবাহার ♣
                
পাতাবাহারটা পাঁকে পোঁতা আছে ,
আমার গণিতের ছেঁড়া পাতার টুকরো গুলো
উড়ে উড়ে জীবনটার অংকের হিসাব  খুঁজছে ,
আমাদের পরিবেশের খোলা পাতাটায় তখনও কিছু অক্ষর জ্বল জ্বল করছে, লেখা আছে  ‘ সুস্হ সমাজ  গঠন ’,তার ওপরে ছিঁটে ছিঁটে রক্তের ছোপ । আর Butterfly টা বন্ধ চোখের পাতায় বন্দী হয়ে আছে, তার ওপর মাছি জমাট বাঁধা রক্ত চেটে চেটে খাচ্ছে,  পিঁপড়েগুলো মাংস।
স্কুল থেকে দেওয়া জুতো জোড়ার একটা পাট বনের কাদায় আর একটা আলের ওপারে ।  সাদা মজাগুলো  কালো হয়ে চিটে আছে, রাস্তা থেকে ঝুলতে থাকা ছোট্ট ছোট্ট পা দুটোতে। স্কুলের সাদা নতুন  জামাটা ছিন্ন  বিছিন্ন  হয়ে পাশে পড়ে আছে , আর নীল ফ্রকটার মাঝ বরাবর ফালা ফালা খন্ড গুলো থেকে রক্ত চুঁইয়ে কাদায় পড়ছে । পাশে পড়ে থাকা রডটা ,ইঁটগুলো যেন মনে হচ্ছে রক্তে স্নান করেছে । ব্যাগ ,জলের বোতল ,পেনসিল বক্স ,রং পেনসিল সব ছড়িয়ে  ছিটিয়ে কাঁচা রাস্তায় ,মাঠে লুটোপুটি খাচ্ছে।
“ ওরে ওদিকে কেউ যাসনা ,,,একটা লাশ পড়ে আছে ,ঐ গ্রামের চেনা  রাস্তাটা দিয়ে, ন বছরের ফুটফুটে  মেয়েটা রোজ স্কুলে যেত ,আ,,,হা ,,,রে।"
শুধু ব্যাগ থেকে ছিঁটকে পড়া ড্রয়িং খাতাটায় স্কুলে আঁকা সেদিনকার ছবিটা তখনও অক্ষত । ছবির রঙে  তখনও ,খোলা নীল আকাশে ওঠা সূর্যের নীচে একটা বাচ্চা মেয়ে নাচছে। তার চারপাশে  কত পাখি , কত প্রজাপতি  খেলছে , নাচছে ।  ফুলগুলো সব হাসছে ওদের দেখে। ওটাই হয়তো ছিল ঐ শিশুটির ভয়ঙ্কর মৃত্যুর আগের জীবন দর্শন অথবা ওর ছোট্ট  চোখের স্বপ্ন । আর পূরণ হল না এজীবনে। আঁকা পাতাটা রঙিন রয়ে গেল ঠিকই শুধু  তার থেকে স্বপ্নগুলো তলিয়ে গেল । আঁকাটার নীচে কাঁপা কাঁপা হাতের লেখায় কবিগুরুর দুটো লাইন লেখা , “ আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি ” ।