প্রতিটি শুক্লাপক্ষের পূর্ণমাসী ত্রিযামার কাকজ্যোৎস্নায়
জীবনের সাথে মৃত্যুর দেখি, সে কি দুর্নিবার অবৈধ সহবাস।
নিজের মন প্রান চেতনা দিয়ে ভালবাসি যাকে
সে বিষাক্ত নারী,
ব্যাভিচারিণী প্রতিরাতে আমাকে ধোকা দিয়ে যায়;
আমার গভীর গোপন প্রনয়ী,     মৃত্যু!
হাসপাতালের মেঝেতে বিনা চিকিৎসায়,
আর ডাক্তারের- চশমখোর অর্থলোভী বিদ্যায়
হাত ধরাধরি করে, আমার প্রেমিকা;
মৃত্যু!
কেমন পরপুরুষের সাথে জনসমক্ষে সহবাস করে।
খোলা চোখে সবাই তাকিয়ে দেখে, মনেহয় উপভোগ করে,
মৃত্যুর স্বাদ,
যেন স্বর্ণকেশী বিদেশিনির নীল চলচ্ছবি।
মাঝে মাঝে ঘরের আগোল তুলে কাঁদি! কাকে ভালোবাসি?
সে কোনো এক নারী না কি শরৎ চন্দ্রের ভাষায় 'মাগি';
তার শরীরের এত ক্ষিদে, মিলন করে যত্রতত্র সবার সাথে।
নারী পুরুষ নির্বিশেষে, এমন কি পশুপাখি!
পশুর মত পশুর বিছানাতে পাশবিক সঙ্গম।
এখন ঘনঘোর আঁধার যামী, আশায় বুক বেঁধে থাকি
কৃষ্ণপক্ষের প্রথমা অমাবষ্যায় আমার মঞ্জিকা প্রেমিকা-
হয়ত প্রতিদিনের দুর্বিসহ যৌনতা থেকে মুক্তি দেবে!
সত্যি দেবে কি-
আমলাশোল, জঙ্গলমহল, গাজলডোবার চুড়ান্ত দারীদ্রসীমার নীচে
বাসকারী মানুষগুলোকে। প্রতিনিয়ত আমার;
প্রেমিকার উন্মত্ত কামকেলীর শুনেছি শিৎকার,
আর শুনি সে রতিক্রীড়ায় আর্ত মানুষের চিৎকার।
সে কি আর,          বিলোবেনা দেহখানি তার!
ক্যান্সার, আর্সেনিক আক্রান্ত     মরিচঝঁপির সর্বশান্ত
           মানুষ গুলর কাছে।
এর পরও যদি সে না আসে আমার নীড়ে,
             যদি আমি তালাক দেই তারে!
নারীবাদীরা যেন দোষ না দেয় আমারে,    তারা যেন না বলে
               ' পুরুষেরা শুধু সুযোগ সন্ধানি। '
আমি নবারুন ভট্টাচার্য হতে পারিনি, তাই আমি বলতে পারিনা
               ' এই মৃত্যুর উপত্যকা আমার দেশ না। '
আমি ঝরাপাতা ঞ্জানসমুদ্র থেকে এক ফোঁটা জল নেওয়ার সাধ্য নেই-
    তাই আমার রুক্ষ ত্বক দিয়ে তাই ঞ্জানসাগরের বাস্প শুশে নেই।
আর শুধু বলে যেতে চাই, ' এই মৃত্যুর উপত্যকা আমার আতুড় ঘর,
                        এই মৃত্যুর উপত্যকা আমার ফুল শয্যার খাঁট বাসর।'