.         অস্তগিরি পেছনে রাখি
             সূর্য গেছে পাটে;
   ক্ষণিক আগে, গায়ের শান্ত ছায়াখানি
            ছিল পুকুরে ও মাঠে।
      চারণ শেষে গরু-বাছুর ফিরছে
             বাড়ির আলপথে;
        উঠোনে আসি গৃহস্তরে দেখি
           কিছু কহিল যেন ইঙ্গিতে।
         কর্তা তখন খুদ-কুড়ো আনি
           রাখিলে বাথানের টাবে।
     কুড়োর সাথে দেখিয়া কাঁঠাল-ভুতি
         শুরু করলে তারা গুঁতোগুতি।
    এমন সময় দাওয়া-হতে বৃদ্ধ মাতা
             কহিলা চিত্কার করি-
            সরে আয় খোকা,ওরে!
       সুমত্ত গরু কখন লইবে তোরে
            শিং'এর উপরে তুলে !
           মায়ের কথা শুনে ছেলে
      দাঁড়ালো এসে  উঠোনের পরে;
             ভাবলে-  পরাবে দড়ি
           গরুর খাওয়া হলে পরে।
        বাড়ির গৃহিনী সুশীলা তেমনি
              টানিয়া দীঘল বাস
      তুলসী তলায় এলে,উলু দিতে
              ধরিয়া সুদীর্ঘ শ্বাস।
  ছোট্ট মেয়েটি তার জোড়-হাত বুকে রাখি
            কিবা চাহিল মুদি আঁখি;
         উলু-ধ্বনি তখন সন্ধ্যা-রাগে
                 গেল ঢেউ তুলি
         এ পাড়া হতে ও পাড়া ছাড়ি।
         খাকী-রাঙা হাঁস পরনে ঘুঙুর
        দুয়ারের কাছে ছিল অপেক্ষায়  
   কিশোরী মেয়েটি আসি লইলো তারে
             খড়-বিছানো ধামায়।
           সন্ধ্যা তখন নেমে গেছে
             সমস্ত ঝিঙের ঝাড়ে;
          শত ঝিঙে যেন শত সখী
                হলুদ শাড়ি পরে;
            বাহারি কথায় মত্ত তারা
              বাথান-বেড়ার আড়ে ।
      জোনাকি তখন ঝুপ-ঝাপ হতে
               ক্ষীণ পায়ে এসে
      উড়াল দিল করলা মাচার শেষে
            আঁধার বনে, মনে হ'ল-
         মিটি-মিটি চোখে চাহে কেহ ।
       কেশরে ঢাকা পারিজাত অস্ফুটে
           চাহিল ছাঁইচিতে তনু রাখি;
           গন্ধ এলাতে তখনও তার
           ছিল কিছুটা সময় বাকী।
   পল্লীর আঁধারে  ডুবিয়া কোন এক কবি
    মানস- পটে ধরিল সে অপরূপ ছবি;
              জীবন-দেবতার সনে
            তখনই রাখিল মনে মনে
              তাহার সরল বিনতি-
     যুগযুগ ধরে থাকে যেন এ আলাপনে
               মানুষ আর প্রকৃতি !


(রচনাকালঃ ১২ ও ২০ মে, ২০১৯।)





.