কোরাইশরা কিছু করতে না পেরে মাথায় ভেঙ্গে পড়ে আকাশ
লক্ষ্য তাদের তখন মুহাম্মদ
রাগে ক্ষোভে সাফা পাহাড়ে ধ্যানমগ্ন মুহাম্মদের কাছে আবুযহল উপস্থিত
মুখ থেকে নির্গত হয় কথার বিষ, মুহাম্মদ থাকে নির্বিকার
ধৈর্য হারা হয়ে আবুযহল পাথর তুলে মস্তকে মারে ঢিল
রক্তে ভেজা শরীর নিয়ে চুপে চুপে ঘরে ফিরে যায় মুহাম্মদ
দুর থেকে দেখে এক ক্রীতদাসী, দুঃখে বুক ফেটে যায় তার
হামজা তখন শিকার থেকে ফিরছিল
ক্রীতদাসীর মুখে ঘটনা শুনে বীর-কেশরী হামজা গর্জে উঠল
‘কার এত স্পর্ধা! আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের গায়ে দেয় হাত!!’
রাগে উন্মাদ হামজা খুঁজে পেয়ে গেল আবুযহলকে
ত্রুদ্ধ কণ্ঠে বলে, ‘তুই কেন হাত দিয়েছিস মুহাম্মদের গায়ে?
জানিস না, সে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! ধর্মের জন্য!
তবে আমিও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলাম। আয় আমার কাছে!’
স্তম্ভিত আবুযহল! স্তম্ভিত কোরাইশ-গন!! কি হয়ে গেল।

একদিন কোরাইশরা ওতবাকে পাঠায় দূত হিসাবে
এসে সে প্রশ্ন রাখে, ‘কি চাও মুহাম্মদ? নেতৃত্ব, সুন্দরী নারী?’
মুহাম্মদ বলে, ‘তোমরা আমার একহাতে সূর্য অন্য হাতে চাঁদ এনে দিলেও
আমি সত্য-ধর্মের কথাই বলব তোমাদের’।
মুহাম্মদের কণ্ঠে সুরা হা-মীম শুনে চিন্তিত হয়ে পড়ে সে!
তবে কি তারা ভুল পথে আছে? ভাবে ওতবা।
ওদিকে অতি উৎসাহে কোরাইশরা ওতবার পথ চেয়ে আছে
ওতবা এসে বলে,‘মুহাম্মদ ফিরিয়ে দিয়েছে!’
আর আমার কথা শোন, মুহাম্মদকে যা খুশি করতে দাও
কি লাভ অনর্থক গণ্ডগোলে?’
ওতবা, তোমার কি হয়েছে? তুমিও পাল্টে গেলে; বলে, কোরাইশগন।

আবার, একদিন তারা সভার মাঝে ডেকে নিয়ে যায় মুহাম্মদকে
সকলে একসাথে বলে, ‘যদি পয়গম্বর হও চমৎকার দেখাও
মুহাম্মদ নির্ভয়ে বলে
এসব আল্লার ইচ্ছা, এসব করতে আমি আসিনি
আমি এসেছি সত্য-ধর্মের বানী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।
ক’দিন পর গোপনে জরুরী সভা ডাকে আবুযহল
বলে, মুহাম্মদের জন্য আমাদের সম্মান,ধর্ম আজ ভূলুণ্ঠিত!
কে আছ কোরাইশদের বীর! তার মাথা কেটে আনার জন্য প্রস্তুত!!
বিনিময়ে পাবে পুরষ্কার; একসহস্র স্বর্ণমুদ্রা,একশত উট।
খোলা তরবারি হাতে ওমর উঠে দাঁড়ায়; এ আর এমন কি!
উমর চলছে মুহাম্মদের মৃত্যু দূত হয়ে, হাতে খোলা তলোয়ার
সভাসদদের উল্লাসিত মুখরিত স্লোগান তার কানে সুধা ঢালছে।

পথিমধ্যে বন্ধু নঈম তাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘এই বীর বেসে কোথায় চলছ হে!’
উমর বলে,‘মুহাম্মদের মাথা কেটে আজ আনবই আনব!’
নঈম বলে, আগে নিজের ঘর সামলাও পরে মুহাম্মদ।
ক্ষোভে সে ফিরে যায় বাড়ি, কিসের যেন মৃদু গুঞ্জন শোনা যায়
ফাতেমা, সাঈদকে  ক্রুদ্ধ হয়ে ডাকে! কি পড়ছিস তোরা’?
‘কিছু না’ উত্তর দেয় ফাতিমা
ওমরের মাথায় যেন আগুন জ্বলে, সাঈদকে শুরু করে প্রহার
এগিয়ে আসে ফাতিমা; আঘাতে আঘাতে সেও জর্জরিত
বোনের তাজা রক্ত দেখে ওমরের ফেরে হুস, সে কি অমানুষ?
হতচকিত হয়ে কণ্ঠে বিনয় ঝরে পড়ে, তোমরা কি পড়ছিলে দেখাও আমাকে
‘পবিত্র হয়ে এসো’, বলে ফাতিমা।
ওমরের বাড়ে কৌতূহল কি সেই জিনিস!
গোসল করে ওমর পড়তে শুরু করে
তার আত্মা কেঁপে কেঁপে ওঠে, ধরে আসে গলা!
ভাবে, এটা নিশ্চয় আল্লাহর বানী।

খোলা তরাবরি নিয়ে ছুটে যায় মুহাম্মদের কাছে
ওমরকে দেখে ভীত সাহাবীরা মুহাম্মদকে ঘিরে ধরে
তার হাতের তরবারী আর মুহাম্মদের ঐ মাথার দিকে ওঠে না
পায়ের তলে ফেলে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকে সে
ওমরের ইসলাম গ্রহণে দুরের পাহাড়ে প্রতিধ্বনি ওঠে ‘আল্লাহু আকবর’।
একদিন ওমর প্রস্তাব রাখে,‘মরি বাঁচি একবার কাবা ঘরে নামাজ পড়তে হবে!’
সকলের মনে লাগে দোলা
দুই কাতারে বিভক্ত শোভা যাত্রা! সাফা পর্বত থেকে শুরু।
একটাতে সমানে ওমর,অন্যটিতে হামযা, মাঝখানে মুহাম্মদ
আল্লাহু আকবর ধ্বনি মুখরিত গিরি-প্রান্তর! অবাক চোখে দেখে জনতা
একি দু:সাহস দেবদেবীর সামনে নামায!!