রাত যাচ্ছে বেড়ে শুয়োপোকার মতো গুটিসুটি মেরে,
কোকুন ফুড়ে সাতরংগা মথ, ফড়ফড় করে ঊড়ে যাবে বলে,
মেলে আছি চোখ,
দেয়ালেরা চারিদিক থেকে এগিয়ে আসছে ক্রমাগত,
ভয় হয়, বাঁচব তো আমরা?
ক্রেনের মতো টেনে নেবে নাতো সবাইকে এই সর্বগ্রাসী অসুখ!
হয়ে যাবে ভোর, লেট করে আসা স্টেশন কাপানো ট্রেন,
কাঁপাবেনা আজ কোন বন্দর,
তোমার যে চোখে দেখেছি নীল আলো গাড় ভরদুপুরে,
দেখা কি পাবো তার?
ডিসেম্বরের শীতে, জুলাইয়ে গরমে, আগের মতোই বারবার!
হারিয়ে যেয়োনা তুমি হুট করে,
শুনেছি অনেক মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, কালো ছায়া ঢাকছে অলিগলি,
ক্ষুধার্ত দানব দিচ্ছে উকি প্রতিটি শহরে,
তবু হারিয়ে যেয়োনা তুমি, বুকে নিয়ে অমৃত আত্মার জোর,
টিকে থেকো! বেঁচে থেকো! হারিয়ে যেয়োনা হুট করে!


আমিই টিকবো তো?
ছেড়া মানচিত্রের মতো এক জাহাজ ভরা সংশয় নিয়ে,
মনের গভীরে পার করছি নিদ্রাহীন অকূল সাগর,
তবুও হারিয়ে যেয়োনা তুমি, আঁকড়ে ধরো আমাদের শেষ ভূমি,
মৃত্যুঞ্জয়ী প্রত্যয়!
তন্দ্রা পালিয়েছে আরশোলাদের সাথে দেয়ালের আড়ালে!
চাঁদটাও বন্দী কোয়ারেন্টাইনের খাঁচায়,
তার আলোর কি হাঁসফাস লাগেনা?
দুমদাম করে কেঁপে উঠে মাটি, ভূমিকম্প তো থামেনা,
অথবা এ মাটির কাঁপন নয়,
আমাদের নাগরিক ভয় ভূলুণ্ঠিত বহুতল দালানের মতো ধ্বসে পড়ছে,
তারই শব্দ শুষে নিচ্ছে সবটুক সুখ, নিংড়ে নিচ্ছে শেষ নির্যাস!
তোমারও কি ঘুম নষ্ট হয়েছে?
আমার মতো ভ্রষ্ট সময়ে!
শুকিয়ে গিয়ে ঝরা সিমেন্টের মতো ফুলদানির মৃত পুরাতন ফুল,
ফ্যানের বাতাসে ঝুরঝুরে বালি হয়ে ভেসে যাচ্ছে,
তোমার কথা এখন অনেক বেশিই মনে পড়ছে,
নিশ্চয়ই তুমিও জেগে আছ মুড়ি দিয়ে অনিশ্চয়তার চাদরে,
এমন চাপা ভয় নিয়ে হায় কে ঘুমাতে পারে!


এ শহরে কতদিন তাজা ফুল বেচাকেনা বন্ধ,
শেষ হয়ে গিয়েছে যুগলের আড্ডা,
কটকটে হলুদ গেন্দাফুল, কচি সাদা গোলাপের শরীর নিঃসৃত পানি,
তার সাথে মেশা সুগন্ধ চুইয়ে বহুদিন ফুটপাতে পড়েনা,
ক্ষরার মতো ফেটে চৌচির তাই এই শহরের অন্তর!
বালুমাখা রোদে পাগলা কিসিমের হাটাহাটি,
শপিংমলের কাচে নিজেদের দেখে মিছামিছি খুনসুটি,
কিছুই কি আর আগের মতো করে করা হবেনা,
এতো ভেবে ভেবে ঘুম তো কিছুতেই আর আসেনা,
তন্দ্রা গিয়েছে নির্বাসনে, দেয়নি সামান্য কোন ঘোষনা!
শুধু তোমার হাসির কথা এখনো পড়ছে মনে,
বাঁকা হাসি ঠোঁটে সরু চাঁদের মতোন,
আরো একবার তোমাকে দেখার সুযোগ কি মিলবে না,
প্লিজ, হুট করে তুমি হারিয়ে যেয়োনা!