তোমার পায়ের কাছ থেকে দু'মুঠো মাটি তুলে নিয়ে
আলতো করে মুখের সামনে তুলে ধরলাম।
আমার বাম হাতের ভাগ তোমার চোখের জলে ভিজিয়ে নিচ্ছি,
আর ডান হাতের ভাগ আমার বুকের রক্তে-
চোখ ফেটে বেড়িয়ে আসছে গত সাত দিন ধরে।
দু'হাতের মাটি এক করে রেখে দিলাম তোমার কিনে দেয়া ঝোলা ব্যাগে,
আর একটুখানি বেঁধে দিলাম তোমার আঁচলে;
তোমার আবদারে রাতভর এঁকে দিয়েছিলাম শাড়িটা, মনে পড়ে?
আজ তুমি যাবে উত্তরে, আর আমি যাবো- যে পথে তোমার চিহ্ন নেই!
খানিক পরেই তোমার বেঁধে দেয়া দু'ঘন্টা সময় শেষ হবে।
চলো, আমরা রোজকার মতো ভাগাভাগি করে এক প্লেট ফুচকা খাই,
অথবা চলো রিকশায় চরে পুরো টিএসসি, শাহবাগ চক্কোর মারি।
যেনো কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব করে,
পলাশির বিরিয়ানি দিয়ে আজকের লাঞ্চটা সেরে আসতে পারি।


খুব আগ্রহ ভরে তোমার মুখের দিকে তাকালাম,
দেখলাম দুটি চোখে শুধু বিদায়ের আকুতি!
তবে তাই হোক, যেতে যেতে তোমার প্রিয় রবিঠাকুরের গানই আমরা ভাগাভাগি করি।
দু'ঘন্টা শেষ হতে আর মাত্র চার মিনিট বাকি,
চলো, একটু লেপটে বসি আগের মতো!
মাঝখানে ইয়ারফোনে রবিঠাকুর এসে,
আমাদের বিদায় লগ্ন কিছুটা আনন্দময় করে তুলুন!


__________________________________


"তখন পাতায় পাতায় বিন্দু বিন্দু ঝরে জল
শ্যামল বনান্ত ভূমি করে ছলছল।
তুমি চলে গেছো ধীরে ধীরে সিক্ত সমীরে,
পিছনের নিপবীথিকায় রৌদ্র ছায়া যায় খেলে।
এসেছিলে তবু আসোনাই জানাইয়ে গেলে...
সমুখেরও পথ দিয়ে পলাতকা ছায়া ফেলে
এসেছিলে তবু আসোনাই জানাইয়ে গেলে..."


©সুব্রত ব্রহ্ম
৩০ অগাস্ট, ২০১৬ইং
ময়মনসিংহ।


"এসেছিলে তবু আসোনাই জানাইয়ে গেলে" এর বাণী কবি গুরুদেব"।