আড়িয়ালখাঁর পাড়ে বসে আঁকি মায়ের ছবি,
আমি শিল্পী নই, আমি শখের কবি।
দেখো চেয়ে এই আড়িয়াল খাঁ নদী,
নদীর বুকে বইছে জোয়ার
আর পালতোলা ওই নৌকা সারে সারে;
অস্ত বেলায় একলা বসে আপন মনে
মন ভুলানো দৃশ্য দেখি নদীর পারে।


আমরা যাদের এই দেশেরই মানুষ মানি,
ভাবতে গেলে এই ছবিটাই আনবে টানি।  
মনের মাঝে ওই ছবিটাই দিবারাত্রি আঁকি,
এঁকেও যেন আর মন ভরে না,
মনে ভাবি অনেক কিছুI রয়ে গেল বাকী।


নদীর পারে ওই যে ধু ধু মাঠের পর মাঠ,
সোনার ফসল ফলায় চাষী
পরিহিত নানান গাত্র বাস।


কেউ বা ফেরে মাঠ থেকে, কেউ বা যায় হাটে,
কেউবা হাতে ব্যাগ বয়, কেউবা মাথায় বোঝা,
চাকরি জীবন যেমন তেমন,
গ্রাম্য চাষির জীবন যাপন মোটেই নয় সোজা।


দেখে দেখে ভাবতে ভাবতে
কেটে যায় দিনের পরে দিন,
হৃদয়ের মাঝে বাজে শুধুই,,
মায়ের ভালোবাসার বিন।


নদীর মাঝে খোট-জালে ইলিশ মাছ ধরে,
মাছুয়ারা ডিঙ্গি বেয়ে এবার ফিরছে ঘরে।
ভাটির টানে নৌকাগুলো তরতরিয়ে যায়,
নদীর বুকে মাঝিরা ওই ভাটিয়ালি গায়।


নীল আকাশে ভাসে ওই সাদা মেঘের ভেলা,
অস্ত বেলায় নদীর বুকে সোনালী ঢেউয়ের খেলা।
পাখিরা সব ফিরছে কুলায় যেথায় যত ছিল,
গানের সুরে কিচিরমিচির যেন হৃদয় খুলে দিল।


এমন দৃশ্য কে এঁকেছে, কোথায় পাবে তুমি?
শৈল্পিক সুধার শিল্পী রূপ এইতো আমার জন্মভূমি।
গাছ-গাছরা আগান-বাগান বাড়িঘরে ভরা,
সবুজ ঘেরা প্রকৃতি মোর মায়ের আদর ঘেরা।
এমন দৃশ্য আর পাবে না কোন শিল্পীর কাছে,
এই অপরূপ দৃশ্য রাজি আমার মায়ের কাছে আছে।


মায়ের বারো মাসের বৈচিত্র রূপে,
বুক ভরে যায় মন ভরে যায়,
এমন মায়ের সন্তান মোরা;
রূপ দেখতে আর কোথায় যাব?
মায়ের ভালোবাসার শৈল্পিক রূপ,
বুকের মাঝে আছে মোদের ধরা।


৮ই মাঘ, ১৪২৫,
ইং ২৩/০১/২০১৯,
বুধবার, সন্ধ্যা ৫টা। ৬৭২ তাং ১০/০১/২০১৯।