বর্ষাকালে চলতে নাও আর শুকনোকালে পাও;
এমনই চিত্র দেখবে বন্ধু, যদি হাওরাঞ্চলে যাও।


বিশাল জলরাশি দিতে পাড়ি, যদি নাওতে ভাসি;
একটু সময় পেলে তবে , দু'চোখ জুড়িও আসি।


লতা-গুল্ম বৃক্ষরাজি, আছে হেথায় সারি সারি;
তরী চড়ে হাওর বুকে, সাবধানে পথ দিও পাড়ি।


মৎস্যকূল আর জলজ প্রাণি, সাথে হংস-মিথুন;
হাওর জুড়ে ডুবোচর, হিজলের বন, সৃষ্টি নিপুণ!


হাওর বুকে আছে যত বাড়িঘর, লাগে যেন দ্বীপ;
রাতের শোভা অঙ্গে বাড়ে, জ্বললে সেথা প্রদীপ।


জোৎস্নারাতে হাওর জলে, চাঁদের আলো ঘেঁষে;
রূপ-সৌন্দর্য অনেক বাড়ে, নয়ন জুড়াবে এসে।


শুকনোকালে খাঁ খাঁ হাওর, বিলবন্দি মিঠাজল;
হাওরপথে চলতে তখন, পায়ে থাকা চাই বল।


রবিশস্যে সোনালী ধানে অপরূপ হাওরের মাঠ;
অকাল বন্যায় কখনও আবার রিক্ত চাষির পাঠ।


ঋতু বৈচিত্র্যে পাল্টে যেমন হাওরের রূপলাবণ্য,
সকাল-দুপুর-সন্ধ্যাবেলা, দেখা যায় রূপ অনন্য!


হাওর পাড়ের হাওরজীবিরা, বেঁচে থাকে সংগ্রামে;
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, কিনে নেয় জীবনের দামে।
_________________________
বড়লেখা, মৌলভীবাজার; ২৬ আগস্ট ২০২০।