আমাদের পাড়ার হরিকাকা
সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও
চারটে ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালো করে খেত পেত না
পরতে পেত না থাকতে পেত না ;
আমি এসব দেখে ছোটবেলায়
মুড়ি চিবোতে চিবোতে খুব ভাবতাম
আমার যদি অনেক টাকা থাকত
আমি এদেরকে কিছু দান করে দিতাম।
আমাদের গ্রামের শেষ মাথায় মহীমবাবুর বাস
একশ বিঘে ধান জমি বড় বাড়ি বড় গাড়ি,
আমার খুব রাগ হত
আমি মাঠে বাবার সাথে ধান কাটতে কাটতে ভাবতাম
এরা সব লুটেপুটে নিচ্ছে তাই আমরা খেতে পাই না
বড় হয়ে আমি বরিনহুডের মত কিছু একটা করব।


এখন আমি পড়াশুনা করে গ্রামের বাইরে
হরিকাকার মত আরও অনেকে
আজও হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও
ভাল করে খেতে পায় না, পরতে পায় না, থাকতে পায় না।
আমার যা হয়েছে কিছু পয়সা কড়ি
তাতে মনে হয় অনেক কম,
তাই দান করব নাকি করব না
আর কতজনকে করব? কিংবা কিভাবে করব?
ভাবতে ভাবতে এখানকার মহীমবাবুদের পাশে বসি
দূরে মাঠে ধান ক্ষেত ধান চাষ দেখি
অফিস ম্যানেজমেন্ট ছেড়ে
এরকম অনেক কিছুর আর খবর রাখা হয় না।
কেয়ারটেকারের হেফাজতে ঘর ছেড়ে দিয়ে
গাড়ি করে বেরিয়ে পড়ি ট্যুরে।


এরকম শহর গ্রামের মাঝখানে
আমি এখন অনেক কিছু ভাবি
আর ভাবি আর ভাবতেই থাকি
আমার জীবনের রঙ
আমাদের জীবনের রঙ্গমঞ্চ।