কবি আজাদ বঙ্গবাসী আলোচনা সভায় লিখেছে, আমি নাকি তার কবিতা চুরি করেছি! তার উত্তরে আমি বলছি- আপনারা যারা এ লেখার নানা মন্তব্য প্রকাশ করেছেন, তারা একটু বিশ্লেষণ করুন, আজাদ বঙ্গবাসীর আসল নাম আবুল কালাম আজাদ। বঙ্গবাসী নামটা আমিই ওকে দিয়েছিলাম। আমি আর আজাদ একই কলেজে একই ডিপার্মেন্টে পড়তাম, এমন কি দীর্ঘদিন একই রুমে থাকতাম। আমি যখন নিয়োমিত পত্রিকাতে কবিতা প্রকাশ করতাম তখন সে সবেমাত্র কবিতা লেখা শুরু করেছে। দু'একটি করে কবিতা লিখে আমার কাছে আসতো আমি ওটাকে কাট্ছাট্ করে ঠিক করে দিতাম। এটা আজাদ কখনোই অস্বীকার করতে পারবে না। যে কবিতাটি নিয়ে আজাদের মনে প্রশ্ন সে কবিতাটি আমি ০১/০৫/২০০৮ ইং তারিখে লেখেছি। আজাদের কবিতাটি কবে লেখেছে আমার জানা নেই, তবে আমি বুঝতে পারছি না যে আমি ওর কবিতা চুরি করেছি এ কথা বললো কি করে। নীচে আমি দুটো কবিতাই লেখে দিচ্ছ মিলে দেখেনতো ওর কবিতা আর আমার কবিতা এক কিনা? পত্রিকাতে আগে প্রকাশ করেছে বলেই যে আমি ওরটা চুরি করেছি তা কি করে হয়, আমার লেখা দেখে যে ও লেখেনি তারই বা কি প্রমাণ আছে? যেহেতু আজাদ আমি একই রুমে থাকতাম। আজাদ বলেছে, চুরি করে কবি হওয়া যায় না। কবি হতে হলে নিজেকে লেখা যানতে হয়। যদি তাই হয়- তাহলে আমার লেখা ও সুর করা গানের ভিডিও এ্যালবাম বাজারে আছে, আরো একটি এ্যালবামের ভিডিও কাজ চলছে। তবে কি গানগুলোও আমি চুরি করেছি? আমি আর এতো কিছুতে যাবো না, আপনাদের উদ্দেশ্য নীচে দুটি কবিতাই লেখছি-প্রথমে আজাদের,পরে আমার নিজেরটি;

'একজন বৃদ্ধের কথা'
আজাদ বঙ্গবাসী
দিন শেষে ব্যস্ত স্টেশনটা
নিশ্চুপে ঘুমিয়ে পরেছে
শুধু ঘুম নেই কাজের সন্ধানে আসা
এ বৃদ্ধের চোখে।
গায়ে কম জোর ভেবে কাজে নিতে
কেউ চায়নি তাকে,
দু' দিন পার  হতে চলে
বিনামূল্যে টিউবয়েলের ওই
পানি খেয়ে আছে সে।
সে সামান্য পুঁজিতে বেড়িয়েছিল কাজে
কে জানতো বাসের কন্টেকটর
জোর বলে নিবে তাও যে!
ঘরে অসুস্থ্যা স্ত্রী না খেয়ে
সন্তানেরা পেতেছে সংসার
সঙ্গিনী পেয়ে।
ধিক্ সন্তান! ধিক্
লাঠিতে ভর করেই আমি
করবো কাজ ঠিক।


'একজন বৃদ্ধের আকুতি'
ফিরোজ মানিক
অনেক বছর আগে-
বোধকরি; বয়স তখন কুড়ি।
দেখতাম-
কলেজ থেকে ফেরার পথে
মানুষ বেচা হতো হাটে।
তবু-
কিছু মানুষ থেকে যায়
যাদেরকে কেনা দায়,
এসেছে দূর থেকে
বড় আশা নিয়ে বুকে।
এমনই একজনের কথা বলি;
লোকটি বৃদ্ধ অতি,
ঘরে তার অসুস্থ্য স্ত্রী
সন্তানেরা পেতেছে সংসার
যে যার মত করি।
কেনা বেচা শেষে যখন
সন্ধ্যা দিল পার, লোকটি দেখে-
ছিল যারা সাথে
কেউ নেই তারা আর।
কাঁধ থেকে গামছা নিয়ে
মুছে মুখের ঘাম,
ভাবে-
আমার মত বৃদ্ধের বুঝি
নেই সমাজে দাম।
আসলে কি তাই!
বৃদ্ধ বলে সমাজ তাকে
দেবেনা কোন ঠাই?
এখন আপনারা বিবেচনা করে বলেন তো, আসলে কি বিষয়টা?