ঘরের চালে টাঙানো একফালি আকাশ,
যেখানে প্রতিদিন ঝড়ে পড়ত ছোট্ট মহাবিশ্ব।
মা ছিলেন বর্ণহীন আগ্নেয়গিরি—
ভাঙা হাঁড়িতেও রোজ দুপুরে ঘটাতেন বিস্ফোরণ ৷
বাবা ছিলেন চুপচাপ, পুরনো এক পেন্ডুলাম,
সংসারের সময় মাপতেন নিঃশব্দে।
যেদিন জুটত না ভাত,
মা হাসিমুখে মেঘ ছেঁকে এনে দিতেন
পাউরুটি , মাংসের ঝোল।
আমরা ভাইবোনেরা ছিলাম ধুলোর মতো কয়েকটা উপগ্রহ,
ঘুরে বেড়াতাম মার মহাকর্ষ টানে।
যেদিন কিছুই থাকত না ঘরে,
মা বোঝাতেন কচুশাকের গুণাগুণ,
জল গরমের ভৌতরসায়ন,
আর কীভাবে এক মুঠো চালে
খেলা করে তিন বেলার ছায়া ৷
মায়ের রান্নাঘর তার নিজস্ব পৃথিবী,
যেখানে কাঠ আর কান্না পুড়তো একসাথে ৷
জ্যোৎস্না আর লঙ্কার ঝাল দিয়ে
রাঁধা হত অদৃশ্য রাতের খাবার।
আমরা মাকে লুকিয়ে
এক পেট জল খেয়ে তুলতাম তৃপ্তির ঢেঁকুর।
এইভাবেই, আমরা বড় হয়েছি—
হয়েছি সংসার বিজ্ঞানী,
আর মায়ের রান্নাঘর পড়ে আছে এখনো
নীরব এক ল্যাবরেটরি হয়ে।