মনোলীনা,
আমার ছায়াটা বোধহয় মরেই যাবে,
প্রতিদিন একটু একটু করে আমার ছায়াটা মরে যাচ্ছে।
আমার সাথেই ছিলো সারাজীবন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাবল এম, এ করা ছায়া,
ভালো স্কুল,কলেজে পড়েছে,
তুখোড় বক্তা ছিলো একসময়,
ভালে বিপ্লবী কবিতাও লিখতো মাঝে মাঝে।


ইদানিং সে শরীরের ভিতর থেকে বের হতেই চায়না,
লজ্জায় আর ভয়ে কুকড়ে থাকে সারাক্ষন।
ছায়াটা বোধহয় নিজেকে মারছে আমার অজান্তে,
আমাকেও একদিন খুন করে ফেলতে পারে আমারই ছায়া।


চাকুরীর অভাবে প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেলে বোধহয় ছায়ারাও আত্মহত্যা করতে চায়।
প্রেমিকা নিয়ে কফি হাউজে কফি খেয়ে
বিল দিতে না পেরে ছায়ারাও বিষন্নতা ভুগে।
অনেকদিনের বেকারত্বে প্রেমিকের
অহং এর সাথে ছায়াও কুঁজো হয়ে যায়।


মনোলীনা,
আমি সেদিনই ভালোভাবে টের পেলাম আমার ছায়া মরে যাচ্ছে,
যেদিন আমি তোমার বাড়ীর বারান্দার উল্টোদিকের ল্যাম্পপোষ্টের নিয়ন আলোর নিচে আমার লম্বা একটা ছায়া নিয়ে দাড়িয়েছিলাম।
একবার দেখতে চেয়েছিলাম তোমাকে,
বিয়ের পর কেমন আছো?
অনেকক্ষন অপেক্ষায় থাকার পর একবারও তোমার দেখা পাইনি,
তীব্র হাহাকার নিয়ে ফিরে আসার সময় ছায়াটাকে ভুলে ফেলে এসেছিলাম,
অনেক কষ্ট হয়েছিলো ছায়াটার পথ খুঁজে  আমার কাছে ফিরতে,
তারপর থেকে ছায়াটা গোপনে লজ্জায় মরে যাচ্ছে।


এরপর থেকে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর থেকে আমি দাড়িয়ে থাকি,
একই ল্যাম্পপোষ্টের নিয়ন আলোর নিচে আমার ছায়াটাকে নিয়ে।
যে’দিন প্রথম তোমাকে বারান্দায় দেখলাম,
তুমি হাসতে হাসতে স্বামীর কোলে ঢলে পরছিলে বারবার,
সেদিনই আমার ছায়াটা
নিজেকেই খুন করে ফেললো
বুকের তীব্র হাহাকারে।
আমি দৌড়ে পালিয়ে আসলাম
খুন হওয়ার আগেই।


মনোলীনা,
একবার বান্দায় দাড়িয়ে নিচে তাকিয়ে দেখো,
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাবল এম, এ করা আমার ছায়াটা,
ল্যাম্পপোষ্টের নিয়ন আলোর নিচে মৃত পরে আছে অনেকদিন হলো।
———————
রশিদ হারুন
০৫/০৬/২০১৯