Voice সাহিত্যচর্চার একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গন l
সেখানে আমার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে l আসরের কবিবন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম l


...........................voice.......................
মুক্ত প্রাঙ্গণে তোমার আমার কণ্ঠস্বর
-------------------------------------------------------


🌹☘️ *সাক্ষাৎকার* ☘️🌹


আজ আমরা মুখোমুখি হয়েছি রায়গঞ্জ তথা বাংলার বিশিষ্ট ও সম্মানীয় কবি শ্রদ্ধেয় শ্রী যাদব চৌধুরী মহাশয়ের। সাহিত্য অঙ্গণে ইনি তাঁর একের পর এক ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রভৃতি লেখমালা সৃষ্টির মাধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। তিনি সত্যের পথে ও সাহসিকতার সাথে নিরলস সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে জাগিয়ে তোলেন গণচেতনা, জন-জাগরণ, কামনা করেন বিশ্ব মানবের কল্যাণ ও উপভোগ করেন জীবনে পরম আনন্দ-সুখ।  


☘️সম্পাদক- শ্রদ্ধেয় কবি আপনাকে voice এর মুক্ত প্রাঙ্গণে স্বাগত।


🌹কবি- ধন্যবাদ।


     ----☘️প্রশ্নমালা☘ -----


☘️ সম্পাদকঃ সাহিত্যের অঙ্গনে কবে থেকে প্রবেশ?


🌹কবিঃ স্কুল জীবনের শেষ পর্ব থেকে l ১৯৭৬ সালে একাদশ শ্রেণীতে পড়তাম রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলে l তখনই প্রথম ছোটগল্প প্রকাশিত হয় রায়গঞ্জ থেকে প্রকাশিত 'ইঙ্গিত' সংবাদ ও সাহিত্য পত্রিকায় l গল্পের শিরোনাম ছিলো 'মিনির গল্প' l মালদা কলেজে ছাত্র ছিলাম l সেই সময় ১৯৭৭-৭৮ শিক্ষাবর্ষে মালদা কলেজ পত্রিকায় প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় l পরে ট্রান্সফার নিয়ে  রায়গঞ্জ কলেজে পড়তে আসি l এই সময় রায়গঞ্জে যাঁরা সাহিত্যচর্চা করতেন, তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হই l বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখতে শুরু করি l একক সম্পাদনায় 'অঙ্গন' ও সোমনাথ দাসের সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায় 'অগ্রণী' সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করি l পরবর্তীকালে 'অঙ্গন' পত্রিকা যৌথভাবে সোমনাথ দাসের সঙ্গে প্রকাশিত হতে থাকে l এভাবেই ক্রমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ l


☘️লেখালেখির অনুপ্রেরণা?


🌹কবিঃ ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যপাঠের নেশা ছিলো l স্কুল জীবনেই শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র, বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর পড়তে শুরু করেছি l সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় পাতা নিয়মিত পড়তাম l সন্তোষ কুমার ঘোষের লেখা খুব টানতো l আধুনিক লেখকদের মধ্যে মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় ভালো লাগতো l তাঁর লেখা "কতো অজানারে" বহুবার পড়েছি l 'জন অরণ্য' 'সম্রাট ও সুন্দরী' খুঁটিয়ে পড়েছি l গল্প উপন্যাস যেমন মনকে টানতো, টানতো কবিতাও l নজরুল, সুকান্তের কবিতার ভক্ত ছিলাম l ভালো লাগতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিশু কিশোরদের জন্য লেখা কবিতাগুলো l ভালো লাগার টানে পড়ে গেছি l ভবিষ্যতে নিজেও একদিন লিখতে শুরু করবো এমন ভাবি নি l কিন্তু সাহিত্যের প্রতি এই ভালোবাসা ও অনুরাগই পরবর্তীতে আমাকে লেখালেখির জগতে নিয়ে এসেছে l বলা যেতে পারে সমবেতভাবে এই সমস্ত লেখকেরাই আমার লেখালেখির অনুপ্রেরণা l আর ভাবনাগত দিক থেকে বলতে গেলে বলতে হয় শৈশবের গ্রামজীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতাকে লিপিবদ্ধ করে রাখার তাগিদ প্রাথমিকভাবে আমাকে লিখতে প্রেরণা জুগিয়েছে l


☘️ সম্পাদকঃ আপনি মূলত কোন দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে কলমের তুলি টানেন?


🌹কবিঃ  দৃষ্টিভঙ্গি বলতে আমি জীবনমুখী, বস্তুনিষ্ঠ l জীবনকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি l বহুমাত্রিক জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার এক একটি ঝলক লেখায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি l গল্প, কবিতা কিংবা ছড়া - সবক্ষেত্রে জীবনই আমার মূল উপজীব্য l সরল সাদামাটা জীবনের আড়ালে কতো সব মহান সত্য, চিরন্তন বোধ কাজ করে যায় সেগুলির সন্ধান করি l মানুষ, প্রকৃতি, জীবজগৎ সবকিছু এক মহামিলনের সূত্রে বাধা l সেই সূত্রটা খোঁজার চেষ্টা করি l আর লেখায়, চিন্তায়, ভাবনার প্রকাশে সহজ, সরল, সাবলীল থাকতে চেষ্টা করি l চেষ্টা করি যাতে করে কঠিন থেকে কঠিনতম বিষয়ও সহজ সরলভাবে প্রকাশ করতে পারি l


☘️ সম্পাদকঃ আপনি কবিতা ছাড়া আর কি কি বিষয়ে লেখালেখি করেন?


🌹কবিঃ কবিতা ছাড়া লিখি গল্প, প্রবন্ধ আর ছড়া l এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে ফিচার লিখি l একটি দৈনিক সংবাদপত্রে নিয়মিত সাংস্কৃতিক খবর লিখি l দৈনিক সংবাদপত্রে উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধ লিখেছি l তবে ইদানিং ছড়া লিখতে ভালো লাগছে l সঙ্গগুণে l অগ্রজ কবি তুহিন কুমার চন্দ ও আরো কয়েকজনের প্রভাবে l


☘️সম্পাদকঃ  ফেসবুক সাহিত্য জগৎ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন?


🌹কবিঃ ফেসবুক এখন সাহিত্যচর্চার অন্যতম মাধ্যম হয়েছে l বিষয়টি নিয়ে আমি সিরিয়াসলি ভেবেছি l এই নিয়ে আমার একটি কবিতা এবং একটি প্রবন্ধ আছে l সংক্ষেপে বলতে হলে বলবো,  
একটি পথ হলো লেখা কোনো সাহিত্য পত্রিকায়  পাঠানো  l তারপর অপেক্ষা l সেই লেখা পত্রিকায়  প্রকাশিত হয় অথবা হয় না l নতুন লেখকদের ক্ষেত্রে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা দেখা বিশেষ আনন্দ ও তৃপ্তির বিষয় l লেখা প্রকাশিত না হলে একটা দুঃখ ও হতাশার বোধ আসে। কিন্তু ফেসবুকে অপেক্ষার কোনো ব্যাপার নেই l লেখা বাতিল হবার বিষয় নেই l নিজের ফেসবুক পাতায় তা প্রকাশ করে দেয়া যায় l একটা পরিসরের মধ্যে, যার যেমন বন্ধুতালিকা, কবিতাটি পৌঁছে যায় l ফলে মুদ্রণ মাধ্যমে লেখা প্রকাশিত না হবার বিষয়টি এখানে নাই এবং তজ্জনিত দুঃখবোধও নাই l
তবে পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশের সদর্থক দিক আছ।  এখানে সম্পাদক বা সম্পাদকমন্ডলী থাকেন l নির্বাচিত হবার পর সংশোধিত গুণমানসম্পন্ন লেখাগুলিই প্রকাশিত হয় l অযোগ্য লেখা বাদ যায়। কিন্তু ফেসবুকের ক্ষেত্রে সেটি হবার সুযোগ নেই l যে কেউ যে কোনো লেখা  ফেসবুকে পোস্ট করে দিতে পারে l হয়ত বানান ভুল, বাক্যগঠনের ভুল থেকে গেল। সকলের ক্ষেত্রে এটা অবশ্য হয় না l কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে যে হচ্ছে তা দেখা যায়। ফলে ফেসবুকে প্রকাশিত লেখার গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায় l দেখা যায়, ফেসবুকে লাইক ও মন্তব্যদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ, কবির সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বহু অকবিতা প্রচুর লাইক ও অনুকূল মন্তব্য পেয়ে যায়, এবং অনেক ভালো কবিতাও লাইক কম পায় বা বিরূপ মন্তব্যও পেয়ে যেতে পারে l এটি একটি অপচেষ্টা। শত শত লাইকও একটি অকবিতাকে সময়ের পরীক্ষায় পাশ করাতে পারে না। এবং হাজার বিরূপ সমালোচনাও একটি ভালো কবি বা কবিতাকে কালের অন্ধকারে নিক্ষেপ করতে পারে না। সময়কে অতিক্রম করে সেই কবিতা মহাকালের আশ্রয় পেয়ে যায় l ফেসবুককে আশ্রয় করে বহু কবি এগিয়ে যাচ্ছেন l আবার এটাও সত্য, ফেসবুকে কবিতা প্রকাশ সহজ বলে, কবিতার নামে যা তা প্রকাশ করে দিলেই পাঠক তা নেবে না l সময়ের দরবারে তা পরিত্যক্ত হবে l


☘️সম্পাদকঃ  আপনার কি কোনো  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে? প্রকাশ হয়ে থাকলে সে সম্পর্কে আপনার অনুভবের কথা বলুন সংক্ষেপে?


🌹কবিঃ একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে "কল্পপথে কাব্যরথে" l ৫০ টি ছড়া ও কবিতার সঙ্কলন l ঈশপ প্রকাশনা থেকে l আই এস বি এন যুক্ত l শৈশবের স্মৃতি এবং চারপাশে দেখা জীবন অভিজ্ঞতা ছড়া কবিতাগুলির বিষয় l তার সঙ্গে মিশে গেছে কল্পনার রঙ l কাব্যগ্রন্থের কথা জিজ্ঞাসা করেছেন l এছাড়াও "কল্পপথে গল্পরথে" গল্পসঙ্কলন প্রকাশিত হয়েছে। প্রাসঙ্গিকতায় ভাষা ও সাহিত্য" প্রবন্ধ সঙ্কলন প্রকাশের পথে l


☘️সম্পাদকঃ  কিছু প্রিয় মানুষের কথা বলুন যাদের আদর্শ আপনাকে সদা প্রেরণা জোগায়?


🌹কবি : প্রথমেই বলবো আমার দিদিমার কথা যাঁর কাছে আমার শৈশব অতিবাহিত হয়েছে মালদা জেলার এক গ্রামে l দিদিমা দরিদ্র ছিলেন, কিন্তু ভালোবাসা ও কর্তব্যবোধে ছিলেন আদর্শ l স্কুলজীবনে পেয়েছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধাণশিক্ষক ভক্তিভূষণ ঝা, করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধাণশিক্ষক নীরেন্দ্রনাথ চাকী এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরাজি ভাষার বিভাগীয় প্রধাণ সত্যপ্রসাদ সেনগুপ্ত l তাঁরা আমার চিরকালের প্রেরণা l


☘️সম্পাদকঃ 'আজকাল' পত্রিকাতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সাংবাদিক হিসাবে আপনার অনুভব ও অভিজ্ঞতার কথা আমাদের সাথে শেয়ার করুন।


🌹কবিঃ বিগত প্রায় দু বছর ধরে 'আজকাল' পত্রিকার উত্তরণের পাতায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে সংবাদ প্রেরণ করে আসছি l রায়গঞ্জ তথা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সমস্ত রকমের সাহিত্য তথা সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাসকে সংবাদপত্রের পাতায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি l প্রেরণা পেয়েছি ভ্রাতৃসম বন্ধু অধ্যাপক সুকুমার বাড়ূই এর কাছ থেকে l তিনি যথেষ্ট দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দৈনিক  'উত্তরবঙ্গ সংবাদে' কাজটি করে আসছেন l তবে এই কাজে আমাকে সরাসরি উৎসাহ যুগিয়েছেন অগ্রজ কবি ও ছড়াকার তুহিন কুমার চন্দ।


☘️ সম্পাদকঃ বর্তমান বাংলা ভাষার পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মতামত দিন?


🌹কবিঃ বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ভাষা l পৃথিবীর সকল ভাষার মধ্যে এই ভাষার স্থান সপ্তম l বিশ্বে প্রায় কুড়ি কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন l ভারতে হিন্দির পরে বাংলা ভাষায় সর্বাধিক মানুষ কথা বলেন - প্রায় ৮ কোটি ২০ লক্ষ l পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, কর্ণাটক এবং অন্য প্রদেশে বাঙালিদের বাস আছে l কিন্তু বিশ্বে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের মাতৃভাষা বাংলা আছে বাংলাদেশে - প্রায় ১০ কোটি ৬০ লক্ষ l কিন্তু বর্তমানে বাংলা ভাষা বিপন্ন l চাকুরি, প্রশাসনিক কাজ সহ অন্য নানা কাজে বাংলা ভাষার গুরুত্ব কমেছে l বেড়েছে ইংরেজি ভাষার জনপ্রিয়তা l শহরে এমনকি গ্রাম গ্রামান্তরে ইংরাজি মাধ্যম স্কুল গড়ে উঠছে l বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলি অভিভাবকদের আস্থা হারাচ্ছে l নতুন প্রজন্মের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ইংরাজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে l ছেলেমেয়ে ইংরেজিতে কথা বলতে পারলে বাবা মা গর্ববোধ করছেন l বাংলাভাষা উপেক্ষিত হচ্ছে l কিন্তু ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, জাতিসত্ত্বারও পরিচয় l ভাষা বাঁচলে সংস্কৃতি বাঁচে l সংস্কৃতি বাঁচলে জাতি বাঁচে l তাই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সচেষ্ট হতে হবে l জীবন জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে বাংলা ভাষাকে সংযুক্ত করতে হবে।


☘️সম্পাদকঃ পুরষ্কার--অনলাইন সম্মাননা পত্র নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন l সে বিষয়ে আপনার অভিমত?


🌹কবিঃ পুরষ্কার, সম্মাননা  কৃতিত্বের স্বীকৃতি l পেতে ভালোই লাগে l তবে নিজেকে সেই পুরষ্কার ও সম্মাননার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হয় l সমাজ একটা বিশাল ব্যাপক অস্তিত্ব l সমাজের একটি স্তরে মূল্যবোধের অবক্ষয় হলে অন্য স্তরে তার প্রভাব পড়ে l বর্তমান দিনে সমাজে যে সামগ্রিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতির জগতেও তার কিছু প্রভাব পড়েছে l এমনই একটি বিষয় হলো দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ l শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি জগতেও এই ব্যাধি এসেছে l ফলে কখনো কখনো অযোগ্য ব্যক্তিও পুরস্কৃত, সম্মানিত হচ্ছেন l যখন বহু যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে একজন অযোগ্যের হাতে পুরষ্কার, সম্মাননা তুলে দেয়া হয়, তখন সেই যোগ্য ব্যক্তিদের কাজের উৎসাহ হয়তো কমে না, কারণ যোগ্য ব্যক্তিরা পুরস্কারের প্রত্যাশায় কাজ করেন না l কিন্তু সেই পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয় l


☘️সম্পাদকঃ  আপনার লেখাতে বাস্তবতা,  প্রেম-বিরহ খুঁজে পাই, সে বিষয়ে আপনার অভিমত?


🌹কবিঃ  আগেই বলেছি জীবন ও বস্তুনিষ্ঠতা আমার লেখার আধার l কল্পনা, আবেগ অবশ্যই আছে, কিন্তু সেটাও জীবনকে ভালোবেসে এবং জীবনের উপাদানভিত্তিক l শূন্য থেকে আমি লিখতে পারি না l লেখার জন্য কিছু বিষয় প্রয়োজন l সেটাই আমি জীবন থেকে খুঁজে নেই l তার সঙ্গে যুক্ত হয় কল্পনাশক্তি l প্রেম এবং বিরহ দুটিই লেখার শক্তিশালী উপাদান l মানুষের জীবনে এই দুটি অবস্থা চক্রাকারে আসে যায় l সৃজনশীল মানুষ উভয় অবস্থাতেই লেখার খোরাক পেয়ে যান l আমি ব্যতিক্রম হতে পারি না l


☘️সম্পাদকঃ আপনি কোন কোন সাহিত্য গ্রুপ ও পত্রিকার সাথে যুক্ত আছেন?  


🌹কবিঃ আগেই বলেছি 'অঙ্গন' ও 'অগ্রণী' সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলাম l এখন সেগুলি বন্ধ হয়ে আছে l বর্তমানে 'প্রাসঙ্গিক' ওয়েব সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক আছি l 'কবিকথা', 'গল্পকথা', 'বাংলা কবিতা' প্রভৃতি সাহিত্য গ্ৰুপ এর সঙ্গে যুক্ত আছি l বিভিন্ন সঙ্কলনের সম্পাদকমন্ডলীতেও কাজ করছি l


☘️সম্পাদকঃ বর্তমানের প্রেক্ষিতে লেখালেখির ক্ষেত্রে কল্পনা না বাস্তবতা কোন দৃষটিভঙ্গিতে লেখা বেশি কাঙ্খিত বলে আপনি মনে করেন?


🌹কবিঃ দুটোই কাঙ্খিত l বাস্তবতা ঠিক আছে কিন্তু সৃজনশীল লেখার ক্ষেত্রে কল্পনার গুরুত্ব অসীম l বাস্তবকে কল্পনার রঙে রাঙিয়ে তুলতে হয় l নিরেট বাস্তবতা দিয়ে সাহিত্য হয় না l সাহিত্য নিখাদ ইতিহাস নয় l ইতিহাস কল্পনাকে ভিত্তি করে সাহিত্য হয়ে ওঠে l আসলে যিনি লেখেন তাঁর প্রকৃতি অনুযায়ী এবং বিষয়ের দাবি অনুযায়ী বাস্তবতা ও কল্পনা লেখায় জায়গা করে নেয় l


☘️সম্পাদকঃ জাতীয় বা আর্ন্তজাতিক কোনো পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন বা গ্রন্থ সংকলনে কি আপনার কোনো লেখা বেরিয়েছে?


🌹কবিঃ বাংলার পত্র পত্রিকায় ও সঙ্কলনে লেখা বেরিয়েছে l বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্র পত্রিকা ও সঙ্কলন যেখানে উভয় বাংলার লেখক কবিরা লিখেছেন সেখানে লিখেছি l


☘️সম্পাদকঃ আধুনিক কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ -সম্পর্কে আপনার অভিমত ব্যক্ত করুন?


🌹কবিঃ আধুনিক জীবনের যে জটিলতা, প্রযুক্তি নির্ভরতা, গতিময়তা, হিংসা, ক্রুরতা, কৃত্রিম ভালোবাসা তা সাহিত্যে এসেছে l সাহিত্য এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না l একই বিষয়ের চর্বিতচর্বণ কবি লেখকদের পছন্দ নয় l তাই সাহিত্য পরিবর্তিত হয়ে চলে, বিবর্তিত হয়ে চলে l নানা ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করি - আঙ্গিক, শব্দ, বাক্যের গঠন, ছন্দ, রূপক, অলংকারের ব্যবহার, বিষয়গত, সমাজগত l অন্য নানা ক্ষেত্রে বিশেষত বিনোদনের জগতে যুগান্তকারী সব আবিষ্কার হয়ে গেছে l সেই সব অনায়াস বিনোদনের ভিড়ে শ্রমসাধ্য সাহিত্য রচনা ও পাঠ সমস্যার সম্মুখীন হলেও তার প্রয়াস অব্যাহত আছে l
কথা হলো যে যুগের নিরিখে সাহিত্য প্রতি মুহূর্তে আধুনিক হয়েছে l মানুষ সজীব, চলিষ্ণু । তার জীবন, ধ্যান, ধারণা, আদর্শ অচল অটল নয় । যুগে যুগে তার পরিবর্তন হয়েছে । সেই পরিবর্তন সাহিত্য ও শিল্পে প্রতিফলিত হয়েছে । এই প্রতিফলন সাহিত্যকে সব যুগে প্রাসঙ্গিক রেখেছে l
কারণ সাহিত্য হলো জীবনের দর্পন এবং মানুষের জীবন হচ্ছে সাহিত্যের উপকরন l প্রতিটি নতুন যুগ সেই যুগের সাপেক্ষে আধুনিক এবং  প্রতিটি যুগেই সাহিত্যকে তার নিজের মতো করে প্রাসঙ্গিক থাকতে হয়েছে । কবিতার ক্ষেত্রে দেখি কাহিনীপ্রধাণ কবিতা থেকে যুগের বিবর্তনে কবিতা কিভাবে খন্ড দৃশ্যের বর্ননা, চিত্রপ্রধান এবং সবশেষে বিমূর্ততায় এসে ঠেকেছে ।


☘️বর্তমান সমাজ কে আপনি কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন সংক্ষেপে বলুন।


🌹কবিঃ বর্তমান সমাজে আপোষ করে চলা মানুষের সংখ্যা বেশি l সংঘাতে যেতে চান না l গা বাঁচিয়ে চলেন l অসুবিধা মেনে নেন l প্রতিবাদ করেন না l ফলে প্রতিবাদীরা একা পড়ে যান l আবার এমন হয় আন্দোলনের নামে, সমাজ পরিবর্তনের নামে কিছু মানুষ বহু মানুষের সমর্থন পেয়ে ক্ষমতা অধিকার করেন l তারপর সেই মানুষকে ভুলে গিয়ে শাসকের চরিত্র ধরেন l এইভাবে ক্রমাগত মোহভঙ্গ হতে হতে মানুষ মানুষের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।


☘️সম্পাদকঃ সাহিত্য চর্চার মুক্ত প্রাঙ্গণে voice ওয়েব ব্লগ  সম্পর্কে আপনার ধারনা বা মতামত কি?


🌹কবিঃ অল্পদিন হলো voice কে চিনেছি l মুক্ত কথাটি মনে লেগেছে l যেন খোলা হওয়ার পরশ l সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই ভালো কাজ করে যাচ্ছে l voice এর নিরন্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি l


☘️সম্পাদকঃ পাঠক আর সম্মানীয় কবি এবং তরুণ কবি ও লেখকদের  উদ্দেশ্যে আপনার  বিশেষ বার্তা?


🌹কবিঃ  পাঠক ও লেখক পরস্পর সম্পর্কিত l লেখক যা লেখেন তা বাক্সবন্দী করে রাখেন না l পাঠকদের জন্য প্রকাশ করেন l আর পাঠক লেখা পাবেন না যদি লেখকরা না লেখেন l প্রিয় লেখক পাঠকের বেঁচে থাকার রসদ l আর অনুগামী ভক্ত পাঠক লেখকের অনুপ্রেরণা l তরুণ কবি লেখকদের এটুকুই বলার যে লেখার সঙ্গে সঙ্গে পড়ার বিষয়টিতেও জোর দিতে হবে l বেশি বেশি অন্যের লেখা পাঠ যে কোনো লেখক কবির মনন ও লেখনীকে সমৃদ্ধ করে l আর সমাজমনষ্ক হতে হবে l মানুষকে লেখার বিষয় করতে হবে l


☘️সম্পাদকঃ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার সাক্ষাৎকার নিতে পেরে আমি সত্যি আপ্লুত ও অনুপ্রাণিত।


   ☘️voice - এর পক্ষ থেকে আপনার আরও সুসমৃদ্ধি ও সর্বাঙ্গীন সাফল্য ও দীর্ঘায়ু জীবনকামনা করি। ভয়েস এর সাথে থাকুন। নব সৃষ্টির তরে আত্ম সুখে নিরন্তর  লিখতে থাকুন।


With regards
.......Voice.......


....................voice...................