অস্তিত্বের গভীরে এক মস্ত বড় জিজ্ঞাসা-
কেন বেঁচে আছি?
কিই বা উদ্দেশ্য এই টিকে থাকার!
আজ নিশুতি রাতে তারই সন্ধানে একা একা বেরিয়ে এসেছি,
মহামারীর জ্যোৎস্নার আলোমাখা পথে;
দুধঢালা ভয়াবহ ভৌতিক আলোর রাতে।
ধীরপায়ে ছুটে চলি লাশ ডিঙিয়ে;
ছুটেই চলি।
নিঃশব্দে চিৎকার করে জানাই দিই-
জবাব চাই!
জবাব চাই- কেন বেঁচে আছি?


পথ বেয়ে ছুটে চলি জঙ্গলের দিকে।
দুদিকে জমে ওঠা লাশে হায়নার উল্লাস।
শুয়ে শুয়ে থাবা চাটে পিতামহ বাঘ।
আরও কত মাংসলোভী জানোয়ার কার্যত উপেক্ষাই করে আমাকে।
কারও কোনো হেলদোল নেই।
কেউ ঝাঁপিয়ে পড়েনা তাজা মাংসের লোভে।
তবে কি তারা জানে- কি আমার ভবিতব্য?
তারা কি বোঝে- আমার নিষ্ঠুর নিয়তি?


পাতার ফাঁকে ফাঁকে শকুনি চাঁদ;
বয়সের গাছ পাথর নেই।
আজ মেতেছে ভেল্কিবাজিতে।
গা ছমছমে পৈশাচিক মোলায়েম আলোয় ভাসিয়েছে চরাচর।
একা একা হাঁটি হাঁটি পা পা আমি ছুটে চলি;
মরণ-আদরের আস্ফালন উপেক্ষা করে।
এঁদো ডোবায় বুদ্বুদ ওঠে।
মিটিমিটি হাসে নিশাচর সম্প্রদায়।
সর্বগ্রাসী যে জিজ্ঞাসা আমাকে ঘরছাড়া করেছে,
তার জবাবে কেউ এঁকে দেয়না মৃত্যুচুম্বন।
রহস্যময় পসরা সাজিয়ে সবাই থাবা চাটে।
অপেক্ষা - আমার আত্মহননের।


**************************
রচনাকাল : ৩১শে মে, ২০২০