মা'কে একদিন শুধিয়েছিলাম, বলো তো মা ঠিক
আমার যে'দিন জন্ম হলো কী ছিল সে তারিখ?


মা বললো, সেই যে বছর আকাল হলো দেশে
আম গাছে আম ভরা ছিল, ধান গেলো সব ভেসে।
শ্রাবন মাসে বর্ষা নেমে নদীই হলো বান
খাল, বিল আর নদীর জলে মরলো কত প্রাণ।


ভাত ছাড়া কি শুধু জলে পেট কখনো ভরে?
ভাগ্য ভালো কাঁঠাল ছিল গাছ ভর্তি ধ'রে।
ভাদ্র মাসেও থামলো নাকো, বাপ্ রে সে কী ঢল
ছনের চালের ফুটো দিয়ে ঘর ভর্তি জল।


পথের পাশে বিত্তি পেতে ধরতো সবাই মাছ
ঝড় বাতাসে ভেঙেছিল গাঁয়ের কলা গাছ।
বাড়ির পিছের তাল গাছটায় পেঁকেছিল তাল
চাল কুমড়োয় ভরেছিলো গোয়াল ঘরের চাল।
সেদিন সবাই কাজে গেলো, কেউ ছিলো না বাড়ি
দেখতে সে সব সে'দিন যে তুই এলি তাড়াতাড়ি।


বাপের সাথে মাঠে ঘাটে, গরুর সাথে খেলা
এরই মাঝে পার হয়েছে বিদ্যালয়ের বেলা।
হঠাৎ যেদিন বললো বাবা, দিতে হবে বিয়ে
পঞ্চম শ্রেণীই পড়া বোনটির, কাজ কি স্কুল গিয়ে?
শিক্ষকেরা বললেন, মেয়ের মগজ ছিল ভালো
লেখাপড়া করলে তোমার ঘরে আনতো আলো।
অভাব ভরা সংসারে তা হবার যখন নয়
ছেলেটাকে স্কুলে দিয়ে দেখো না কি হয়!


লিখতে গিয়ে জন্ম তারিখ মুখের দিকে চেয়ে
লাস্ট মাস্টার বলেছিলেন, চাকরি বাকরি পেয়ে
হবে নাকো খেতে তোকে লিখলে আসল তারিখ
জন্ম যে তোর কোন তারিখে তারও যে নেই ঠিক।


হোক না সেটা একুশ এগারো উনিশ শ একষট্টি
একের আলোয় ভরতে হবে অন্ধকার চৌহট্টি।
তোর জীবনে বারে বারে আসে যেন এক
তাইতো সেটা জন্ম তারিখে লিখে দিলাম অনেক।


রচনা: ১৪ অক্টোবর, ২০১৬