ছুটির দিনে সকালে উঠিয়া বসিলে খোদার নামে
কবিতার আসরে কবিতা লেখা ও কবিতা পড়ার কামে।
গতরাত থেকে থালা ও বাসন সিংকেই আছে পড়ে
যে হাতে কলম, দেখিনা সে হাত সেই সব ধুতে নড়ে।
সারা সপ্তা'র ময়লা কাপড় লণ্ড্রিতে আছে থোয়া
তাই প'রে ফের সপ্তা' কাটাবে, নাই যদি হয় ধোয়া।
ফুলের বাগানে গাছগুলি মরে এতটুকু জল বিনে
ছন্দ-কাব্যে সহস্র ফুল ফুটাও তো একেক দিনে।
ঘরের যেখানে ফেলিবে দু'পা সেখানেই শুধু ধুলো
ঝিম ধরে শুধু বসে ধ্যান করো দুই কানে দিয়ে তুলো।  
সবজি তো নেই, মাছ হলো শেষ, হালাল মাংস চাই
ইচ্ছা ছিল সোনার দোকানেও যাবো এই সপ্তায়।


তিরিশ বছরের বাসি হয়ে যাওয়া কবেকার সেই বিয়ে
গাদাফুল ছাড়া পালন হলো না সোনার গহনা দিয়ে।
মুখে ঝরে মধু কাছে এসো বধূ খোঁপায় পরাবো ফুল
সোনা-ফুল নয়, ছন্দ কথায় ভাঙে এ মনের ভুল।
বিয়ের আগে কত বাহাদুরী, ছেলেটি ইঞ্জিনিয়ার
চাকুরী পেলেই সব পাওয়া যাবে, অভাব র'বে না আর।
চাকুরী পেয়েও বেতন ছাড়া উপরি নেবে না বাবু
শত চাহিদায় অচিরেই হ'লে হাজার অভাবে কাবু।
দেশ ছেড়ে তাই বিদেশে এসে সব কাজ করো নিজে
তার মাঝে এই কবিতার ভুত, মগজে ঢুকিল কী যে?


সারাটা সপ্তা' চাকুরীর কাজ, হবে নাকো আর রান্না
সপ্তাহান্তে না হ'লে রান্না পেট ভরে খেয়ো কান্না।
দুপুরে খাওয়ার পরে আসে নাকি বাবুর দু'চোখে ঘুম
বোঝো না আমার সপ্তাহান্তে কত কেনাকাটা ধুম।
আজ দুপুরে, কাল রাত্রে আছে দুই নিমন্ত্রন
দিন চলে গেলে উপহারগুলো কেনা হবে বলো কখন?


কবি গিন্নির মুখ চলে আর চলে সাথে দুই হাত
থালা বাসনেও কণ্ঠ খুলে বাড়ায় ঝনাৎ ঝনাৎ।
অবশেষে কবি কবিতাকে দেয় সপ্তা'র মত তালাক
মুখ বুজে তবু সয়ে যায় সব, বধূ যত মুখ চালাক।