প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ডের পর .........।


রাজার চিকিত্সা (রোগ নিবারন)


ক’দিন ধ’রে ত্র্যস্ত ব্যস্ত সবখানে হয়  খোঁজা
যেথায় আছে যত রকম কবিরাজ আর ওঝা|
সবাই ছুটে রাজ্য সভায় কাধে ঝোলে ঝুলি
কেও বুঝেনা ওরা সবাই বলে কি'যে বুলি|
ঝুলির ভিতর কত গাছের হাজার লতা পাতা
হাজার পশুর শুকনো চামড়া, শুকনো পাখির মাথা|
কাচা হলুদ পুড়ায় কত, ধরে রাজার নাকে
ভুত যদি হয় কি ক’রে সে রাজার সাথে থাকে?
অবশেষে মানলো সবাই ভুতের আছর নয়
নইলে কি আর কবিরাজের চেষ্টা ব্যর্থ হয়?
উন্নত দেশ অগ্রগামী সব জ্ঞান ও বিজ্ঞানে
যত রোগের ডাক্তার নাকি বাস করে সেইখানে|
বলল তারাও, এমন রোগের কথা শুনি নায়
কোনো কিছুই কাজ না হ’লে অপারেশন চায়|
উন্নত দেশ অতি সদয়, বন্ধুর এ দুর্দিনে
পাঠালো এক বিজ্ঞ ডাক্তার উচ্চ মূল্য বিনে|
সাথে এল কয়েক ডজন সেবক, সহচর
গাড়ি ভর্তি ওষধ, পথ্য, যন্ত্র অতপর|
ডাক্তার আবার অতি যত্নে করলো নিরীক্ষণ
বুঝলো শেষে কেমনে উল্টে গেছে রাজার মন|
উল্টা মনকে সোজা করা কাজটা অতি জটিল
মন্ত্রী সভা মানবে নাকো চিকিত্সায় গরমিল|
ভেবে চিনতে ডাক্তার শেষে প্রেসক্রিপশন লেখে
মন্ত্রিসভা ফর্দ বানায় বুদ্ধিজীবী ডেকে|
উল্টো করে লিখতে হবে যা কিছু সব সোজা
কঠিন হবে রাজার কাছে সহজ কথা বোঝা|
বুঝবে রাজা কঠিন কথা অতি সহজভাবে
শাস্তি পাওয়ার কথাটি যার পুরস্কার সে পাবে,
পুরুস্কারের বিনিময়ে শাস্তি পাবে কেহ
শ্রদ্ধাভাজন ঘৃনা পাবে, ঘৃনিতরা স্নেহ|
ধার্মিকেরা ভন্ড হবে, ভন্ডরা ধার্মিক
দেশের যারা শত্রু, তারা হবে দেশ প্রেমিক|
দেশের বন্ধু বাধ্য হবে দেশটি ছেড়ে যেতে
মূর্খরা সব পন্ডিত হবে, পন্ডিত যাবে ক্ষেতে|
সত্যি যা সব মিথ্যা হবে, মিথ্যা যা সব ঠিক
সুবিচারের প্রার্থীরা সব পাবে ঘৃনা ধিক|
রাজার কথা শুনবে প্রজা, প্রজার রাজা নয়
রাজার ভালো দেশের ভালো, গণতন্ত্রের জয়|    


ফর্দ খানা ঢুকলো আবার মডার্ন কম্পিউটারে
তৈরী হলো মেমরি চিপ, সব কিছু যা পারে|
ডাক্তার শেষে করলো অতি সহজ অপারেশন
রাজার মাথায় সে চিপ খানা হলো সংস্থাপন|
আনন্দেতে ডাক্তার কয় “সাকসেসফুল, সাকসেসফুল,
করবেনাকো রাজা মশায় আজ থেকে আর কোনো ভুল|”
মন্ত্রিসভা হাত তালি দেই কন্ঠে মেলে, “জিন্দাবাদ!
পেলাম শেষে রাজার রাজা এতদিনে মিটল সাধ|”


## আমাদের দেশে যে যেভাবেই ক্ষমতায় আসে, প্রথম দিকে কিছু ভালো কথা বলে এবং ভালো কাজের চেস্টা করে| অল্পদিনেই চারিদিকের অসৎ সাঙ্গপাঙ্গরা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে রাজার মগজ ধুলায় শুরু করে, আর  ঐ কাজটা সম্পূর্ণ হয় শক্তিশালী স্বার্থানেষী বিদেশী দেশগুলোর প্রভাবে| অচিরেই দেশের জনগনের যা প্রাপ্য তার উল্টোটা পাওয়া শুরু করে| বিজয় উত্সব চলে ঐ সব স্বার্থানেষীদের ভিতর|