আমার এদেশ অফিসভরা, কিছু তার সরকারী
আমজনতার জন্যে সে সব তাই নয় দরকারী।


নিম্ন-উচ্চ সরকারী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
শিক্ষা তো নেই ব্যস্ত সবাই সরকারী জয়গানে।
পিতামাতা তাই খুঁজে রোজ ক্লান্ত ও হয়রান
উচ্চ অর্থে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


সব অফিসের মাথা অফিস নামটা সচিবালয়
আমজনতা গেলে সেথায় পাবেই অতি ভয়।
পাস অথবা ঘুষ না পেলে দ্বারের দারোয়ান
তাড়িয়ে দেবে লাঠির ঘায়ে, রক্ষা পেলেও কান।
সেথায় থাকেন মহামান্য সরকারী সব সচিব
আমজনতা সেথায় যাবে? ধৃষ্টতা তো অতীব!


সংসদ ও মন্ত্রনালয়ে বাস করেন সরকার
কৃষক-শ্রমিক-কর্মচারী - সেথায় কী দরকার?
খেত-খামার আর কারখানাতে যেমন আছিস, থাক্
নিজের ভালো, মন্দ ভুলে দেশটা ভালো রাখ।
মগজবিহীন খাটুনি তোর - কী তার এতো দাম?
সরকার যে দরকার তার গাড়ী, বাড়ী, নাম।


রোগ ও ব্যথায় যাসই যদি সরকারী হাসপাতাল
মৃত্যু-দূতের গরজটা কি আসবে আবার কাল?
মৃত্যু-দূতের সাথে দু'দিন দিবিই যদি পাল্লা
বেসরকারী হাসপাতাল যা - নয় ঘরে ডাক আল্লা।
টাকার পাহাড় নেই যদি তোর সময় শুধু নষ্ট
সরকারী ডাক্তারের কেন বাড়াস মিছে কষ্ট?


কোটি টাকার কারখানা চায়? যা সরকারী-ব্যাংক
সাথে নিবি সরকার মামা,  টাকায় ভর্তি ট্যাংক।
অল্প টাকার বিনিময়ে বেশী টাকার ঋণ
দু'খান ইটের পোতা দিয়ে নাচবি তাধিন ধিন।
ঝড় অথবা বৃষ্টি এসে পোতাও হবে ফাঁকা
বাকি টাকার সাথে পাবি ইন্সুরেন্সের টাকা।
ভাবিস এসব তোর জন্যে? ওরে বোকা চাষী!
জমি বেচে শুধবি টাকা, জবাই হবি খাসী।


থানা জেলায় যাবি যেথায় উচ্চ উচ্চ আসন
উচ্চে সেথায় বাস করে সব সরকারী প্রশাসন।
মূর্খ বেটা বুঝবি কি সব, হেথায় করিস ভীড়
সাহেব-বিবির দেখবি গাড়ী, দেখবি উচ্চ-নীড়।
সাহেব-বিবির ধরবি পায়ে, চাইবি সুবিচার
উকিল-বাটপর পকেট ভরে বলবে কথা তার।
টাকার খেলায় বড় কথা, যার যত তা আছে
তারাই তত বন্ধু হবে প্রশাসনের কাছে।
এসব কথা নিয়ে কেন করবি গরম খুন?
প্রশাসনের হাতেই আছে সরকারী কানুন।


কে বলেছে চাষ করলেই হবি জমির মালিক?
তা হলে তো মালিক হতো হাজার লক্ষ শালিক।
একটু ঋণে কেমন করে হারাস মালিকানা
উকিল, হাকিম ধরলে তবে হতেও পারে জানা।
বাকি জমি বিক্রি করে যোগান দিবি টাকা
নাহয় যাবি হাইকোর্টেতে, করবি পকেট ফাঁকা।
ফাঁকা পকেট খা খা জীবন, নিবি ভিক্ষের ঝুলি
ভিক্ষে-মুক্ত জেলায় গেলে পেট ভরে খাস গুলি।
এতো ক্ষুধা পেটে নিয়ে বাঁচার কী দরকার?
মরবি যত তাড়াতাড়ি, বাঁচবে রে সরকার!


গাঁয়ের যত গুণ্ডা-পাণ্ডা, মূর্খ, লেঠেল, বদ
তাদেরই দখলে যে আজ ইউনিয়ন পরিষদ -
মেম্বর ও চেয়ারম্যানের তাসের আড্ডাখানা
কিংবা কিছু বখাটে-দল, গল্পে নেইকো মানা।
কেরানী-সা'ব ব্যস্ত থাকেন লিখতে সার্টিফিকেট
একেক কাজের সইটা পেতে একেক রকম রেট।
গুণী যারা তারাই বোঝেন, এদের কী দরকার
এদের ছাড়া গণতন্ত্রে বাঁচবে কী সরকার?


সরকারী এই অফিসগুলির কেউ-ই যদি নও
ফালতু এতো কথা কিসের? চুপটি করে রও।
হাতি ঘোড়া গেল তো তল, তোর কেন রে ল্যাং
ব্যাঙের মত লাফিয়ে শেষে ভাঙবি দুটো ঠ্যাং?
সরকারী সব ব্যাপার স্যাপার, বুঝবি খবর কী
বুঝতে চেয়ে এই অকালে খুঁজবি কবর কী?