বেশ কিছুদিন একটা গোলাকার বহুপদবিশিষ্ট পতঙ্গ-
আমাকে দর্শন করিতেছে।
সেদিন উবু হইয়া শায়িত রহিয়াছি-হঠাৎ পৃষ্ঠে চুম্বন অনুভব করিলাম।
আমার বেশ কাতুকুতু লাগিতেছিলো।
“হাহ হাহ!” দেখিনু আমার পিঠে সে উলটো হইয়া পা নারিতেছে।
আসলে সে বাঁচিবারে চায়,সে চায় তাহাকে আমি সোজা করিয়া দেই।
আমি তাহাকে বাঁচাইবার লক্ষ্য নিয়া-এক ঝারা দিলুম,যাহ!
সেও ছুটিয়া অসীমে গেল,লক্ষিত-সে পুনশ্চ উলটো হইয়া পরিলো।
আমি আর বাঁচাইতে উদ্যত হইলাম না।
খানিকপর দেখিলাম আমার পা বহিয়া সে পতঙ্গ উঠিয়া আসিতেছে।
আবারো কাতুকুতু অনুভব হইলে,আবারো দিলাম ঝারা।
মুখপোড়া আবারো দূরে গিয়া উলটো হইয়া পরিলো।
আমি এবার তাহারে বাঁচাইতে গেলুম না।
ভাবিলাম পানির কাজ করিতে আসিয়াছি
অতঃপর আপদ আসিয়া হাজির হইলো।
তা পরুক গে যাক। পানিতে ভাসিয়া পরিবে কোথাও।
একটা দিন সমগ্র কাটিলো। নিশিথে তন্দ্রা আসিলে-
বিছানায় আসিয়া আবারো শয়ন করিলাম।
দেখিলাম উপাধানের পার্শে ব্যাটা আবারো উলটো হইয়া বাঁচিতে আবদার করিতেছে।
আমি আমার তর্জনি অসরল করিয়া,বৃদ্ধাঙ্গুলির-
মধ্যভাগে চাঁপিয়া ধরিয়া-
বাকি আঙুলি টানটান করিলাম। অতঃপর বৃদ্ধা আর তর্জনির বিচ্ছেদ করিয়া-
তর্জন্যাঙ্গুলি নামক সস্ত্র নিক্ষেপ করিলাম।
পোঁকাটি এবার কোথায় চলিয়া গেল,দেখিতে পাইলাম না।
ব্যাটা নিশ্চয় উলটো হইয়া পা ঝাঁকাইয়া জীবণ প্রার্থনা করিতেছে কোথাও!
ভাবিলাম সে আমারে এত ভালোবাসে? এত আমার সহিত তাহার অবস্থান করবার শখ?
সে বোধয় ভালোবাসিয়াছে আমায়
ভালোবাসিয়াছে আমার রুপ,গুণ,কথাবলা?
মনে মনে ভাব আসিলো,নায়ক মনে করিলাম আপনাকে।
পরে ভাবিলাম–--তাই কী করিয়া হয়,আমার তো কিছুই নাই।
অন্বেষণ করিলাম-করিলাম-করিলাম বহু চিন্তন করিলাম।
ওহ হ্যা! ব্যাটা তো আমাকে উলটো হইয়া দেখিতেছিলো।
তাই বলি,আমাকে তাহার এত পছন্দ হইলো কেমনে।