সত্যের মৃত্যু ঘটে দ্রুত;
খুনির দায় নিয়ে বেঁচে থাকে কেবল মিথ্যেরা।
ওরা সত্যকে হত্যা করে গলা টিপে, বিষ ঢেলে
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে, আগুন জ্বেলে
কিংবা বন্দিখানায় অনাহারে রেখে।


মৃত্যু অনিবার্য-
সেটি কেবল ঈশ্বরের নির্দেশেই হওয়ার কথা
কিন্তু খুনিরাই ঈশ্বর হয়ে ওঠে বারবার
ওদের সৃষ্টিশীলতায় মন নেই
পাশবিকতা আর বর্বরতার কঠিন মন্ত্রে
ওরা সিদ্ধি লাভ করে, করে দম্ভ, হয়ে ওঠে বলবান।


সত্যের ভীরুতায় মিথ্যেরা অট্টহাসিতে ফেটে পরে
ওরা আসক্ত হয় অন্ধ প্রবঞ্চনায়
অসুরের রক্ত পান ওরা হয়ে উঠে আরেক অসুর
ওদের মনে মানবিক বোধ কিংবা  চৈতন্য জাগে না।
ওরা জানে না সত্য চিরকাল স্বাধীন, নির্মল ও নির্ভিক
সত্যের ভীরুতার মধ্যেও রয়েছে পবিত্রতা
আছে মানবিকতা আর সুন্দরের উপাসনা।


সত্য নিঃশব্দে এগিয়ে যায়
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে
সত্যকে হত্যা করা যায় কিন্তু নির্মূল করা যায় না
সত্যের প্রভাবে পাহাড় দাঁড়িয়ে থাকে নির্বাক
জল বয়ে যায় তার আপন ধারায়
একই সত্যে প্রাণ সঞ্চার হয় দেহে
আলোকিত হয় সূর্য-চন্দ্র-নক্ষত্র।


মিথ্যের প্রভাবে মুর্খতন্ত্রে পরিণত হয় রাষ্ট্র ও সমাজতন্ত্র
ওরা আক্রান্ত হয় অপরিচ্ছন্ন ব্যাধিতে, মৃতপ্রায়
ওরা জানে না মিথ্যের  অহংকার
ওদের টেনে নিয়ে যাবে নরকের পথে
ধিক্কার ! ধিক্কার জানাই মিথ্যের বর্বরতাকে
ওরা মরণের পরেও মরবে কঠিন দণ্ডভারে-
অপরদিকে-
সত্য চির নির্মল, কল্যানকর, ওদের প্রফুল্ল অন্তর
মৃত্যুর পর ওরা এগিয়ে যাবে সুদৃঢ় পায়ে
ওরা আলোকিত হবে স্বর্গের  দ্বারে ।।



(জেসুইট ফাদার স্ট্যানিস্লাস লার্ডুস্বামীর মৃত্যুতে)