জীবনের ভগ্নাংশ
মোজাম্মেল সুমন


আমি মুয়াজ্জিনের আযানের সুর শুনে জাগি,
আমি পুণ্যস্নান শেষে মন্দিরে যাই পূজার লাগি।
আমি প্রতিবেশীদের কাছে পাই স্বর্গীয় আভা,
আমি পিতামাতার মুখ দর্শনে পাই পবিত্র কাবা।


আমি প্রাচুর্যপূর্ণ পৃথিবীর মাঝে শূন্যতায় রিক্ত,
আমি শোষিতদের স্মরণে সজল নয়নে সিক্ত।
আমি নিত্য শোকার্ত চিত্তের প্রজ্বলিত কৃত্ত,
আমি সমকালীন ঘটনা প্রবাহের অঙ্কিত বৃত্ত।


আমি সবুজ বাংলার রৌদ্র কখনো হঠাৎ বৃষ্টি,
আমি দেশের কল্যাণময় সৃষ্টির অনিমেষ দৃষ্টি।
আমি অন্যায় রোধে অশান্ত হলেও সত্যে ধীর,
আমি জলধি ঘেঁষে আসা অনুপ্রেরণার তীর।


আমি সৌরভময়ী সুগন্ধিত শোভাময়ী ফুল,
আমি নিষ্পাপ অবুঝ শিশুর মাতোয়ারা ভুল।
আমি স্নিগ্ধ শীতল ছায়ায় অনুভূতিতে নরম,
আমি ভোরের শিশির সিক্ত রাঙা কমল পরম।


আমি উন্মুক্ত নিশাত তরবারির রণসাজ গগণ,
আমি দক্ষিণা মৃদুল বাতাসে দোলায়িত স্বপন।
আমি মানুষের ভালোবাসায় সমাসীন দ্যুলোক,
আমি বিধির বিধানে পাই সুষমামণ্ডিত ভূলোক।


আমি সমুদ্রের অতল গভীরতার স্বপ্নিল মায়া,
আমি চিন্তার অতি নিগূঢ়তার অনুসন্ধানী ছায়া।
আমি তিমিরনাশক উষা আর প্রশান্তির রাত্রি,
আমি নশ্বর ধরায় সম্ভাবনাময় অক্লান্ত যাত্রী।


আমি অরুদ্ধ চির বিদ্রোহী অদম্য অনন্য শক্তি,
আমি খেটে খাওয়া মানুষের বিশুদ্ধ শ্রদ্ধা ভক্তি।
আমি প্রতিবাদের মতো জ্বলে উঠা রক্তিম রবি,
আমি কাদায় আঁকি গণমানুষের জীবন ছবি।


আমি অনিয়ম আপোষে ক্ষুদ্রাংশ গৌণ তুচ্ছ,
আমি নিপীড়িতদের সকল দুঃখ বেদনা গুচ্ছ।
আমি পাপ অপকর্মের বিস্তৃত বন্ধন থেকে ছিন্ন,
আমি উত্তম চরিত্রে সাজাই পুণ্য আলোর চিহ্ন।


আমি সাত্যিক তার্কিক কিংবা সুনীতির পক্ষে,
আমি স্নেহ মমতায় অধীর মানবতার লক্ষ্যে।
আমি কাঙ্খিত আলোর দিশারী মিথ্যে বঞ্চিত,
আমি নিরলস ভালোবাসার স্বপ্ন করি সঞ্চিত।


আমি কৃষকের লালিত স্বপ্নের রঙিন ফসল,
আমি দিনমজুরের সয়ে যাওয়া সকল ধকল।
আমি রাষ্ট্রের কল্যাণে কর্তব্যরত রই দৈনিক,
আমি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার বীর সৈনিক।


আমি বাহান্নের শক্তি জাগ্রতচিত্তে অনিমেষ,
আমি একাত্তরে অর্জিত বিজয়স্তম্ভ সবিশেষ।
আমি সাম্যের পথে অক্লান্ত অবিচল পথিক,
আমি গণতন্ত্রের মাঝে খুঁজি জনতার সঠিক।


আমি সাতরঙের বিচ্ছুরিত ঝিলিমিলি বাহার,
আমি পরিশ্রমে গড়ে তুলি মহোত্তমের পাহাড়।
আমি বাস্তবতায় উড়াই ভালোলাগার ফানুস,
আমি সৃষ্টিকর্তার ইবাদাতে হই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।