মহেঞ্জোদারোর যৌবন

মহেঞ্জোদারোর যৌবন
প্রকাশনা যৌথ সংকলন
প্রকাশনী অন্বেষা প্রকাশনী
প্রচ্ছদ শিল্পী নচিকেতা মাহাতো
স্বত্ব সপ্তাশ্ব সাহিত্যপত্র
প্রথম প্রকাশ নভেম্বর ২০১৮
বিক্রয় মূল্য 50/-

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

কাব্যগ্রন্থের নাম : মহেঞ্জোদারোর যৌবন
কবি : সুদীপ তন্তুবায় নীল ও নীলমেঘ
প্রকাশক : অন্বেষা
মুখবন্ধ : অজিতেশ নাগ
প্রচ্ছদ শিল্পী : নচিকেতা মাহাতো
গ্রন্থস্বত্ব : সপ্তাশ্ব সাহিত্যপত্র

ভূমিকা

সাম্প্রতিক যেসব কবিতার বই হাতে এসেছে তার মধ্যে ‘মহেঞ্জোদারোর যৌবন’ নিঃসন্দেহে উল্লেখের দাবী জানায়। কবিতাগুলো হাতে পেয়ে পরপর পড়ে গেলাম। তাতেও তৃপ্তি হল না। ফের পড়লাম। এবং মুগ্ধ হলাম। বইটি মোট ২৮টি কবিতার একটি সমন্বয়পর্ব বিশেষ। মূলত সুদীপ তন্তুবায় নীল এবং মেঘনা মহন্ত এই দুই কবির কিছু বাছাই করা কবিতা আঁটা রয়েছে দুই মলাটের মধ্যে।

প্রথমেই সুদীপের কথা। সুদীপের কবিতার সাথে আমি পরিচিত, সে প্রায় বছর সাতেক হবে। মাঝে বেশ কিছুদিন ওর কবিতা পাই নি। ফের ‘মহেঞ্জোদারোর যৌবন’ পড়তে বসে চমকে গেলাম। কবির স্বভাব সতত নিজেকে বদলানো, একের পর এক ছক ভেঙে চলা। এখানে কবি নিজেকেই ভেঙেছে অপূর্বভাবে। কবি লেখেন, ‘বেহিসেবী নিস্তব্ধতা নিয়ে বর্ণপরিচয় শেখে নিঃসঙ্গ নদী’। পরিব্রাজক জীবনের বহমান আলেখ্য। মনে হয় দুপুরের আলো বেয়ে ছড়িয়ে পড়ে আশ্চর্য্য নিস্তব্ধতা মেঘের ডাকের ভেতর দিয়ে সিমেন্টের চিৎকার পাশ কাটিয়ে দখিনা বাতাসকে বিদায় জানিয়ে আশ্চর্য নিস্তব্ধতা খেলা করে আমাদের দুরুহ অস্তিত্বের ভেতর। কবি দেখে, মধ্যাহ্ন জানান দিচ্ছে তীব্র সব হিসেব, বেহিসেবি হবার পর। কিছু কিছু জায়গায় শব্দ নিয়ে চমৎকার খেলেছে নীল। ‘এক ঘটি রোদ’, ‘অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অক্ষর’, ‘কচ্ছপ ভালোবাসা’ অথবা ‘গার্হস্থ গর্ভ’-এর মত শব্দগুচ্ছ তারই পরিচয় দান করে। ‘ঈশ্বরকথা’ কবিতায় কবি লেখে, ‘প্যান্টের পকেটে হাত গেলেই একটা কামার্ত নক্ষত্রের গন্ধ লাগে’। কি অদ্ভুতভাবে বাস্তবতাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নীল। মনে হয় এটাও তো বলা যায়, উন্মত্ত নটি-নৃত্যে সিগারেট পুড়ে ছাই. নিকোটিনের নীল গন্ধ-আড্ডার পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসী শান্তির কাফেলার। কোথায় যেন বালকের তেলাওয়াত-বহুদূর. মাংস-রুটি-গান উদ্দীপক বটিকা, উলঙ্গ বক্ষ-নাচুক ললিতা. তেল পুড়া গন্ধ. বৈদ্যুতিক বাতি. মেশিনের শব্দ ... জল কেলি দু'জনা, কামার্ত বনহংস যথা।

এবার মেঘনা মহন্ত’র কথা লিখি। আদতে ‘মহেঞ্জোদারোর যৌবন’ শীর্ষক কবিতাটি তারই লেখা। ‘হে সবুজ, তোমার কোলে আরও একটু শান্তি দাও তিতলিকে’। প্রথম কবিতার প্রথম পঙক্তি কবির জাত চিনিয়ে দেয়। নীলের পাশপাশি তার কবিতাগুলিও পাঠককে মননশান্তি দান করবে। ‘জীবনের ক্লাসরুমে এক মুঠো বিদগ্ধ ডাস্টার’ – এইরকম কিছু অসামান্য বিমূর্ত ছবি এঁকেছে মেঘনা। সব কবিতার সব পঙক্তি বাদ দিয়েও যদি কবি লিখতে পারেন, ‘আজ রূপ যৌবনেই যদি এক ভারতবর্ষকে ছিনিয়ে নেওয়া যেত / তবে বাজপাখির বজ্জাত বেয়াদপি / এক ব্রহ্মান্ড ঘুম নিয়ে ঘুমিয়ে থাকত শেষ বসন্তের বারান্দায়’, তাহলে আর বিশদে কিছুই বলার থাকে না। সবটা তো কবি লিখবেন না, কিছুটা ছেড়ে দেবেন পাঠকদের জন্য। আর এইখানেই মোহনার সার্থকতা। ভিক্ষাপাত্রে প্রেম থাকে কিনা জানিনা। তবুও বন্ধ দরজার সামনে বসন্তের গান গাওয়া। আবিশ্বাসী সুর শুনে কোন কোকিল ডাকেনি। কোন ফুলও ফোটেনি। অথচ মেঠোপথে হেঁটে হেঁটে রাজপথের রূপকথা লিখে চলা। চৈতী হাওয়ায় অলস দুপুর থমকে দাঁড়ায়। প্রজাপতি মথেরা সব ফিরে গেছে। সজনেফুল, যদি শেষ বসন্তকে চিনে নাও.. নিয়ে এসো দখিনের বারান্দায়। দাঁড়ালাম কবি। রক্তাক্ত দেহ-মন নাড়ীতে নাড়ীতে আবারো অনুভব করলাম জন্মযন্ত্রণার টান! এমন কবিই তো কুর্নিশ জানাতে পারে সাঁঝদুপুরের ছাতিমতলাকে। আবারো মাতিয়ে দেবে অবিশ্বাস্য আত্মার বিশ্বাসে। যেখানে যবনিকার বুকে লেখা থাকবে - 'আমি মহেঞ্জোদারো’।
আমি সুদীপ তন্তুবায় নীল এবং মেঘনা মোহন্তর ‘মহেঞ্জোদারোর যৌবন’ শীর্ষক যৌথ কাব্যগ্রন্থটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। কবিদ্বয়কে আমার অগ্রিম শুভেচ্ছা। আশা করি কবিতাগ্রন্থটি যথেষ্ট সমাদর পাবে। আমার আজকের ভালোলাগা তাদের সেদিনকার ভালো লাগার সাথে মিশে এক অস্ফুট ভালোবাসার জন্ম দেবে, এটা আমার নিজস্ব ঐকান্তিক বিশ্বাস।

অজিতেশ নাগ

উৎসর্গ

সুসভ্যতার অলিখিত ইতিহাসকে