বসন্ত বাতাস গায়েতে মাখিয়াব বসেছিনু বাতায়নে,
কতোকথা আজ আসিতেছে মনে চাহিয়া আকাশ পানে।
হঠাৎ কখন নিদ এসেগেছে আমার দু’চোখ মাঝে
মনেনাই তাহা,বুঝিনু যখন, তখন চারটে বাজে।
স্মৃতিহাতড়িয়া বুঝেছিনু আমি, ছিলাম স্বপন ঘোরে,
শুনাইতে চাই এক এক করি তোমাদের সবাকারে।
তবে শোন,
“টিকিট কাটিয়াছি স্বর্গে যাবার, পয়সা লাগিনি কোন।
স্বর্গে যাবার গাড়িটি ধরিতে সবাই এসেছে হেথা,
ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয,বৈশ্য-শূদ্র কেহ বাদনাই সেথা”।
অবাক আমি,
জাতের বিচারসব মাটির পৃথিবীতে? স্বর্গে গিয়েছে থামি!
“কোরবান আছে,দুলু ঢাকি আছে, আসিয়াছে কালু বোস,
হিন্দু,মুসলিম সবাই এসেছে,এসেছে ভট্ট-চট্ট-ঘোষ।
সবাই কেটেছে স্বর্গের টিকিট,জাতিভেদ নাই হেথা,
সবাই এসেছে মহিলা-পুরুষ, সবাই বলিছে কথা।
এদিক-ওদিক ঘুরিয়া-ফিরিয়া দেখিতেছি আমি একা,
ঘুরিতে ঘুরিতে একদা আমি প্রেয়সীর পেলাম দেখা-
বলিলাম তারে ডাকি,-‘কেমন করিয়া আসিলে হেথা?
আসিবার আগে বলোনাই কেন,হেথা আসিবার কথা ?’
হাসিমাখা মুখে, সুধাইলো প্রেয়সী,চাহিয়া মুখেরপানে-
‘মর্তের মাঝে আমাকে রাখিয়া, তুমি আসিলে স্বর্গপানে,
কত কাঁদিলাম, কত বলিলাম নিয়েযাও তোমাসাথে,
তুলসিপত্রে চোখ ঢেকেরেখে নিরবরহিলে তাতে।
তুমি কি জানো না স্বর্গের পথ সবার ত্বরেতে খোলা
জাতি-বিজাতী, অন্ধ-খঞ্জ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, পোলা?’
স্বর্গেযাবার রেলে বসিলাম প্রিয়তমা সাথেকরি,
বৃষ্টি বাদল কোথাকিছু নাই,নাইতো রেলের গাড়ি।
স্বর্গেরপথে আমরা, ‘সুক্ষআত্মা’,দেহভার নাই হেথা,
মর্তহইতে কর্মফল লয়ে চলিয়াছি মোরা সেথা।
বিচারসভার যম বিচারক,সম্মুখে ঝোলানো তূলা,
পাপকর্মের পাপভার ফল-‘স্বর্গ দুয়ারে তালা’।
প্রেয়সী তাঁহার শুভফল লাগি স্বর্গে গেলযে চলি,
হাসিমুখে সে বিদায় জানাল জনম-জনম লাগি।
আমার পড়িল ডাক,
পাপের বিচারে আমি বড়পাপি যমরাজ পাড়ে হাঁক।
কাঁটার গদা হাতেকরি আসে যমরাজ অনুচর,
ব্যথানুভুতিতে আঁতকিয়া উঠি,মনেলাগে বড় ডর।
হটাৎ আমি ঘুমভেঙে দেখি, সমুখে দাঁড়ায়ে প্রিয়ামোর,
হাসিমুখে কয় ‘চা খেয়ে নাও’,কাটিবে স্বপন ঘোর”।
ঘড়িতে দেখিনু চেয়ে-
ছোট কাঁটাটি চারটার ঘরে,এখন চারটা বাজে।

লেখক-নিশিকান্ত দাস
তাং-২৪-০৯-২০১৫