কবি সৃষ্টি করেন কবিতা, আর আবৃত্তিকার সেই কথায় ভাবের ও সুরের দোলায় নিজ অনুভূতির ছোঁয়ায় আপন শৈল্পিক কন্ঠ মাধুর্য দিয়ে শ্রোতাদের মনোরঞ্জন করেন - এতো গেল পেশাদারী আবৃত্তিকারের আবৃত্তির কথা।

কিন্তু আমরা যারা শিক্ষানবিশ তারা কিভাবে প্রস্তুতি নেব?

যে ছবি কবি তার কাব‍্যে শব্দালঙ্কার ও আবেদনের বৈশিষ্ট্য দিয়ে এঁকেছেন, তাকে হৃদয়াঙ্গম করতে বার বার পাঠ করে আত্মস্থ এবং মুখস্থ করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ শুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণের সাথে স্বরক্ষেপনের কৌশলে কাব্যকে শ্রুতি মাধুর্যে শ্রোতার সামনে প্রকাশ করার আগে নিজেকে বার বার শোনান। অর্থাৎ ভাবতে হবে আমি কবিতা আবৃত্তি করছি নিজের জন্য, নিজ তৃপ্তির জন্য। অপরকে শোনাবার জন্য নয়। যতক্ষণ আপনি নিজেই আপনার উপস্থাপনায় নিজে তৃপ্ত না হচ্ছেন, ততক্ষণ আপনি অপরকে শোনাবার জন্য তৈরি হন নি - এমনটাই ভাবাই ভালো।

তৃতীয়তঃ শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়া ও নেওয়ার দিকে বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কারন, এই কৌশলটি ঠিক মত রপ্ত করতে না পারলে ছন্দ বা লয়ের ছেদ পড়তে পারে এবং চরনের শেষ শব্দটি অর্ধ উচ্চারণে আবৃত্তি শ্রুতি মাধুর্যহীন হয়ে পড়তে পারে, এ দিকে বিশেষ ভাবে যত্নশীল হতে হবে।

একেবারে শেষে আসছি মঞ্চে উপস্থাপনা করার সময় যে দিক বিশেষ নজর দেবেন তার কথায়। মঞ্চে উপস্থাপনার তিন ঘণ্টা পূর্বে কথা একেবারেই বলবেন না বা খুব কম বলাই ভালো, তাতে আপনার গলা বিশ্রাম পেল। এরপর আপনি যখন মঞ্চে উপস্থাপনার জন্য হাজির হলেন আপনার এনার্জি ও উদাত্ত কণ্ঠের শব্দশ্রুতি শ্রোতা মনকে অবশ্যই আনন্দিত করে তুলবে। এছাড়া মাইক্রোফোনের কাছে (নির্দিষ্ট দূরত্বে) মুখ রেখে আবৃত্তি করুন, অবশ্যই অতিরিক্ত উচ্চস্বরে নয়। আরও একটি সতর্কীকরণ করবো, যদি সম্ভব হয় মাইক্রোফোনে কভার লাগিয়ে আবৃত্তি উপস্থাপনা করলে আপনার সামান্যতম শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজকেও এড়িয়ে যাওয়া যাবে।

আপনাদের মনে হতে পারে কথাগুলো নিতান্তই সাধারণ। তবু বলি, আমি নিজে আবৃত্তি করতে গিয়ে বার বার শিখেছি ও শিখছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার এই বক্তব্য রাখলাম। এই আসরে অনেকেই আবৃত্তি করেন আবার অনেকে আবৃত্তি না করলেও আবৃত্তি বোঝেন এমন গুণি ব‍্যক্তিও আছেন - তাদের কাছে আমার শিক্ষানবিশের পাঠ হোক শুরু।

সকলের প্রতি রইল প্রীতি ও শুভেচ্ছা।