সর্বকবি মহোদয়,


বিগত দিনের “উৎসবে মাতি”র ন্যায় এবারেও আগত ১৪২৪ সনকে বরণ করে নিতে আমরা ধরবো আমাদের কলম, মেতে উঠবো উৎসবে। রাঙিয়ে দেব নানা রঙে, নানা গন্ধে, নানা রসে, নানা বৈচিত্রে E-পত্রিকার পাতাগুলি। যে বিষয় নিয়ে আমরা লিখবো, সেটি নীচে দেওয়া হল। তবে তার আগে একটি বিশেষ জরুরী কথা সেরে নেওয়া দরকার। জরুরী কথাটি হল - পূর্বে আমার সম্পাদনায় এবং আসরের কবিগণের সহায়তায় "উৎসবে মাতি" ১৪২৩ শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল, যে E-পত্রিকাটি এডমিন মহোদয় নব-প্রতিভার প্রেরণা হিসাবে মূল পাতায় সংযুক্ত ও সংরক্ষণ করেছেন। তাতে  সামান্য হলেও ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে গেছে। এবারে সেই ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করে পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশের জন্য একটি কার্যকারী সম্পাদকীয়মণ্ডলী ও উপদেষ্টামণ্ডলীর  প্রস্তাপ রাখছি অর্থাৎ সম্পাদকের ভূমিকায় সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় নয় বরং সম্পাদকীয়মণ্ডলীর  কার্যকারীতায় প্রকাশিত হবে "বর্ষবরণ" সংখ্যা ১৪২৪. অর্থাৎ জমা পড়া লেখাগুলির উপর আলোকপাত, Proof Reading, অলংঙ্করণ, মান অনুযায়ী লেখা সাজানো ইত্যাদি বিষয়ে একটি  কার্যকারী সম্পাদকীয়মণ্ডলী দ্বারা পরিচালিত হবার পর প্রকাশ পাবে “বর্ষবরণ”। লেখা গ্রহণ করা হবে ১0ই ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০১৭ পর্যন্ত । নতুন লেখা দিন। আসরে পূর্ব প্রকাশিত ছড়া বা কবিতার লিঙ্ক দিতে পারেন, তবে দেখবেন অবশ্যই লেখাটি যেন বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। “বর্ষবরণ” সংখ্যায় যে যে বিষয় রাখতে চাইলাম – ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ, ছোট গল্প, কবি শ্রদ্ধার্ঘ্য, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, টুকরো খবর ও আগামী দিনের কাব্য ভাবনা ইত্যাদি। একজন কবি দু’টি বিষয়ে যোগদান করতে পারবেন, অর্থাৎ ছড়া বা কবিতার মধ্যে যেকোন ১টি এবং প্রবন্ধ ও ছোটগল্পের মধ্যে যেকোন ১টি। তবে প্রবন্ধ বা ছোট গল্প যে পাঠাতেই হবে তা বাধ্যতামূলক নয়। কবিতা বা ছড়ার ক্ষেত্রে আসরে প্রকাশ করে শুধু মাত্র লিঙ্কটি এই বিজ্ঞপ্তিতে দেবেন এবং তার সাথে দেবেন ই-মেলের ঠিকানাও। প্রবন্ধ ও ছোট গল্পের ক্ষেত্রে (৪০০ শব্দের মধ্যে রাখতে চেষ্টা করুন, তবে অধিক শব্দে আপত্তি নেই) [email protected] এই ই-মেলে পাঠাবেন, তবে কেবল মাত্র “অভ্র” ফন্টে টাইপ করে MS-Word ফাইল attachment করেই পাঠাবেন। সম্পাদকীয়মণ্ডলীর দ্বারা সম্পাদনার পর পত্রিকা  প্রকাশিত হবে ১৪ই এপ্রিল ২০১৭ তারিখে (বৈশাখের প্রারম্ভে) – এই আসরে। পত্রিকাটির দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আসরের কবিগণের।


আমার প্রস্তাবিত উপদেষ্টামণ্ডলীঃ- সর্বকবি খলিলুর রহমান, লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী, আশফাকুর রহমান পল্লব, খান লোকনাথী (হিরণ্ময় কবি),  আনিছুর রহমান, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, গৌরাঙ্গ সুন্দর পাত্র, দিব্যেন্দু সরকার, স্বপন গায়েন (উদয়ন কবি), স্বপন কুমার দাস, পরিতোষ ভৌমিক (অমায়িক কবি), দীপঙ্কর বেরা, মিমি, সমরেশ  সুবোধ পড়্যা, অদিতি চক্রবর্তী(অনিন্দিতা), মোনায়েম সাহিত্য, তানজিলা ইয়াসমিন (পূরবী কবি), আহমাদ সা-জিদ(উদাসকবি), সুবীর কাস্মীর পেরেরা (বৈরাগী কবি), আল মামুন, দীপঙ্কর, অজিতেশ নাগ, সাবলীল মনির, শিমুল শুভ্র (উদ্যমী কবি), আরশাদ ইমাম, সোমাদ্রি, রুমা ঢ্যাং, রিঙ্কু রায় (আবৃত্তিকার), স্বপন কুমার মজুমদার, যোগেশ বিশ্বাস, রুনা লায়লা, মল্লিকা রায়, সোমালী নিরঝরা(মৃণালিনী), দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, বিভূতি দাস, গোলাম রহমান, উজ্জ্বল সরদার, সুমিত্র দত্ত রায়, অনির্বান শান্তারা (আনম্ৰ কবি), মুহাম্মদ রুহুল আমীন, জসীম উদ্দীন মুহম্মদ (বোদ্ধা কবি), অনুপম মণ্ডল, তপন দাস, অভিজিৎ মিত্র, শ্রাবনী সিংহ, দেবব্রত সান্যাল, মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, হাফিজুর রহমান চৌধুরী, খায়রুল আহসান, মৃন্ময় কবি এবং আসরের সকল কবিগণ।


আমার প্রস্তাবিত সম্পাদকীয়মণ্ডলী ও কার্যকারীগণঃ- সর্বকবি কবীর হুমায়ূন, অনিরুদ্ধ বুলবুল, হাসান ইমতি, মোঃ সানাউল্লাহ্ (আদৃত কবি), শ্রীতরুণ, প্রবীর চ্যাটার্জী, প্রনব মজুমদার – জমা পড়া লেখাগুলির উপর আলোকপাত করবেন; সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় (পীযূষ কবি), মোজাহারুল ইসলাম চপল(প্রসূন কবি), ফয়েজ উল্লাহ রবি, শ.ম.শহীদ,  অনন্ত গোস্বামী – পত্রিকার সাজসজ্জা ও পরিকল্পনায়; নূরুল ইসলাম, মোঃ ফিরোজ হোসেন,  ড. সুজিত কুমার বিশ্বাস, কল্লোল বেপারী, শ্রী সঞ্জয়, অজিত কুমার কর, অতনু দত্ত, অনুপ মজুমদার, অরূপ গোস্বামী - Proof Reading এবং অলংঙ্করণে; বিভাংশু মাইতি, শাহীন আহমদ রেজা, রক্তিম, পি.কে. বিক্রম, মোঃ হাফিজুর রহমান বিপ্লব, গোবিন্দ দাস – লেখার মান অনুযায়ী পত্রিকায় সাজানোর দ্বায়িত্বে। (বি.দ্র. আপনাদের ই-মেলের ঠিকানা আমাকে দেবেন। লেখা সংগ্রহ করার পর যাতে আমি একসাথে আপনাদের নিকট পাঠাতে পারি)।


যে বিষয় নিয়ে আমরা লিখবঃ-
“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা ।”


কবিগুরুর এই কথাগুলি মনে রেখে আগত ১৪২৪ সনকে বরণ করে নিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এবারের বিষয় রেখেছিলাম  “আদর্শের সহাবস্থানে বর্ষবরণ উৎসব”।  পুরাতন বছরের জরা, ক্লান্তি, গ্লানিকে পেছনে ফেলে চির নতুনের ডাক দিয়ে এগিয়ে আসছে আরো একটি  নতুন বছর – ১৪২৪ সন। নতুন বছর কে বরণ করতে আমাদের এই উৎসব। উৎসব কথার অর্থই হল মিলন ক্ষেত্র। আর সেজন্য চাই সকল ধর্মের সহাবস্থান। ধর্মের ভিত্তিতেই আমাদের সভ্যতা গড়ে উঠেছে। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে আমরা দেখতে পাবো প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতা গুলোও ছিল ধর্মের ভিত্তিতে গড়া। বরং ধর্ম শব্দটিকে  ব্যবহার না করে বলা যেতে পারে আদর্শ। প্রত্যেকটা সমাজ, প্রত্যেকটা সভ্যতাই এই আদর্শকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, যে ধর্মই সমাজের যাবতীয় সামাজিকতার স্রষ্টা। সব কথার শেষ কথা এই যে ধর্ম ছাড়া যে কোন সভ্যতা অচল। আর বর্তমান বিশ্বে সব থেকে বড় কথা প্রত্যেকটি ধর্মের সহাবস্থান ছাড়া একটি রাষ্ট্র অচল। আর ধর্মের সহাবস্থান মানেই ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ডিস্ক্রিমিনেট না করা। সব ধর্মের লোকেদের একসাথে থাকা, এক সামাজিক পরিচয়ে বড় হওয়া। সেখানে জাতিসত্ত্বাই মুখ্য, ধর্মীয় পরিচয় গৌণ।


বাংলা শুভ নববর্ষ পয়লা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভ নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নেয়। সেই হিসেবে এটি বাঙালিদের কাছে একটি সর্বজনীন উৎসব। বিশ্বের সকল প্রান্তের সকল বাঙালি এই দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি, হিংসা-বিদ্বেষ, মান-অভিমান। সবার কামনা থাকে যেন নতুন বছরটি সমৃদ্ধ ও সুখময় হয় - আগত ১৪২৪ সনের ১লা বৈশাখ নিয়ে আসুক আনন্দধারা। এই উপলক্ষ্যে আমরাও মেতে উঠবো উৎসবে, ধরবো আমাদের কলম। সেকারণেই  এবারের কাব্য রচনার বিষয় হোক  “আদর্শের সহাবস্থানে বর্ষবরণ উৎসব”। যেহেতু আমরা সময়ের সাথে পথ চলি, তাই সময়ের কথা লিখে যাব। তাই আর দেরী না করে আজই কলম ধরুন।


ধন্যবাদান্তে –
সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায়