গদ্য কবিতার আলাদা একটা ছন্দ থাকে, যা খালি চোখে আনমনে দেখা যায় না আর শোনাও যায় না । গদ্য কবিতা গভীর অনুভবের রচনা, এতে মিশে যেতে পারলেই হৃদয় শিহরিত হয় , তা বোঝা যায় বা মনে আনন্দ দেয় , তা ছাড়া বই পড়ার মতন গড়গড় করে গদ্য কবিতা পড়ে কিছুই অনুভব করা যায় না ।


গদ্য কবিতা শান্ত নীবির নিঝুম রাতের মতো ।
নীরবতা পালনের ছলে ধিরে ধিরে পড়লে তবেই এর মহাত্ম বোঝা যায় ।


যদিও একালের নতুন ছোট ছোট লেখক লেখিকা দুচার লাইন ছন্দ মিল রেখে মনের কথা লিখে ভাবে কবিতা । তবু একালের শ্রেষ্ঠ কবিতা কেবল গদ্য কবিতা । ছন্দের কাল পেড়িয়ে গেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময় থেকেই । এজন্য গদ্য কবিতা কে আধুনিক কবিতা বলা হয় ।


যতটা সহজ ভাবা হয় গদ্য কবিতা কে, এক বিন্দু ততটা সহজ নয়, শুধু লাইন গুলোই গল্পের মতো এলোমেলো থাকে, এলো মেলো চিন্তাও থাকে বটে কিন্তু তা অদৃশ্য অনুভবের শিকলে বাঁধা ।


গল্প লিখলেও গদ্য কবিতা রচনা করা হয় না, এর ভিতর অন্যরকম আর্ট আছে । এসব সকলে ধরতে পারে না । যারা ধরতে পারে তারা নিশ্চিত সাহিত্য প্রেমিক ।


আপাতত দৃষ্টিতে গদ্য কবিতা কিছু ছন্নছাড়া লাইন, কিন্তু মন সেই লাইনে এনে দেখলে অন্য পরিচয় পাওয়া যায় নিজের, গদ্য রচনা থেকে ।


যেমন ধরা যায় - "আমার এ শরীর রাতের আঁধারে, দুঃস্বপ্নের মতন তোমাকে ছুঁয়ে দিয়েছে বহুবার
রজনীগন্ধা সুবাসে অশরীরী সহবাসে তবু এ মন
তোমার মনটি পারেনি ছুঁতে ---- আজও তাই
তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখ খোঁজে রাত্রি সরিয়ে, তোমার হৃদয় দুয়ার ।"


এই কথা গুলি মন দিয়ে পড়লেই কেবল অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে পাই তা সরল রুপে লিখলে অনেকটা গল্পের মত লাগবে, কিন্তু বাক্য গুলি এভাবেই লিখলে তবে তা কাব্য রুপ পাই এবং একটি অনুভূতি মূলক স্বাদ পাওয়া যায় । আর যদি এই কথা গুলিই গল্পের মতন হুড়মুড় করে পড়ি খামখেয়ালিপনায় তবে তা গল্পও বোধহয় লাগে না, এলো মেলো ফাল্তু কথায় লাগে ।


কাজেই এটুক স্পষ্ট যে গদ্য কবিতার ভাব,ছন্দ,মাত্রা,পঙক্তি আর বিন্যাস অক্ষরবৃত্ত কিংবা সনেট জাতিয় কিংবা পয়ার জাতিয় কবিতার মতন নয়, এর সমস্ত ব্যাপার টাই অন্যরকম ।
পাঠকের চিন্তা শক্তি, পঠন ধরন ও সাহিত্যের প্রতি আনুগত্য থাকার উপর নির্ভরশীল ।


- মোহন দাস (বিষাক্ত কবি)


26.02.2020