ছেঁটে দেখো একটি পাখির ডানা
নয়তো মানব শরীরের আধখানা।
ভুক্তভোগীর অশেষ দুর্দশা-যন্ত্রণা
সর্বসাধারণকে কি পীড়া দেবেনা?
স্বদেশ ভাগের নিষ্করুণ ফলশ্রুতি
সৃষ্টি হয়েছে অনভিপ্রেত পরিস্থিতি।
পায়ের তলা থেকে খসেছে মাটি
নির্ভর যষ্টি তাদের একান্ত সাথী।
ভারত ভাগের ফল ভুগছে এখন
নিজভূমে পরবাসী হয়েছে জনগণ।
শত-সহস্র জনগণ হলো বাস্তু-চ্যুত
তাদের হৃদয় আজও ক্ষত-বিক্ষত।
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথ পানে
পা বাড়ালেন সবে সন্দিহান মনে।
কচি-কাঁচাদের নিয়ে কোলে-পিঠে
বাস্তু-চ্যুতরা ঠাঁই নিলো ফুটপাথে।
তাদের নেই কোন স্থায়ী ঠিকানা
ভাসমান ছিল দু’মুঠো খানাপিনা।
স্বাধীনতার ষাটটি বছর কেটেছে    
দু’টি প্রজন্ম-কাল পেড়িয়ে গেছে।    
মরিয়া হয়েই অর্থ সঞ্চয় করেছে
স্থায়ী ঠিকানার পিছু পিছু ছুটেছে।
কারো জুটেছে,বাকিরা বিড়ম্বনায়
হতভাগাদের নেই স্থায়ী ঠিকানা।  
সেসব অখণ্ড ভারতের অধিবাসী      
চিহ্নিত হচ্ছে এই দেশের পরবাসী।
সরকারের প্রামাণ্য নথির অভাবে
‘অনুপ্রবেশকারী’ হয়ে থেকে যাবে।  
বিড়ম্বনায় সাক্ষ্য দেবে কাঠগড়ায়
বিচারক আইন মেনে দেবে রায়।
বরাক উপত্যকায় অরন্ধন পালন
না-নাগরিকের উদ্বেগের প্রতিফলন।    
জাতীয় নাগরিক পঞ্জিটা দেখবার
দ্বিধা-বিভক্ত হয়েছে বহু পরিবার।
অচিরে স্বজন-হারা হবে ছারখার  
কোথায় যাবে আধখানা পরিবার?
একসঙ্গে থাকতে না-পারার যন্ত্রণা
জোগাতে পারে দেশ-ভাগের মন্ত্রণা।
‘অশনি সংকেত’,বহিছে রণি রণি  
সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে পরমাদ গুনি।