কারখানা
এক নবদম্পতি নীরবে নিভৃতে একদিন
দু’লক্ষ টাকায় কিনলো দু’কাঠা জমিন।
অতঃপর করলো ভিত-পূজা,মাটি-খনন,
ইমারত গড়া হলে দেব-দেবীর বোধন।
পূজা-পার্বণাদির শেষে শান্তি-জল পরশে  
তাদের একে অপরের হাত ধরে সরসে
মা-বাবার জন্য লিখে দিলো সতর্কীকরণ-    
এটি কর্মশালা,প্রবেশ করবে না অকারণ।  
ফলকে লিখলো,‘পিতৃব্যদের ঢুকতে মানা
তোমাদের দেখভালের যাতনা সহিব না’।
কর্মশালায় ছিলনা কল ও মালবাহী যান
ছিল শুধু গৃহ-স্থলী ও এক শিশু-সন্তান।      
গৃহ-স্থলী বাসনের নিত্য সংঘাত,অনর্থক  
হাসি-কান্নায় ছিল কাঁচামাল-নবজাতক।
তিলে-তিলে শিশু গায়ে-গতরে বাড়লো
সাথে-সাথে ফলকের পাঠ শিখে নিলো।  
কর্মশালায় উৎপাদনের কাজটি মিটলো
উৎপাদিত-সামগ্রী উদ্দীপ্ত-যুবক হাসল।
সে যৌবনে দেখলো তার জনক-জননী
বার্ধক্যে জবু-থবু,গাহে মৃত্যুর আবাহনী।
সে,তাদের গৃহে রেখে বেরলো আনমনে
জীবন-সাথীকে জুড়লো বিবাহ-বন্ধনে।
সেই এক স্বপ্ন-রাশি দেখলো নব-দম্পতি
যা দেখেছে আগেই অধুনা বৃদ্ধ-দম্পতি।
মৃত্যু-পথযাত্রীরা ভাবতো জীবন সায়াহ্নে
‘সন্তান পাশে রবে’-সে’প্রত্যাশা গিলোটিনে।
সন্তান-প্রতিপালন করে সংসার-কারখানা
প্রত্যাশার জন্য ত্যাগ এক সাধ্য-সাধনা।