প্রিয়তমা,
খোলসের ভেতর শামুকের বেঁচে থাকার
মতো লক-ডাউনের দিন-গুলোয় রয়েছি
ঘরের ভেতর,বন্দি দশায়।বাইরেও যেতে
মানা,তাই ঘরের উন্মুক্ত জানালা দিয়েই
শামুকের মতো মুখটি বের করে দেখছি
জগতকে।এখন প্রাণচঞ্চল মনে হচ্ছে না
মানুষদের দেখে।
হতবাক হই যখন দেখি,সমগ্র বিশ্বের
নরনারী দের এই অদ্ভুত অবস্থায় পৌঁছে
দিয়েছে আগ্রাসী করোনা ভাইরাস,এখন
সব মানুষের ত্রাস।
তোমায় কিভাবে বোঝাবো এই অবস্থায়
আমি এখন খুব উদ্ভ্রান্ত আমাদের সন্তান
খোকনের কথা ভেবে।পাখিরা খাবারের
খোঁজে বেরোলেও যেমন বাসাটা নজরে
রাখে,আমার সেই অবস্থা।এখানে আসার
আগেও দেখেছি তাকে,খুব চঞ্চল,স্বভাবে।
আজ খুবই মনে পড়ছে তাকে।
প্রিয়তমা,তোমার কী মনে পড়ছে এখন
ছোট্ট একটি টুকটুকে লাল বলের কথা,
যাকে দেখতে পেলে সাথে সাথে খোকন
হামাগুড়ি দিয়ে সেদিকে ছুটতো।দেখেছি
বলের প্রতি তার খুবই আকর্ষণ।বলটা
নাগালে পেলেই তাকে ধরতে তখন সে
ব্যস্ত হয়ে হাত বাড়াতো।
যখন বুঝতো বল টি নেই তার নাগালে,
মনে পড়ে,সেই বল টি তার দিকে এগিয়ে
দেওয়ার জন্য সে কিভাবে কত আবদার
করতো।হাত মুখ নেড়ে আকুতি-মিনতি
করতো বারবার।
প্রিয়তমা,তোমার কী মনে পড়ে গাজন
মেলা থেকে কেনা একটা চাবি-দেওয়া
ডুগডুগি বাজান খেলনা-বানরের কথা।
খোকন তাকে নিয়ে কত আনন্দে সময়
কাটাতো একা।
প্রিয়তমা,আজ তোমাকে একথা বলতে    
বাধ্য হচ্ছি আমি এখানে এভাবে একাকী
দিনরাত ঘরে আবদ্ধ থেকে অতিষ্ঠ হয়ে
উঠেছি।খাদ্যের ভাঁড়ার শূন্য-প্রায়,নেই
কোন রোজগার।জানি না,কতদিন আর
এভাবে ঘরে বসে কাটাতে পারবো এই
বন্দি দশায়।
কত দিন অভুক্ত কিংবা অনাহারে থাকতে
হবে?কী হবে সবার জীবন ও জীবিকার?
তাড়াতাড়ি মুক্তির প্রত্যাশা করতে পারি
না,কেননা এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা
এখনও সম্ভব হচ্ছে না।
প্রিয়তমা,আমার মতোই সমস্ত পরিযায়ী
শ্রমিকরা পড়েছে মহাফাঁপড়ে।বলবো কী,
দমকা হাওয়ার আভাস পেলেই পাখিরা
যেমন তাদের বাসায় ফিরতে ব্যস্ত হয়ে
পরে,পরিযায়ী শ্রমিকদের এখন তেমনি
অবস্থা।
দেশ জুড়ে লক ডাউন হলে পরিযায়ীরা
সবাই যে নিজেদের ঘরে ফিরতে চাইবে,
এই বাস্তব সত্য কারো অজানা থাকার
নয়।লক ডাউন ঘোষণার আগে বাস্তব
এই সত্যকে বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ উপলব্ধি
করেনি।লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক আজ
পড়েছে দুর্দশায়।
প্রিয়তমা,এসব নিয়ে তুমি বেশি ভাববে
না।তোমরা সাবধানে থাকো।পরিস্থিতি
লক্ষ্য রাখছি।আজ এটুকু ই থাকুক।