কেবল তহন ডাঙ্গর ভাব, নেঙটি বান্দি ঘাস কাটবার পাই,
বাজান তহন আনি দিল একখান কালা রঙা গাই;
গতর খানা তেল চকচকে, চক্ষু জোড়া ডাঙ্গর,
দাঁতিছে কেবল, দুইখান দাঁত, বিয়েয় বছর বছর।
জলচকিত বহি কলাম- বাজান,"নিম ন আমি কালা গাই
নিম ন আমি বছর বিয়ান্যে, আনি দৌ আমাক নাল গাই;"
মাতা সুত্যায়ে ক'লো বাজান,"কালার গুণ আছেরে পোলা,
জানবার পা'লে দিকবি শেষে, কালাই পিত্তিম ভালা।"
বাফের গপ্পে ভরিলো না মন, তবে রাগ ধরে নাই,
গাইটারে থুই ঝারির উফরে, যহন যিবে পাই;
হাল দিই, মই দিই, ঘানি টানাই, মারাই কামে দিনভর খাটাই,
রাতভর দোহাই, তবু কালুর গাও গতরে এল্যাডাও ক্লান্তি নাই।

বাড্ডেক ভরা ধানের ঢিবি, চকচকে মোর ঘরের চাল,
আহাল আর নাইকে হেথা ঘর ভর্তি চা'ল, নুন, ডাল;
লক্ষ্মী গাই, তাও কখনো ভালোবাসিতে পাই নাই,
কালা দেকলেই মুনো পরি যায়, "এ তো পোড়া ছাই।"

এক ভরা বাষ্যে'ত নিলাম ক্ষেতে, হাল জুরবার লাগি,
চিলিক মারিল, ফাটিল আকাশ, ডাক পরে মরিলো অভাগি;
দুঃখিত ফিরলাম ঘরে, কেবলই কালু আর ফিরিলো না,
যাওয়ার সময় থুয়ে গেলো দুইডে অবুঝ ছানা।

শূন্য গোয়ালে চেয়ে বুঝি, কি ছিলো সে জীবনের ফাঁকে!
আমি কান্দি, গৈ'ল কান্দে_
বাছুর গুলে হাত ধরে মোর; আম্মা আম্মা ডাকে।