তিস্তা নদীর পাড়ে
-------
কলমে- রমেন মজুমদার,পিএএসপি-০১১
তারিখ-১০/০৬/২৪
---
ধূসর আকাশ, নীলাভ ওপার পাহাড় গায়
হিম হিম বায়ু ভাসে তারই কোল বেয়ে--
আমরা কজন তখন বাঁধের ওপর।

তিস্তা ব্যারেজ দেখে নিলাম চোখের সুখ জুড়িয়ে,
এ'কী!--তলায় দেখি এপার শূন্য জলের ধারা মৃত!
ওপারে জল থৈ থৈ ভারত মাতার গর্ব--
তাই বুঝি এপার কাঁদে ফসল শূন্যতায় কৃষক পরিজন।

শুখা ভূমি তিস্তা পাড়ে হাজার ভুখার কান্না!
লাকড়ি আছে চাল শূন্য হাঁড়ি ফুঁটেছে জলের ঢেউ!
হায়রে জল!-- বেদনার অথৈ নির্দয় অভাজন!
এপার কান্নার মৃত কবরের মত; দেখার কেউ নেই।

সরকার আছে সরকারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে,
আন্তর্জাতিক আইনের বেড়ি দু'সরকারের পায়।
একজন বলেন আমার ক্ষতি!বাড়তি জল দেয়া সম্ভব না--
আইন কী ভাঙা যায় ?--আইন ঘুমায় আইনের মায়ের কোলে।

আমরা যখন তিস্তা পাড়ে,ইচ্ছা হলো সবার;
পার হয়ে যাব তিনবিঘা করিডোর!
দুপুর তখন গড়িয়ে বিকালের পথে---
ছুটলো গাড়ি শা শা করে খোলা করিডোর পথে--
দু'ফোটা জল ফেলে যাব সেই অবসর নেই।

উৎসুক চোখ দেখছি চেয়ে একখণ্ড জমি লোহার জালে ঘেরা!
চারদিকে আর্মি চৌকি ভারতীয় পতাকা উড়ছে;
একটি লোহার গেট,চার চাকার গাড়ি ঢুকতে পারে--
সময় বাধা নিয়ম করে একটি মাত্র ঘণ্টা খোলা গেট!

তিস্তা ছেড়ে এলাম আমরা বন্দি নিজের ঘরে !
এধার-ওধার দুধার বাংলাদেশ!
মধ্যে ভারত;ব্রিটিশ বুদ্ধি ভাগের কৌশল
কত!
বন্দি যারা নিজের দেশেই চিকিৎসায় ওষুধ নেই--
দেখলাম কত করুণ কান্না বৃদ্ধ বয়স যাদের!
স্বাধীনতায় ফুরিয়ে গেছে যৌবনের দিনগুলি।

তিস্তা পাড়ের কান্না আমায় তাড়িয়ে বেড়ায় প্রতিদিন;
মনে পড়ে বিগত দিনগুলির কথা---
ওপার আকাশ মেঘের ছায়ায় পাহাড় ঘুমায় সকাল-সন্ধ্যা,
এপার কাঁদে ভাত বিহীনে বিজন-ছমির কত!
তিস্তা তুমি একফোঁটা জল দাও!
জুড়াই ক্ষুধা নুনভাতে!ছিন্ন বস্ত্রে জরিনা-মালতির করুণ আর্তনাদ!!

তিস্তা এখন অনেক শান্ত অনেক চোখের জলে ভাসে!
বুকের ভিতর পাকিয়ে ওঠল করুণ দীর্ঘশ্বাস!!
আমরা তখন তিস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলি;-
আইনের বেড়ি দুই রাজন্যর জলের ভাগাভাগি!
জল গড়িয়ে তিস্তা বুকে কাঁদছে নিরবধি।
-----