হয়তো কোনো এক কালে একটি পত্র পল্লবে
বিছিয়ে থাকা মাঠে আমি রাখাল বালক হয়ে
গরু ছাগলের অন্ন সংস্হানে যাবো, বিস্তৃত
মাঠের সবটুকু জুড়ে চরবে আমার পশু, আর
আমি ঐ ছায়া সুনিবিড় ছোট্ট বাবলা তলায়
বসে ধূসর মাটির গাঁয়ে আঁকবো তোমার ছবি।
প্রত্যহ যে পাগলটা খেলার মাঠে বসে কোনো
এক অচেনা নারীর হাত, পা, মুখ আর চুলের
চিত্র আঁকে, সে পাগলের মধ্যে আমি আমার
অনাগত অবয়ব দেখি। আমি দেখি ,তারই
মতো করে কোনো এক বর্ষাবাদল রাতে নির্জন
অন্ধকারে আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে কাউকে
খুঁজে ফিরি। লোকে তাকে পাগল বলে, বলে
ব্রাত্য বুড়ো- তাতে বুড়োর কীইবা যায় আসে?
সে কিছুই ঢাকতে চায় না;না হাত, না পা, না
তার এককালের প্রিয়তমার প্রিয় বদনখানি।
তোমাকে না পেলে হয়তো আমিও অমন হবো,
পাগল হয়ে রাখালের বেশে বিরহের বীণ বাজাব,
পশুর পাল এড়া দিয়ে দীঘির পাড়ে বসে স্বচ্ছ নীল
পানির বুকে তোমার নিষ্পাপ বদনখানি খুঁজবো,
গেয়ো  ছদ্মবেশে তোমার শহুরে রুপের প্রেমী হবো,
শহুরে বর্ণিল আলখেল্লার বন্দিদশা ছেড়ে গ্রাম্য
পোশাকে মুড়ে নিয়ে তোমার জীবন ঠাকুর হবো।
ঐ দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের মধ্যখানে এক টুকরো বাসার
মতো দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট বাবলা তলার নিচে আমি
তোমার হাজার বছরের পুরনো মুখের ছবি এঁকে
আমার হাজার বছরের বিরহের সাথে বিয়ে দিবো,
কোনো একদিন হয়তো আমি রাখাল হবো তোমার
হাজার বছরের  মুখের ছবির সাথে বিয়ে করতে!