ভাবিনি এভাবে দ্যাখবো কোনদিন
চির চঞ্চলার মুখে আষাঢ়ের বিষন্নতা
নেই আগের সে মায়াবী হাসি
চোখের নিচে পড়েছে কালচে দাগ
কোমল তনুর লাবন্যতার ছিটেফোঁটাও নেই আর
মনে হলো আচমকা ঝড়ে বিধ্বস্ত প্রকৃতির অবয়ব


চোখে চোখ পড়তেই দ্রুত দেয় ছুট আড়াল প্রয়াসে
যেন তিগ্মগ বাহনের গতিময়তাও মানিবে হার
পথ রোধ করে দাঁড়ালাম ঠিক সম্মুখে
বৃষ্টিভেজা নীড় হারা পাখির মতো কাঁপছে শরীর
তবু আতঙ্কিত চেহারায় সারল্যতার কি নির্মল নিবেদন


এক লহমায় পুরোপুরি শান্ত
বৃষ্টি ধোয়া গাছেদের সবুজ পাতার মত শান্ত সজীব
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ভাবছি এত তড়িৎ পরিবর্তন


আধুনিকতাও তাকে গাঁ হতে আড়াল করতে পারেনি
স্থির আঁখির অভিমানী চাওয়ায় দেখেছি গাঁয়ের  ছবি
শুকিয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্রের তীর ভেজানো নিবিড় ঢেউ
দেখেছি ও চোখে রুপালি নদীতে ভাসা পালতোলা নাও


চেয়েছিলাম কিছু বলতে
একদমই দিলেনা সুযোগ হাতের ইশারায় দিলে থামিয়ে
অতঃপর একটা দীর্ঘশ্বাস তারপর বললে
শুনেছি শিমুল তলার টিয়া পাখিরা চলে গ্যাছে সব
কালের সাক্ষী প্রিয় গাছটাও নাকি মৃতপ্রায়  


হঠাৎ গাড়ির হর্ন
দাঁড়াল এসে ঠিক আমারই পাশে
কিছু বুঝে ওঠবার পূর্বেই একটা ধাক্কা
মাথা তুলে দেখি বিশাল ফাঁকি দিয়ে চললো সে


বোকার মতো চেয়ে রইলাম তার চলে যাওয়া পথে
আজো খুঁজি উত্তর কেন এই পালিয়ে বেড়ানো
চাইলেই কী জীবন থেকে পালিয়ে মুক্তি মেলে???