অন্ধকারের অতলান্ত শ্বাসপ্রশ্বাসে
আমি অঙ্কিত করি লালনছন্দের জ্বালামুখর নৃত্য,
যেখানে কর্কশতার উল্লাসে নক্ষত্রেরা
ঝলসে ওঠে নির্বাক শূন্যতার আর্তনাদে।

অবিরাম বেজে ওঠে প্রলয়বাজনার মন্ত্রোচ্চারণ,
জ্বালামুখী হৃদয়ে জ্বলে ওঠা
শত সহস্র বেদনার ধূপশিখা
অন্তঃশূন্যতার বিষাক্ত নীলিমা চিরতরে গ্রাস করে ফেলতে চায় আমাকে।

স্বপ্নমৃত লাশের মিছিল পেরিয়ে
আমি দাঁড়াই অগ্নিঘূর্ণির সমুখে
মুখোমুখি হই সেই অদৃশ্য দেবতার,
যার করাল গ্রাসে সমুদ্রও হয় নিঃশ্বাসরুদ্ধ।

রক্তমাখা আকাশের গর্ভ থেকে
নেমে আসে বজ্রাঘাতের আর্তি
মোর কর্ণকুহরে ঝরে পড়ে এক মহাপ্রলয়ের স্বরলিপি।

“জাগো,” বলে এক কণ্ঠ
অথচ সে কণ্ঠ যেন মৃতপ্রেতের নিঃশ্বাসে পূর্ণ,
অগ্নির ফুলকি ছিঁড়ে আমার মগজে এঁকে দেয়
অলীক স্বরবর্ণের দগ্ধলিপি।

আমি কি মানব? না কি দৈত্য?
আমার শিরার রক্তে বয়ে যায় মহাশূন্যের গর্জন।
হৃৎকম্পন কি জীবনের পরিচায়ক
না কি মৃত্যুর অমোঘ ঘণ্টাধ্বনি?

ছিন্নভিন্ন আত্মার আর্তনাদ নিয়ে
আমি ঢুকি এক শ্মশানঘরের অচিন প্রান্তরে,
যেখানে শূন্যতার বুকে খোদাই করা
হাজারো অদৃশ্য চোখ চেয়ে থাকে আমার দিকে
অস্পষ্ট ফিসফিসানি বলে
“তুমি অমর… অথচ অভিশপ্ত।”

চন্দ্রহীনের রাতে
আমি খুঁজি নিজের ছায়া
অথচ ছায়া আমার গলিত,
দেহহীন প্রেতের মত ঘুরে ফিরে
আমাকে ঘিরে মারণনৃত্য করে।

একেকটি নিশ্বাসে বেজে ওঠে শ্লোক
“হে প্রলয়, হে প্রাচীন তিমির,
তুমি আমাকে গ্রহণ করো,
আমি তো বহুকাল ধরেই এক অগ্নিসন্তান
যার শিরায় লেলিহান শিখার বন্যা।”