স্বাধীনতা বহু বছর অপেক্ষার পর তুমি এলে,
লক্ষ শহীদের রক্তের নদী পেরিয়ে ।
২৩ জুন, পলাশীর আম্রকাননে তোমার শেষ দেখা,
যত মীর জাফর, বেইমান-শয়তান-লোভী;
তোমাকে তুলেদিয়েছিল ইংরেজ জুলুমবাজের হাতে,
তারপর স্বাধীনতা দুই’শ বছর বন্দী ।
লৌহ-শৃ্খংলে আবদ্ধ, চাবুকের কশাঘাত;
নীলকর বণিকের বন্দীশালায় কত কৃষক
অত্যাচারে মরেছে, ডেকেছে-বাঁচাও স্বাধীনতা,
স্বাধীনতা তখন নির্বাক; ইংরেজ-জমিদারের নিষ্পেষণে ।
চারিদিকে লড়াই-সংগ্রাম, কত মায়ের বুক খালিকরে,
অবশেষে পালিয়ে ইংরেজ এদেশ, কৌশলে
তুলে দিয়ে স্বাধীনতা, বর্বর পাকিস্তানীর হাতে
সেখানেও স্বাধীনতা আবার বন্দী ।


এবার স্বাধীনতা উদ্ধারে মাওলানা ভাষানী
আর সহচরের নেতৃত্বে সাহসী উদ্যোগ-আওয়ামী লীগ ।
বায়ান্নর মিছিলে শহীদের তাজা রক্তে
স্বাধীনতা আন্দোলন আরও তুঙ্গে উঠে
মুজিব, সোহরাওয়ার্দী, শামছুল আরও কত
নেতা মিলে স্বাধীনতার নতুন অঙ্গীকার ।
`বঙ্গবন্ধু’তে ভূষিত হয়ে, ৭ই মার্চ শেখ মুজিব
যাদুকরি দোলাদিয়ে ক্ষেপিয়ে তোলে রেসকোর্চ
এবারের সংগ্রাম-স্বাধীনতার সংগ্রাম,
যে ঘোষনায় সকল মানুষ পাগলপারা হয়ে
পাকিস্তানী জিম্মি থেকে স্বাধীনতা উদ্ধারে
নয় মাসের রক্ত বন্যায়, লক্ষ প্রাণ বিসর্জেনে
ফিরিয়ে আনে স্বাধীনতা, পাক্ হায়নার থাবা থেকে ।


২১৪ বছর পর স্বাধীনতা আবার বাংলায়
স্বাধীনতা এখন মুক্ত পায়রা,
ডানা মেলে বাংলার নীল আকাশে ।
স্বাধীনতা, অগ্রহায়ণে নবান্নের ফসল ভরা মাঠ
শীতের সোনালী রোদ, বসন্তের কুহু ধবনি
জৈষ্ঠের আম-কাঠাল, বর্ষায় নবীন মাছের কানাকানি
স্বাধীনতা আশ্বিনের কাশফুল, কখনও  রঙধনুর সাতরঙ ।
স্বাধীনতা রবে কবিতা লেখায়, পত্রিকা পাতায়
বিশাল গণমঞ্চে আবার প্রতিবাদী মিছিলে মিছিলে ।
স্বাধীনতা তুমি ছিলে, থাকবে অনন্তকাল
কোটি মানুষের মুক্তিতে, বিজয় উল্লাসে ।।