প্রশ্নটা কেউ করে নি
না, প্রশ্নটা সত্যিই কেউ করে নি,
কেউ জানতেও চায়নি।
তবুও কথাটি কেমন করে যেন
গুঞ্জনে গুঞ্জনে উঠে আসে ভিড় থেকে-
"শোন নি? এ ছেলে যে মস্ত বড়ো চোর  
রুটি চুরি করে ধরা পড়েছে" ,
ভিড়ের মধ্য থেকে উঠে আসে
শত মুষ্টি প্রহারের বজ্র শব্দ;
আর সেই শব্দ কে ভেদ করে উঠে আসে
অবিরাম আর্ত চিৎকার।
উৎসুক জনতার ঘৃণা
আছড়ে পড়ে ছেলেটির উপর।  
কারও অতি আগ্রহ,
কেউ না দেখার ভান করে পথ হাঁটে,
ছেলেটি কেন এমন কাজ করেছে ?
না, প্রশ্নটা কেউ করে নি।
সে কি গৃহহীন? অনাথ তাহলে?
তার ছোট্ট বোনটি কি তার কছে
রুটির জন্য কাঁদে?
আচ্ছা, ছেলেটির পাঁজরের
হাড় গুলি গোনা যায় কেন?-
না, প্রশ্ন গুলো কেউ করে নি
কেউ জানতেও চায়নি।
তবুও প্রশ্ন না তোলা
মানুষের নিদারুণ আদিম হিংস্রতা
ছেলেটির শরীরে চির চিহ্ন দিয়ে যায়।
  
আবার যবনিকার অপর প্রান্তে-
যাদের অনেক আছে , কোনো অভাব নেই
হয়ত ভাবও নেই
কলমের জোরে নয়ত স্বভাব দোষে চুরি করে
পায় 'নিরাপদ সাজা',
তবুও তার জোটে বীরের সম্মান
আর ফুলের মালা।
কেউ কি তাকে বলে,
"আচ্ছা তোমার অনেক আছে,
একটা মহাসাগর আছে
তবে কেন তুমি চুরি কর?"
না,প্রশ্নটা কেউ করেনা।