ফেসবুক—
একটা আলোর ঘর,
যেখানে প্রতিদিন আমি ঢুকি আলো খুঁজতে
আর ফিরে আসি ছায়ার হাতে পোড়া হয়ে।
তুমি এখন ছবিতে,
তোমার হাসি এখন ডিজিটাল,
তবু তাতে রোদ এসে পড়ে,
তোমার কপালে সূর্যের মতো ঝলকে ওঠে অনাহুত শান্তি,
আর আমার চোখের পাতায় দাউ দাউ জ্বলে ওঠে
একটি অদৃশ্য আত্মদহন।
আমি খুলে ফেলি, আবার বন্ধ করি—
তোমার প্রোফাইল,
যেন জানালার পর্দা সরিয়ে দেখতে চাই
তুমি এখন কাকে ভালোবাসো।
তুমি নতুন কারও সাথে
আলোয় দাঁড়িয়ে আছো,
আর আমি—
এই আলোর ঘরের ভেতরে
একটা কুয়াশাঘেরা করিডোরে দাঁড়িয়ে শুনছি
নিজের নিঃশ্বাস,
যা শুধু রিফ্রেশ হয়,
কখনো রিফ্রেশ হয় না আমার ভেতরের তোমাহীনতা।
এক একটা ছবি মানে
এক একটা আত্মঘাতী স্মৃতি,
তুমি একবার যা পোস্ট করো
আমি তাকে শতবার পড়ি,
তোমার ক্যাপশন আর হাসির ইমোজিতে
আমি খুঁজি আমার ছায়া,
যেখানে আমি নেই।
ফেসবুক এখন
একটা আয়না,
যেখানে আমি নিজেকে দেখি
তোমার অভাবের ছায়ায় গলে যেতে।
তুমি হয়তো আর জানো না
আমার প্রতিদিন কতটা ভারী হয়ে ওঠে
তোমার প্রতিটি অনুপস্থিত ইনবক্সে—
যেখানে একদিন আমরা ছিলাম
একটি বিরামহীন সংলাপ।
এই ঘরে আলো আছে ঠিকই,
অথ্চ আমি অন্ধ।
ঘর খুলে রাখলে হৃদয় ব্যথা করে,
বন্ধ করলে স্মৃতি চেঁচায়।
আমি এখন
আলোর ঘরের বাসিন্দা নই,
আমি শুধু সেই পথিক—
যে জানে, এই ঘর জ্বলে ওঠে
তবু তাপ দেয় না।
জুন ৯, ২০২৫ রাত ১১ টা
মিরপুর, ঢাকা