যৌবনের সেই উচ্চকিত সময়ে
হয়তোবা বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমি ছিলাম ম্লান;
চাঁদ রূপালী যে প্রেমিক হৃদয়টি আলো ছড়িয়ে রাখতো
আমার ভেতরে, তা কেউই হয়তাে বুঝতে পারতো না;
বুঝতে পারেনি, আমার যে দুটো চোখ,
তার দৃষ্টি নিরঞ্জণ,_ একজন কবি'র;
  
ভার্সিটির লেকচার থিয়েটার, থামের আড়ালে
বন্ধুরা তাদের বাহু-কব্জাকৃত নারীদের সাথে
ঘড়ির কাঁটা ছাড়িয়েছে সহ্যের সীমা;
ওদিকে, অবিরাম উপেক্ষার কাঁটা খুঁড়েছে আমার হৃদরক্ত;


অথচ, যদি হতাম নস্ট্রাডামাস,
আমার অভিমানী চোখ দেখতে পেতো,
সামনের ভবনে আসে এক মেয়ে;
নম্রচোখ, নম্রপদ মাটিতে, আড়ম্বরহীন;
করিডোরে ভেসে ওঠে অতীন্দ্রিয় আলো,
ক্লাসে আসে ইংরেজী ভাষার চৌকষ ছাত্রী;


দেখা হবে তার সাথে একুশ বছর পরে;
তখন সে প্রিয়তমেষু এক নারী;
ভালোবাসে সবাইকে, যেমন এই যে আমি!
ক্ষুব্দ ক্লান্তপ্রাণ নিঃশেষিত আমাকেও;


সেদিন যদি জানা থাকতো,
আমি ঠিকই কেড়ে নিতাম ওকে; ওই সুদর্শন যুবকের আগে;
“ও থাকবে না তোমার সাথে যুবক, কথা শোনো মেরিন, যেও না”;
এক লহমায় বদলে যেতো আমার জীবন;


একা শব্দটিকে মুছে দিয়ে প্রেম;
পরাজয় শব্দ মুছে গিয়ে অহংকার;
চোখের অভিমান মুছে ফেলে দিয়ে শুধুই শুদ্ধ মুগ্ধতায়,
চমৎকার একটি মেয়ের ভালোবাসায় গর্বিত নাগরিক;


না! কখনই হতো না;
হয় না এসব রূপকথা কোনোদিন;
ঈশ্বরের অভিশাপ,_ নড়ানো কঠিন !


(সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬)