প্রাচীন এক নগরে আসিলেন এক ত্রিকালজ্ঞ সন্ন্যাসী,
রাজা মহারাজা দীন দরিদ্র পুজিলেন তাঁকে উল্লাসী।
একাহারী ব্রহ্মচারী জানিলেন পুরে দুর্ভিক্ষ বিরাজমান,
দান সবাই দিচ্ছে তাঁকে, তব মানবতা যে ম্রিয়মাণ।
সবাই ভাবে এটা অদৃষ্ট, পূর্বজন্মের কর্মফল,
কেউ মহারাজ কেউ কেন ফকির -- অসাম্য ধরাতল।
করুণাঘন গৈরিক বলেন, সামর্থ্য আছে আমায় তোমায়,
মৈত্রীর বাঁধনে দুর্লঙ্ঘ দুর্দিনও লীন হয়ে যায়।
কহিলেন শ্রেষ্ঠী এক ডাকি, করো সবাই ত্রাণ সংগ্রহ,
দিক দান তব উদার চিত্তে, যার যা আগ্রহ।
ত্রিকালদর্শীর নির্দেশে সোনা রূপা খাদ্য অর্থ
দিচ্ছে সবাই দুর্ভিক্ষে দান যার যেরূপ চিত্ত।
দীন ভিখারিনীর আছে শুধু এক মলিন জীর্ণ শাড়ী,
সম্ভ্রম ঢাকিয়া দ্বারে দ্বারে ঘুরে দিন দেয় সে পাড়ি।
সন্ন্যাসীরে দেখছে সে, অমৃত তাঁর করুণার বাণী,
কি এমন আছে তার, তৃপ্ত হবে সে  দুর্ভিক্ষে দানি?
আছে তার আছে শেষ সম্বল সম্ভ্রম ঢাকার অবগুণ্ঠন,
ঝোপের আড়াল হতে নগ্ন দেহে দানিল তার বসন।


ত্রাণ সামগ্রী পাহাড়সম রাখিল সবাই সন্ন্যাসী সমুখে,
তিনি বল্লেন, নতুন শাড়ী পড়ায়ে আনো ঐ শ্রেষ্ঠাকে।
তোমাদের আছে ভূমি অর্থ রতন অঢেল ভূরি ভূরি,
দিয়েছ সামান্য, দাওনি অকাতরে সব উজার করি।    
এ নারীর নাই কিছুই, আছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ সম্ভ্রম,
মহান চিত্তে দানিতে শেষ অবগুণ্ঠন, ছিলনা বিভ্রম।      
অহংময় অর্থে বলিয়ান, চিত্তহীন দান হয়না মহান,
প্রেমে টইটম্বুর একাগ্র নিমগ্নের অর্পন হলো শ্রেষ্ঠদান।
                  ---------------------