তিনি বড্ড নামাজী
ক্ষ্যামা নেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে,
লম্বা জোব্বায় টাকনোর উপরে ঢাকা যে,
গম্ভীর বদনে গোল টুপি পরে সে
ওয়াক্তের নামাজে মসজিদে ছুটে
সব্বার অগ্রে ভালো লোক সেজে।


ঈমানের ঘাটতি
মজবুতকরণে নেই কোন খাঁটুনি,
সারা জীবন তাবলীগে ঘুরে ঘুরে
হাকিক্কত, তরিকত ছেড়ে
শরিয়তের মূল মর্ম না মেনে
লেবাস, বেশভূষায় পাক্কা আলেম বেশে
ছুটছে হরদম মসজিদে মসজিদে
যুক্তি-তর্কে বাহবা বেশ পড়ে।


কেউ ভালো নেই তাঁর আশ-পাশে
বজ্জাতি, বদ মেজাজে প্রতিবেশী অতিষ্ঠ যে
জুলুম-অত্যাচারে আত্মীয়-স্বজনে জর্জরিত
তবু তিনি ভালো লোক ইতর সমাজে স্বীকৃত
অন্যের জায়গা দখলের চিরায়ত কারুকার্যে
নেই তাঁর জুড়ি যে, তাঁর ঘরে জায়গা অন্যে পায় যে
তবু নেই তাঁর অনুতাপ, ফাঁপড়ের বুলেটে তুড়ি মেরে ছুড়ে তা
মিথ্যার আড়ালে কুট চালে জাল বুনে দেখায় ভণিতা
ভালো লোক ফাঁদে ফেলার বড্ড সখ্যতা
লেবাসের তোড়ে ঢাকা পড়ে স্বার্থপরতা
তবু তিনি নির্বোধ সমাজে মানী লোক
আমির উপাধী নামের পরে হয় যোগ।


তিনি বড্ড নামাজী
কথায় কথায় আওড়ান বুলি-
হাদিস, কোরআন, তাবলীগের;
অভাব থাকে শুধু নিজের আমলের।
ইসলাম প্রচারে ভোরের ঘুম ভেঙ্গে ডেকে এনে-
শোনান তাঁর নসিয়ত, বর-বউয়ের বেড রুমে
অনায়াসে ঢুকে যেতে বাঁধে না কোন বোধ,
তাঁর উল্টো হলে হতে হয় কাফির, মুশরিক, মুনাফিক।


অপবাদ দেওয়াতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার,
হালাল-হারামের নেই মৌলিক জ্ঞান তাঁর;
পরের জায়গা শক্তির দখলে জোর-বলে চাষ করে,
বার মাস খায় ফসল তৃপ্তির ঢেকুরে মহা উল্লাসে;
মালিকে জায়গা মাপালে বানচাল করে সে কৌশলে,
ভালো কাজে ভেজাল লাগানোতে পাক্কা ওস্তাদ সে;
শুভ কাজে প্যাঁচ লাগানোতে তাঁর খ্যাতির সীমা নাই
কিছু বুদ্ধিমান লোকে তাঁকে বেজঝুয়া বলে ডাকে তাই।
তাঁর সাথে থাকে সদা শয়তানের মহাজোট,
তবু তিনি এখানে ইসলামের আদর্শ মুখ।


তিনি বড্ড নামাজী,
নামাজ কবুল হয় কি-না তাঁর জানেন আল্লাজী,
তবু তাঁর অহমবোধে বুঝায় সে নিজেই শুধু জান্নাতি
নামাজ পড়ে সর্ব কাজে তাঁর মতো নাই পরহেজগারি।


রচনাকালঃ ১৮/০৩/১৯ ইং, সোমবার, ফকিরের বাজার। ১৮ঃ০০ ঘটিকা