ওগো কোথা যাও, একটু দাঁড়াও, দুটো কথা কয়ে যাও।
কেমন তোমরা উড়ে চলে যাও, দূর থেকে দূরে,
গ্রাম শহর ছেড়ে পাহাড় নদী বন পার করে,
ডানা নেই তবু উড়তে থাকো সবাই মিলে।
আমায় উড়তে শেখাবে তোমরা, নেবে তোমাদের দলে।
আমি যে কোথাও যেতে পারিনে, আমি যে হাঁটতে পারিনে।
যখন মা ছিলেন, বাইরে নিয়ে যেতেন,
কোথায় যে মা চলে গেলেন, আর এলে না।
ওই যেখানে মাঠের পরে আকাশ গেছে নেমে,
ওই পাহাড়ের পিছনে, যেথায় রামধনু যায় থেমে,
সেখানেতে আছে আমার প্রিয় সখা।
আসবো বলে গেলে চলে ফেলে আমায় একা।
তাকে বলে দিও, বসে আছি তার পথ চেয়ে।
বলেছিল গল্প বলবে, পরীর দেশে যাবে আমায় নিয়ে।
তোমরা জানো, পরীর দেশটা কোথায়,
আমায় তোমরা যাবে গো নিয়ে সেথায়।
সোনার কাঠি ছুঁয়ে আমায় করে দেবে ভালো,
ওগো মেয়েরা আমায় তোমরা সেথায় নিয়ে চলো।
সারাদিন এই জানালা ধারে বসি,
দেখি তোমরা যাচ্ছ হাওয়ায় ভাসি।
সন্ধ্যা হলে পিদিম জ্বেলে ঘরে,
মাসী বলেন শুয়ে পরো এইবারে।
আমায় তোমরা নাও সাথে কোরে,
দুটো কথা না হয় গেলে কয়ে।
থমকে দাঁড়ায় মেঘ বালিকার দল,
হারিয়ে গেছে হাসির সে কলকল,
চলেছি মোরা অজানারেই পথে,
কালো মেঘের দল রয়েছেন সাথে,
হাওয়ায় ভেসে চলছি সকলে,
গল্প করার সময় কোথা মেলে।
গালের পরে বুলিয়ে দিয়ে হাত,
বললে মেয়ে ভালোবাসাটা থাক,
ফেরার পথে গল্প হবে অনেক,
তোমার সাথে থাকব সময় খানেক।
পথের পানে রইল চেয়ে ছেলে,
মেঘ বালিকা গেল হাওয়ায় বেয়ে।
মাসের শেষে ফিরল নূতন বেশে,
থমকে গেল জানালা পাশে এসে।
বিছানাটা আছে আগের মতন,
পিদিম জ্বলে যেমন ছিল তখন,
হাওয়ার দোলায় শূন্য আসন দোলে,
সবই আছে কেবল নেই সে ছেলে।