আমি এক ধর্মভীরু, বিশ্বাসী এক রবের 'পর।
মানুষ মোরা, আদি পিতা আদমের-ই বংশধর।
মানুষ হয়েই জন্ম আমার, মানুষ হয়েই মরবো।
শেষ বিচারের দিনে মোরা মানুষ হয়ে জাগবো।


তবু মনে প্রশ্ন জাগে, কিসের লাগি প্রভু আমার,  
দিয়ে যত স্বাধীনতা, যাচাই করার অধিকার
কেন দিলেন ধরার বুকে ক্ষণস্থায়ী জীবন মোদের?
আবার, কেনই দিলেন সব উপাদান সুখে দুঃখের?


জন্মেছি ধরায় যখন, ছাড়বো ধরা দেহপাতে
মৃত্যু দ্বারে যেতেই হবে রবের পানেই ফিরতে।
ধনী-গরীব, বীর-হীনবল, পারবে না কেউ রুখতে
শেষ বিচারের দিনে আবার, সবার হবেই জাগতে।


বিচার শেষে জানবো সবে, কে যে কোথায় থাকবে
চির সুখে জান্নাতে কেউ, জাহান্নামে কেউ জ্বলবে।


এই যদি হয় তাঁর অভিলাষ, কেন যে এই বিরতি?
ক্ষনের লাগি এলাম কেন, কিসের নিতে প্রস্তুতি?


মানুষ কত গত হলো, আসবে আরো শেষ অব্দি
আদম হাওয়া থেকেই হলো মানব জাতির বৃদ্ধি।


আদম হাওয়া সুখেই ছিলো, জান্নাতের ঐ বাগানে
সেথায় তারা পড়েছিলো ইবলিসের-ই  প্রলোভনে।


আল্লাহ তাদের দিয়েছিলেন জ্ঞানের সকল দীক্ষা
ইবলিসের প্রভাব থেকে-ও করতে তাদের রক্ষা।
স্বাধীনতা  ছিলো তাদের, ছিলো রবের হুশিয়ারি
পরিণতি কি যে হবে, হলে শয়তানের কুচারী।
তবু তারা  ধী হারালো ইবলিসের-ই প্রলোভনে।  
তারা বটে গিয়েছিলো নিষিদ্ধ সেই গাছ পানে।
ভেবেছিলো অমরত্ব পাবে তারা সেই আশে।
ছিল না যে প্রহরী কেউ, সেই গাছের-ই চারপাশে।


যাহাই তারা খেয়েছিলো নিষিদ্ধ সেই গাছ থেকে,
খোয়ালো যা রেখেছিলো, নগ্নতা সব তার ঢেকে।


নিষিদ্ধ সেই গাছ তবে, কেনই ছিলো জান্নাতে?
থাকবে যদি, তাদের তরে ছিলো কেন মানা তাতে?


অতঃপর রবের ডাকে সম্বিৎ তাদের ফিরলো
স্বাধীনতা ছিলো তাদের, সেটাও তারা বুঝলো।
অনুতাপী আদম হাওয়া চাইলো রবের মার্জনা
ধরার বুকে যাও নেমে - ছিলো রবের ঘোষণা।


এই ঘোষণা ছিলো না যে সেই ভুলের-ই শাস্তি  
বটে, এরই সাথে পূর্ণ হলো ধরায় নামার প্রস্তুতি।


রবের ছিল বাসনা যে মানুষ হবে তাঁর খলিফা
ধরার বুকে করবে যারা তাঁর দ্বীনের-ই প্রতিষ্ঠা।


তাইতো তাদের দিয়েছিলেন বিশেষ কিছু বৃত্তি
স্বাধীনতা, ভালোবাসা, আর ও বিবেক-বুদ্ধি।


ধরায় এসে আদম-হওয়ার কষ্টে কাটে দিন গুলি
রবের পানে দিয়েছিলো জীবন তাদের অঞ্জলি।


সুখে দুঃখে সকল ক্ষনে করতো শুধু প্রার্থনা
চেয়েছিলো রবের কৃপা, ভালোবাসা, মার্জনা।


ধরার বুকে সেই তো শুরু মানব জাতির যাত্রা
থেকে থেকে এসেছিলো রবের থেকে বার্তা।


স্বাধীনতার অনুবলেই
পেলো মানুষ যাচাই করার নিয়ন্ত্রণ
চাহে পরকালের শান্তি নাকি,
থাকবে তারা ধরার মোহে অচেতন?


বিবেক আর বুদ্ধি নিয়ে,
কেউবা করে মানের বড়াই  
সেতো শুধু ভালো-মন্দ,
সত্য-মিথ্যা করতে বাছাই।


ভালোবাসার প্রতিদানে,
রবের কৃপায় কেউবা হবে ধন্য
সুখে দুঃখে কষ্ট ক্লেশে,
রবের হুকুম সদা করে মান্য।


তবেই কিনা সফলতা আসবে বটে ক্ষনিকের এই জীবনে  
জান্নাতেই রবের দেখা পাবে তারা অনন্ত এক দর্শনে।


ভেবো দেখো, এরই মাঝে খুঁজে পাবে, এই জীবনের নিশানা
অন্তহীন ভালোবাসায় থাকবে ডুবে, থাকবে না তার সীমানা।

সৃষ্টি যদি হতো মোদের, বাধ্য মোরা করতে হুকুম মান্য
এমন কত সৃষ্টি আর, ফিরিস্তারা ও আছে তারই জন্য।
আজ্ঞাবহ সৃষ্টি সব পারবে না যে বাসতে ভালো অন্তহীন
দেয়া-নেয়ার হিসেব তাদের নয় যে মোটেই সীমাহীন।


স্বাধীনতা থেকেও যে জন রবের হুকুম মানবে  
তাদের তরেই অন্তহীন প্রেমের দুয়ার খুলবে।
অন্তহীন প্রেমের পিয়াস থাকবে যাদের মননে
অনুতাপী হৃদয় নিয়ে ছুটবে তারা তাঁর পানে।
সুখে দুঃখে কষ্ট ক্লেশে, থাকবে যাদের তৃপ্তি
অন্তহীন রবের প্রেমে মিলবে তাদের প্রাপ্তি।


কি অভিলাষ ছিলো রবের দিয়ে মোদের এই জীবন?
বুঝবে তারা থাকবে যাদের অন্তহীন এক প্রেমের মন।


২০২১ ০৮ ০১