ভরা পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণা কেউ বোঝেনা
     ✍-উজ্জ্বল সরদার আর্য


দিনভর ছুটে চলা শেষে রাতের প্রারম্ভে
ক্লান্তির আগমনে তুমি ঘুমিয়ে গেলে।
ভোরের আলোয় আঁখি মেলে, চায়ের কাপে চুমু দিয়ে,
খবরের কাগজ হাতে নিয়ে পড়লে কতকিছু,
কিন্তু  আমাদের জীবনের গল্প তুমি পড়েছ কি?
রাজনীতি, অর্থনীতি, খুন, গুম, লুট,
অপহরণের কথা কত লেখা হয়-
শুধু অপ্রকাশিত থেকে গেলো
পথচারীদের জীবনের গল্প- কবিতা।


জানি,ওই নিঝুম রজনীর ক্লান্তিহীন শহরের
অলিগলি রাজপথে পড়ে থাকা অসহায়
ক্ষুধার্ত-পীড়িত মানুষের গল্প কেউ শুনতে চায় না।
তবু আশায় বুক বেঁধে থাকি
জানালা খুলে কেউ একদিন দেবে উঁকি,
দেখবে আমাদের!
রোগা-জীর্ণ-ক্ষীণ শরীর দেখে ভয় পেওনা,
আমরা তোমাদের পথ অবরুদ্ধ করবো না।
শুধু বলে যেতে চাই স্বার্থের দুনিয়ায়
মানবতাহীন মনুষ্য সমাজে দুটি কথা,
তোমরা শুনবে কি?


দলাদলি-দখলদারি, রাজনীতি, জাতপাত ভেদাভেদ
আমরা বুঝি না,
দুবেলা দুটো খাবার জন্য যত করি সংগ্রাম।
নিখরচায় ঘর বাঁধি দিনের শেষে এখানে ওখানে,
বৃক্ষের ছায়া তলে ফেলানো নুড়ি পাথর দিয়ে।
সেখানে শুয়ে আকাশ দেখি, নক্ষত্রের আলো গায়ে মাখি,
কখনো বৃষ্টিতে ভিজি, কখনো শীতের আলিঙ্গনে
কেঁপে ওঠে প্রাণ, তোমরা শুনছ কি?


অবহেলা-অনাদরে ঝরে পড়ে অকালে কত ফুল,
সুগন্ধহারা-ঠিকানাহারা ক্ষুধার্ত বুকে তোমরা রেখেছ পদচিহ্ন।
দান দিতে যদি না পারো লাথি মেরো না,
ভরা পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণা তোমরা কোনদিন বুঝবে না।
তোমরা ভালো আছো আরো ভালো থাকো,
পথের ধূলায় এ-দেহ মলিন হলো পৃথিবী হলো অন্ধকার!
তোমরা ঘুমিয়ে গেলে আমরা পাহারাদার ---।


✍-উজ্জ্বল সরদার আর্য
রচনাকাল ৬ এপ্রিল ২০২১ সাল,
বাংলা ২৩ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার।
দাকোপ খুলনা, বাংলাদেশ।